ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: ঢাবির দুই শিক্ষককে অব্যাহতি

প্রকাশিত: ১৩:১০, ৮ মে ২০২৪

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: ঢাবির দুই শিক্ষককে অব্যাহতি

নাদির জুনাইদসহ দুই শিক্ষককে সাময়িক অব্যাহতি

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাদির জুনাইদসহ দুই শিক্ষককে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এস এম মাকসুদ কামাল সভাপতিত্ব করেন।

আরও পড়ুন : প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা প্রজাতন্ত্রের সেবা দাতা: জবি উপাচার্য

এ ছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বাহাউদ্দীনের পিএইচডি অভিসন্দর্ভে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদ এবং ফলিত গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানি এবং মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি।

বিষয় দুটি অধিকতর তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে পাঠানো হয়েছে। এই দুইটি অভিযোগ অধিকতর তদন্তের জন্য সেলকে দুই মাস সময় বেধে দেয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালীন অধ্যাপক নাদির এবং অধ্যাপক ফেরদৌস কোনো ধরনের অ্যাকাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, শুধু এই সময়ের জন্য তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অধ্যাপক নাদিরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগেরই এক নারী শিক্ষার্থী। আর ড. ফেরদৌসের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের এক ছাত্রী।

চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বাহাউদ্দীনের পিএইচডি অভিসন্দর্ভে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছিরকে।

কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন- মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান এবং তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম জাবেদ আহমদ। তবে এই কমিটিকে কোন সময় বেধে দেয়া হয়নি।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি গবেষণানীতি অমান্য করে একই গবেষণাপত্র দিয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন। শিরোনাম পাল্টে আগের অংশ পরে এবং পরের অংশ আগে উল্লেখ করে একই লেখা দিয়ে দুটি ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি।

এই অভিযোগ সর্বপ্রথম ওঠে ২০২০ সালে। এরপর গত বছরের আগস্টে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণকারী বিভাগটির সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফ বিল্লাহ তৎকালীন উপাচার্য, উপউপাচার্য (শিক্ষা), কলা অনুষদ ডিন এবং সব সিন্ডিকেট সদস্যকে প্রমাণসহ এই অভিযোগ করেন।

দীর্ঘ ৪ বছরেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় গত ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যের কাছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ফের একটি আবেদনপত্র জমা দেন ড. আরিফ বিল্লাহ।

এবি 

সম্পর্কিত বিষয়:

×