ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০

প্রতিরোধই গ্লোকোমার চিকিৎসা

ডা. সৈয়দ একে আজাদ

প্রকাশিত: ২২:০৮, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

প্রতিরোধই গ্লোকোমার  চিকিৎসা

.

গ্লোকোমাজনিত অন্ধত্বের কোন প্রতিকার নেইসচেতনাসহ প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।   গ্লোকোমা চোখের একটি জটিল রোগএ রোগে চোখের স্নায়ু ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে চোখের দৃষ্টি কমে যায়এমনকি রোগী অন্ধত্ববরণেও বাধ্য হয়তবে সময়মতো চিকিসা করলে অন্ধত্ব থেকে মুক্তি মেলেবেশিরভাগ ক্ষেত্রে চোখের অভ্যন্তরীণ উচ্চচাপ এ জন্য দায়ী

রোগের কারণ : সুনির্দিষ্ট কোন কারণ নেইতবে চোখের উচ্চচাপ এ রোগের প্রধান কারণ বলে ধরে নেয়া হয়স্বাভাবিক চাপেও এ রোগ হতে পারেসাধারণত চোখের উচ্চচাপ ক্রমে চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দৃষ্টি ব্যাহত করেতবে কিছু কিছু রোগের সঙ্গে এ রোগের গভীর সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায় এবং অন্যান্য কারণেও এ রোগ হতে পারেযেমন- পরিবারের অন্য কোন নিকটাত্মীয়ের এ রোগ থাকাবেশি বয়সডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপমাইগ্রেনরাতে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবনদীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড সেবনচোখের ছানি অপারেশন না করলে বা দেরি করলেচোখের অন্যান্য রোগের কারণেজন্মগত চোখের ত্রুটিএগুলোর মধ্যে শুধু চোখের উচ্চচাপ ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব

লক্ষণগুলো : অনেক ক্ষেত্রেই রোগী এ রোগের কোন লক্ষণ টের পান নাচশমা পরিবর্তনের সময় কিংবা নিয়মিত চোখ পরীক্ষাকালে হঠা করে চিকিসক এ রোগ নির্ণয় করে থাকেনতবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে তা হলো- ঘন ঘন চশমার গ্লাস পরিবর্তন হওয়াচোখে ঝাপসা দেখা বা আলোর চারপাশে রঙধনুর মতো দেখাঘন ঘন মাথাব্যথা বা চোখব্যথা হওয়াদৃষ্টিশক্তি ক্রমে কমে আসা বা দৃষ্টির পারিপার্শ্বিক ব্যাপ্তি কমে আসাঅনেক সময় চলতে গিয়ে দরজার পাশে বা অন্য কোন পথচারীর গায়ে ধাক্কা লাগামৃদু আলোয় কাজ করলে চোখে ব্যথা অনুভূত হওয়াছোট ছোট শিশু বা জন্মের পর চোখের কর্ণিয়া ক্রমাগত বড় হয়ে যাওয়া বা চোখের কর্ণিয়া সাদা হয়ে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি

গ্লোকোমা রোগের চিকিসা : গ্লুকোমা রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব; কিন্তু নিরাময় সম্ভব নয়ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো এ রোগের চিকিসা সারা জীবন করে যেতে হবেএ রোগে দৃষ্টি যতটুকু হ্রাস পেয়েছে, তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়তবে দৃষ্টি যাতে আর কমে না যায়; তার জন্য আমাদের চিকিসা চালিয়ে যেতে হবেএ রোগে প্রচলিত তিন ধরনের চিকিসা রয়েছে তা হলো- ওষুধের দ্বারা চিকিসা, লেজার চিকিসা এবং শল্যচিকিসা

রোগীর করণীয় কি : চিকিসক রোগীর চোখ পরীক্ষা করে চোখের চাপের মাত্রা নির্ণয় করে নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করে দেন, তা নিয়মিত ব্যবহার করাদীর্ঘদিন একটি ওষুধ ব্যবহারে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারেতাই নিয়মিত চিকিসকের শরণাপন্ন হওয়াসময়মতো চোখের বিভিন্ন পরীক্ষা করে দেখা, তার গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনাপরিবারের সবার চোখ পরীক্ষা করে গ্লুকোমা আছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়াসর্বোপরি মনে রাখতে হবে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী চিকিসাঠিকমতো ওষুধ ব্যবহার করে এবং চিকিসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে একজন গ্লোকোমা রোগী তার স্বাভাবিক দৃষ্টি নিয়ে বাকি জীবনটা সুন্দরভাবে অতিবাহিত করতে পারেনপরিশেষে মনে রাখবেন, গ্লুকোমা অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ; যার কোন প্রতিকার নেইপ্রতিরোধই একমাত্র উপায়তাই চল্লিশোর্ধ বয়সে আপনার চোখ পরীক্ষা করে চোখের চাপ জেনে নিনপ্রয়োজনে চিকিসকের পরামর্শও

লেখক : সাবেক বিভাগীয় প্রধান, চক্ষুরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালচেম্বার : আল-রাজী হাসপাতাল, (৩য়-তলা) ফার্মগেট, ঢাকা০১৫৫২-৪০৯০২৬, ০১৭১০-৭৩৬০০৮

×