ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৪ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১

ফুসফুসের যত রোগ

প্রকাশিত: ১৫:২২, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ফুসফুসের যত রোগ

ডা. এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন।

ফুসফুসের নানা বিষয়ে আমাদের মনে হর-হামেশাই বিভিন্ন প্রশ্ন জাগে। অনেকেই অসচেতনতা বা সঠিক জ্ঞানের অভাবে ফুসফুসের যত্নে তেমন গুরুত্ব দেন না। 

ফুসফুসের রোগকে শ্বাসনালী, ফুসফুসের প্যারেনকাইমাল এবং প্লুরাল রোগে ভাগ করা যায়। শ্বাসনালীর রোগের মধ্যে প্রধানত হাঁপানি, সিওপিডি, শ্বাসনালীর টিউমার সহ অন্যান্য এন্ডোব্রোনকিয়াল সংক্রমণ অন্তর্ভুক্ত। প্যারেনকাইমাল রোগ যেমন- ফুসফুসের ইন্টারস্টিশিয়াল রোগ, ক্যান্সার, সংক্রমণজনক রোগ (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, ভাইরাস, যক্ষ্মা) ইত্যাদি, প্লুরাল রোগ যেমন; ইফিউশন, নিউমোথোরাসেস, হেমোথোরাক্স ইত্যাদি রোগও ফুসফুসের রোগ হিসেবে পরিচিত। 

আরও পড়ুন :ভিসানীতিতে পুলিশে ইমেজ সংকট হবে না: আইজিপি

শ্বাসকষ্ট, কফ-সর্দিসহ কাশি, হাঁচি, বুকে ব্যথা ইত্যাদি ফুসফুস জনিত রোগের প্রধান লক্ষণ। কারো মধ্যে এসব লক্ষণ দেখা গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণই শ্রেয়। তবে অবস্থার উন্নতি না হলে এবং লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে যথাযথ পরীক্ষা ও অবশ্যই পালমোনোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিশেষ কিছু লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে ফুসফুসের রোগ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানা সম্ভব। আর প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জটিলতাও এড়ানো সম্ভব। লক্ষণগুলো হলো- 
শ্বাসকষ্ট - শ্বাসকষ্ট ফুসফুসের রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ। কারণ, অনেক সময় ফুসফুসে টিউমার হলে তা থেকে সৃষ্ট ফ্লুইড বায়ু চলাচলে বাধা দেয়, ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।  

বুক ব্যথা: এক মাস বা ততোধিক সময় ধরে বুকে ব্যথা থাকা ফুসফুসের রোগের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে, কাশি ও শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে ব্যথা থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।  

অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস: বিশেষ কোনো ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি কারো ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায় তা শরীরের ভেতরে বাড়তে থাকা কোনো টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।  

অতবরত কাশি ও কাশির সঙ্গে রক্ত এবং কফ: একটানা ৮ সপ্তাহ বা ততোধিক কাশি ও কাশির সঙ্গে রক্তপাত হলে সেটি ভালো লক্ষণ একদমই নয়। এমতাবস্থায় অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। এ ছাড়া, কারো ঠান্ডা লেগে এক মাস বা ততোধিক সময় ধরে কফ জনিত সমস্যা থাকলে তা ফুসফুসের রোগের লক্ষণ হতে পারে।

দূষণ: ফুসফুস এমন একটি অঙ্গ, যা পরিবেশের দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হয়। শুধু বাইরের দূষণই নয়, ঘরের মধ্যেও দূষণে আক্রান্ত হয় ফুসফুস। ট্রাফিক জ্যাম, গাড়ির ধোঁয়া, বিভিন্ন শস্য, ফসলের রেণু যেমন ফুসফুসের ক্ষতি করে, তেমনই ঘরের মধ্যে জমে থাকা ধুলো, রান্নার স্টোভের গ্যাস থেকেও ক্ষতি হয়। এ ছাড়া, ক্ষতি হয় বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণা থেকে। ধূলিকণা বিভিন্ন আকারের হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় ছোট আকারের ধূলিকণাগুলি ফুসফুসে প্রবেশ করে। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসনালিতে তা জমতে জমতে ফুসফুসের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ফুসফুস মানব শরীরের অন্যতম প্রধান একটি অংশ। এর প্রধান কাজ হলো বাতাস থেকে অক্সিজেনকে রক্তপ্রবাহে নেওয়া এবং রক্তপ্রবাহ হতে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বাতাসে নিষ্কাশন করা। এটিই আমাদের বেঁচে থাকার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই আমাদের উচিৎ ফুসফুসের সঠিক যত্ন নেওয়া এবং ক্ষতিকারক সবকিছু থেকে সাবধানে থাকা। 

লেখক: ডা. এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন
সিনিয়র কনসালটেন্ট, রেসপিরেটরি মেডিসিন
এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা।

এম হাসান

×