ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সংস্কৃতি প্রতিবেদক

বাংলা থিয়েটারের ‘নীল দর্পণ’ নাটকের মঞ্চায়ন

সংস্কৃতি সংবাদ

প্রকাশিত: ০০:০৫, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২

বাংলা থিয়েটারের ‘নীল দর্পণ’ নাটকের মঞ্চায়ন

শিল্পকলায় মঞ্চস্থ নীল দর্পণ নাটকের দৃশ্য

দেশের নাট্য আন্দোলনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে বাংলা থিয়েটার। মঞ্চনাটকে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষায় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম রেপার্টরি নাট্যদলটি। ইতোমধ্যে এই রেপার্টরি গ্রুপের বেশকিছু নাটক দর্শকসমাদৃত হয়েছে। সেই স্রোতধারায় সম্প্রতি নাট্যদলটি মঞ্চে এনেছে নীল দর্পণ নামের নতুন প্রযোজনা। দীনবন্ধু মিত্র রচিত কালজয়ী নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন মামুনুর রশীদ।

শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাটকটির তৃতীয় প্রদর্শনী হয়। এর আগে দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য মঞ্চায়নের প্রথা প্রবর্তনকারী ভারতের ন্যাশনাল থিয়েটারের ১৫০ বছর পূর্তি এবং বাংলাদেশের নাটকের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কলকাতায় নাটকটির দুটি মঞ্চায়ন হয়।  বাঙালি কৃষক ও তুলনামূলক অভিজাত শ্রেণির ওপর নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনিই এ নাটকের মূল উপজীব্য। সেই সূত্রে উঠে এসেছে উনিশ শতকে বাংলায় নীল চাষের প্রেক্ষাপট। সেই বাস্তবতায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও ব্রিটিশ বেনিয়ারা কৃষকদের বাধ্য করে নীল চাষ করতে।

নীল চাষ করতে রাজি না হওয়ায় কৃষকদের চরম নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়। স্বপ্নপুর নামের গ্রামের বাসিন্দাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হতো বেগুনবাড়ির নীল কুঠিতে। নির্মমতার সে গল্পের সূত্র ধরে নীলকরদের অত্যাচারে ধ্বংস হয়ে যায় কৃষক গোলকচন্দ্র বসুর পরিবার। গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে হয় এই কৃষককে। নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পায় না গোলকচন্দ্র বসুর প্রতিবেশী আরেক কৃষক সাধুচরণ ও রেবতি দম্পতি মেয়ে ক্ষেত্রমণি।

শেষ পর্যন্ত নীলকরদের অত্যাচারে নিভে যায় সন্তানসম্ভবা ক্ষেত্রমণির জীবন প্রদীপ। নীল চাষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জ্বলে ওঠার কারণে প্রাণ হারাতে হয় নীল মাধব ও তোরাপ মিঞাকে। এভাবে একইসঙ্গে প্রতিবাদ ও স্বজন হারানোর মর্মস্পর্শী ঘটনার মধ্যদিয়ে শেষ হয় নির্মমতার সাক্ষ্যবহ ঘটনাপ্রবাহ।
প্রযোজনাটিতে অভিনয় করেছেন ঢাকা থিয়েটার, আরণ্যক, সুবচন নাট্য সংসদ, দেশ নাটক, নাট্যকেন্দ্র, বাতিঘর, প্রাচ্যনাট ও  মেঘদূতসহ ঢাকার বিভিন্ন নাট্যদলের সদস্যরা। সেসব অভিনয়শিল্পীরা হলেন মামুনুর রশীদ, ফয়েজ জহির, শুভাশিস ভৌমিক, আহাম্মেদ গিয়াস, শামীমা শওকত লাভলী, শাহনাজ খুশি, সুষমা সরকার, লায়লা বিলকিস ছবি, সংগীতা চৌধুরী, হাশিম মাসুদ, সাঈদ সুমন, খালিদ হাসান রুমি, সুজাত শিমুল, রিয়া চৌধুরী, তাসমী চৌধুরী, শাহরান, তাজউদ্দীন তাজু, রুহুল আমিন ও উচ্ছ্বাস ঘোষ। আলোক পরিকল্পনা করেছেন ঠান্ডু রায়হান। মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন ফয়েজ জহির। সংগীত পরিকল্পনায় ছিলেন পরিমল মজুমদার।
ক্যানভাসে শত শিল্পীর বিজয় উদ্যাপন ॥ শুক্রবার মহান বিজয় দিবসে উত্তরার শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির স্থায়ী ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়েছিলেন দেশের প্রখ্যাত শতাধিক চিত্রশিল্পী। তাঁরা বর্ণিল আর্ট ক্যাম্প ও শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে উদ্যাপন করেন বিজয়ের ৫১তম বছর। প্রখ্যাত শিল্পী রফিকুন নবী, হাশেম খান, শিশির ভট্টাচার্য ও নিসার হোসেনসহ শতাধিক গুণী শিল্পী এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। উদ্বোধন করেন বিশ^বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুন নাহার। এ সময় শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক শিল্পী মোস্তাফিজুল হক, শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশ^বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ডা. আহসানুল কবির ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মাসুদ আল নূরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, ফ্যাকাল্টি, অভিভাবকবৃন্দ ও ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনায় অংশ নেন অতিথিরা। এরপর ‘শান্ত-মারিয়াম একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’র শিশু-কিশোরদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, কালচারাল ফোরাম ও শান্ত-মারিয়াম একাডেমির শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

×