ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত শিক্ষকরাই, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত: ১৪:৪৮, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত শিক্ষকরাই, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

নার্সিং কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষার যত প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে সেখানে অভিযোগের তীর শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই গেছে।

গত কয়েক বছরে নার্সিং কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষার যত প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে সেখানে অভিযোগের তীর শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই গেছে। অনেক শিক্ষক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আবার কেউ কেউ বরখাস্ত হয়ে বিভাগীয় শাস্তি পেয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া নার্সিং কলেজে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেন এমন তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের প্রস্তুত করা প্রশ্ন তারা টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করেছেন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্নপত্র বিক্রি করার সময়কার শিক্ষক-পরীক্ষার্থীর অডিও রেকর্ডও মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমন নানা অভিযোগে কলেজটির তিনজন শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করেছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। এ ছাড়া একজন নার্সিং ইন্সট্রাক্টরের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তিন বিভাগের নার্সিং কলেজের বিএসসি ইন নার্সিং, বিএসসি ইন পাবলিক হেলথ ও বিএসসি ইন মিডওয়াইফারির প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বহিষ্কার হওয়া শিক্ষকরা হলেন- বগুড়া নার্সিং কলেজের প্রভাষক মুসতা-নূর-সুলতানা, প্রভাষক গুলনাহার খাতুন ও সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল বারী সরকার। ১লা ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (শিক্ষা ও শৃঙ্খলা) মুহাম্মদ শাখীর আহম্মদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। ওই আদেশে বলা হয় বগুড়া নার্সিং কলেজের ওই তিন শিক্ষককে প্রশাসনিক কারণে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। একইদিন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হাবিব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত নার্সিং কলেজসমূহে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ থেকে অনুষ্ঠিতব্য সকল বিএসসি ইন নার্সিং, বিএসসি ইন পাবলিক হেলথ নার্সিং (পোস্ট বেসিক) এবং বিএসসি ইন মিডওয়াইফারি (পোস্ট বেসিক) প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ চূড়ান্ত (নতুন ও পুরাতন) পরীক্ষা-২০২২ পরবর্তী নির্দেশ দেয়া না পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।

এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের নজরে আসার পর পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের নার্সিং শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার-২ কে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। নার্সিং শিক্ষা শাখার ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং, পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন মিডওয়াইফারি ১ম ও ২য় বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।

তাসমিম

×