ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

লিভার ক্যান্সার শেষ হয়নি আশার

প্রকাশিত: ০৫:৫৮, ৩১ অক্টোবর ২০১৭

লিভার ক্যান্সার শেষ হয়নি আশার

ক্যান্সার মানেই আতঙ্ক, আর তা যদি হয় লিভার ক্যান্সার তাহলে তো কথাই নেই। একথা সত্যি যে শরীরের বেশিরভাগ ক্যান্সারের মতোই লিভার ক্যান্সার নিরাময় এখনও আমাদের সাধ্যের অতীত। তবে পাশাপাশি একথাও সত্যি যে লিভার ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসাগুলো পাওয়া সম্ভব। আর সেই আশার কথা নিয়েই এই লেখার অবতারণা। লিভার ক্যান্সার কেন হয়? সারা পৃথিবীতেই লিভার ক্যান্সার, ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে চার লাখ লোক এ রোগে আক্রান্ত হন। পুরুষদের ক্ষেত্রে মোট ক্যান্সারে ৭.৫ ভাগ লিভার ক্যান্সার, আর মহিলাদের বেলায় এ সংখ্যাটি ৩.২ ভাগ। আশঙ্কাজনক সত্যটি এই যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় লিভার ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব পৃথিবীর অন্য যে কোন অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্বব্যাপী লিভার ক্যান্সারের মূল কারণ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস আর এ্যালকোহল। আমাদের দেশে অবশ্য হেপাটাইটিস বি মূল খলনায়ক, কারণ এদেশে প্রায় ৮০ লাখ লোক এ ভাইরাসের বাহক বা ঐইংঅম পজেটিভ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ লোক জীবনের কোন এক পর্যায়ে এ রোগ আক্রান্ত হতে পারেন। লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ যে কোন বয়সের লোকই এ রোগ আক্রান্ত হতে পারেন। লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি পুরুষদের ক্ষেত্রে মহিলার ৪ থেকে ৬ গুণ বেশি। সাধারণত ক্যান্সার হওয়ার আগে লিভারে সিরোসিস দেখা দেয়, তবে এর ব্যতিক্রম হওয়াটাও অস্বাভাবিক না। লিভার ক্যান্সারের রোগীরা পেটের ডান পাশে ওপরের দিকে অথবা বুকের ঠিক নিচে মাঝ বরাবর ব্যথা অনুভব করেন যার তীব্রতা রোগী ভেদে বিভিন্ন রকম। সহজেই ক্লান্ত হয়ে পরা, পেট ফাপা, ওজন কমে যাওয়ার হালকা জ্বর জ্বর এ রোগের অন্য লক্ষণ। লিভার ক্যান্সার রোগীদের প্রায়ই জন্ডিস থাকে না, আর থাকলেও তা খুবই অল্প। রোগীদের খাওয়ার অরুচি, অতিরিক্ত গ্যাস কিংবা কষা পায়খানার কমপ্লেন থাকতে পারে- আবার কখনও দেখা দেয় ডায়রিয়া। পেটে পানি থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। লিভার ক্যান্সার নির্ণয় লিভার ক্যান্সার নির্ণয়ে সহজ উপায় একটি নির্ভরযোগ্য আল্ট্রাসনোগ্রাম। তবে কখনও কখনও সিটি স্ক্যানেরও দরকার পড়ে। রক্তের অঋচ পরীক্ষাটি লিভার ক্যান্সারের একটি মোটামুটি নির্ভরযোগ্য টিউমার মার্কার। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত যে ব্যক্তিরই উচিত প্রতি ৬ মাসে একবার অঋচ ও আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করা। তবে লিভার ক্যান্সারের ডায়াগনোসিস কনফার্ম করতে হলে আল্ট্রাসনোগ্রাম গাইডেড ঋঘঅঈ অত্যন্ত জরুরী আর অভিজ্ঞ হাতের এর সাফল্যের হারও প্রায় শতভাগ। লিভার ক্যান্সারে নতুন আশা শুরুতেই যেমনটি বলেছি লিভার ক্যান্সারে আশার এখন শেষ নয়, বরং শুরু। শুরুতে ধরা পড়লে আর আকারে ছোট থাকলে অপারেশনের মাধ্যমে এই টিউমার লিভার থেকে কেটে বাদ দেয়া যায়। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় কুসা মেশিনও দক্ষ হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন এদেশেই বর্তমান। পাশাপাশি আছে বিনা অপারেশন টিউমার এ্যাবলেশন বা টিউমারকে পুরিয়ে দেয়া। নামমাত্র খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম গাইডে আমাদের দেশে এখন অহরহই লিভার ক্যান্সারের এ্যালকোহল দিয়ে এ্যাবলেশন আমরা করছি। আছে আরও কিছু আশা। যেমন এসেছে আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর, কিন্তু অনেক কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোমোথেরাপি জেলোডা ও সুরাফিনেব। সুরাফিনেব এখনও আমাদের দেশে না পাওয়া গেলেও, আমরা জেলোডা দিয়ে আমাদের লিভার ক্যান্সারের রোগীদের নিয়মিতই চিকিৎসা করছি আর তাই লিভারের ক্যান্সারে শেষ হয়নি আশা। ডা. মামুন-আল-মাহতাব (স্বপ্নীল) সহযোগী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় লিভার, গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ইন্টারভেনশনাল এডোস্কোপিস্ট ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হসপিটাল
monarchmart
monarchmart