ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করতে পারেনি: ভাঙা আংটি নিয়ে একজন ছাত্রীর হাহাকার

প্রকাশিত: ১১:৪২, ১৩ মে ২০২৪; আপডেট: ১১:৪৩, ১৩ মে ২০২৪

ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করতে পারেনি: ভাঙা আংটি নিয়ে একজন ছাত্রীর হাহাকার

অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েও এই ছাত্রী টাকা জোগাড় করতে পারেনি

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একটি পোস্ট মানুষের মন ছুয়ে গেছে। মানুষকে আবেগকে আপ্লুত করেছে। নাড়িয়ে দিয়েছে মানুষের বিবেককে। 

পোস্টটি করেছেন রতন কুমার মজুমদার নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী। মূলত ফেসবুকের এই পোস্টটিতে তিনি জানিয়েছেন একজন ছাত্রী ফরম ফিলাপের টাকা জোগাড় করতে না পেরে ফুফুর আংটি নিয়ে এসেছেন। তবে ভালো খবর হচ্ছে ওই ছাত্রীকে আংটি দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়নি। কলেজের পক্ষ থেকেই ওই ছাত্রীকে ফরম পূরণে সহায়তা করা হয়েছে। 

নীচে জনকণ্ঠ অনলাইনের পাঠকদের জন্য রতন কুমার মজুমদার এর ফেসবুকে দেয়া পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলঃ 

এটি একটি ভাঙা আংটি নয়
এটি একজন ছাত্রীর হাহাকার

আজকে ছিল উচ্চ মাধ্যমিকের ফরম পূরণের শেষ তারিখ। আমার একজন শিক্ষক একজন ছাত্রীকে নিয়ে এসে বলে স্যার ও এখনো ফরম ফিলাপ করতে পারেনি কারণ সে ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করতে পারেনি। ছাত্রটির বাবা ভ্যানে করে ফল বিক্রি করে। তার ছোট আরো তিন ভাই বোন আছে। প্রথম বর্ষ এবং দ্বিতীয় বর্ষের বেতনের টাকা বকেয়া থাকার কারণে ফরম পূরণ সহ অনেক টাকা হয়ে গেছে। অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েও  টাকা জোগাড় করতে পারেনি। কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি।

আরও পড়ুন: একাদশে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২৬ মে 

বললাম কলেজের টাকা বাদ দিয়ে ফরম পূরণের  টাকাটা এনেছ কিনা? সে উত্তরে বললো বাবা নিষেধ করে দিয়েছে পড়ালেখার দরকার নেই যে কারণে এক টাকাও আনতে পারিনি। শিক্ষক বলল স্যার ও একটা জিনিস এনেছে।বাসা থেকে আসার সময় ছোটবেলায় তার ফুফুর দেয়া একটি  আংটি লুকিয়ে  নিয়ে এসেছে। আমি খুব বিস্মিত হয়ে তার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। একজন ছাত্রীর এই অবস্থা দেখে একজন শিক্ষকের মনের অবস্থা কি হতে পারে একবার ভেবে দেখুন। আমাদের বিত্তশালীরা নানা রকম সামাজিক অনুষ্ঠান করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে। এই প্রান্তিক মানুষগুলোর কথা কেউ কি মনে রাখে? 

অফিসকে বলে দিলাম বিনা পয়সা তার ফরম পূরণ করে দিতে। আংটিটি তার হাতে দিয়ে বললাম বাসায় নিয়ে যাও। দু চারজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা দেয়ার সামর্থ্য কলেজে রয়েছে। আমি সবসময় বলি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেবা কেন্দ্র, ব্যবসা কেন্দ্র নয়। এমন কত অজস্র শিক্ষার্থী আছে তাদের খবর কেউ রাখি  বা খবর রাখার অবসর আমাদের আছে? আপনারা যে সম্পদের পাহাড়  গড়েছেন তার থেকে এক কনা  এদের জন্য বিলিয়ে দেন এতে আপনার সম্পদ কমে যাবে না।

পোস্টের কমেন্ট বক্সে এই কাজের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। আবু মোহাম্মদ ইউসুফ নামের একজন কমেন্ট করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর মা-বাবা বা অভিভাবকের পেশা ও মাসিক আয় কতো এই তথ্যগুলো থাকা দরকার। আর সেই ভিত্তিতে প্রয়োজনে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাওনাদি পূরণের জন্য সহায়তা ফান্ড থাকা প্রয়োজন।

এছাড়াও আরও অনেকেই পোস্টদাতার প্রশংসা করে তাঁর প্রতি ভালোবাসা জানিয়েছেন। 

এবি 

সম্পর্কিত বিষয়:

×