ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

ইবি ভিসির কার্যালয়ে হামলা, থানায় অভিযোগ

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

ইবি ভিসির কার্যালয়ে হামলা, থানায় অভিযোগ

 ভিসির কার্যালয়ে হামলা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসির কার্যালয়ে একান্ত সচিবের কক্ষে হামলার ঘটনায় মামলার সুপারিশ করেছে কর্তৃপক্ষ। 

রবিবার ভূক্তভোগী আইয়ূব আলী (পিএস-১), মনিরুজ্জামান মিল্টনের (পিএস-২) লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইবি থানায় এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। ইবি থানার ডিউটি অফিসার নাজমুল হোসেন অভিযোগ গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ভাঙচুর হওয়া কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও এখন পর্যন্ত ফুটেজ মিলেনি। কক্ষটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলেও হার্ডডিস্ক অচল ছিল। এছাড়া উপাচার্যের কক্ষে ক্যামেরা সচল থাকলেও গত ৬ এপ্রিলের পর থেকে ফুটেজ মিলেনি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা স্থায়ী চাকরির দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। তারই জের ধরে গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে অন্তত ২৫-৩০ কর্মচারী উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালামের কার্যালয়ে একান্ত সচিব আইয়ূব আলী তাদের ফাইল আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করে তার কক্ষে যান। 

একপর্যায়ে সেখানে তারা বিভিন্ন ফাইল তছনছ, ভাঙচুর ও আইয়ূবকে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ভুক্তভোগী কয়েকজনের সহযোগিতায় কক্ষ থেকে বের হয়ে পাশের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।

এসময় উপাচার্যের একান্ত সচিবের বিরুদ্ধে বিএনপি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে তার পদত্যাগ দাবি করেন। এরপর বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নিয়োগ বোর্ড হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ হামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান টিটো, রাসেল জোয়ার্দারের নেতৃত্ব দেন। 

এছাড়া সকলেই নিজেদের ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী দাবি করেন। এদিকে ঘটনার পরের দিন রবিবার সকালে বহিরাগতদের নিয়ে অভিযুক্তরা ক্যাম্পাসে শোডাউন দেন। এছাড়া প্রশাসনের ভবনের নিচতলায় তারা অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে আইয়ূব আলী, মনিরুজ্জামান মিল্টন অফিসে দাফতরিক কাজ করছিলেন। এসময় টিটু মিজান ও রাসেল জোয়াদ্দাদের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন বহিরাগত তাদের দুইজনকে দুই কক্ষে আবদ্ধ করেন। এসময় আইয়ূব আলীর কক্ষ ভাঙচুর ও গুরুত্বপূর্ণ নথি তছনছ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও হ্যানস্তা করে কক্ষ থেকে বের করে দেয়।

উপাচার্যের একান্ত সচিব আইয়ূ আলী বলেন, অস্থায়ী চাকরিজীবি পরিষদের সভাপতি টিটো মিজান, সাধারণ সম্পাদক রাসেল জোয়ার্দারের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন অফিসে এসে বলেন, আমি নাকি তাদের চাকরির ফাইলে সই করছি না। এজন্য তাদের চাকরি হচ্ছে না। আমি চাকরি দেওয়ার কে? এতে উত্তেজিত হয়ে তারা এ ঘটনা ঘটান। রেজিষ্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করেছে। আমরা জানি সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রয়েছে। ফুটেজ রেকর্ড হয়েছে কি-না এক্সপার্ট নিয়ে দেখতে হবে।

অফিস ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে অস্থায়ী চাকরিজীবি পরিষদের সভাপতি টিটো মিজান বলেন, কারা ভাঙচুর ও হেনস্তা করেছে আমরা জানি না। আমরা অনেক দিন কাজ করলেও ফাইল আটকে থাকায় বেতন পাচ্ছি না। আমরা ফাইল কেন আটকে আছে এটি জানতে চেয়েছি।

সহকারী প্রক্টর ড. শাহেদ আহমেদ বলেন, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে। যে কক্ষে হামলা হয়েছে সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিক থাকলেও হার্ডডিস্ক ইরোর (যান্ত্রিক ত্রুটি) দেখাচ্ছে। ভিসি স্যারের রুমেও গত ৫/৬ এপ্রিলের পর কোনো ফুটেজ নেই। ক্যামেরার রেকর্ড বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। কেউ ইচ্ছা করেও করতে পারে। ভিসি স্যার বিষয়টি নিয়ে আইসিটি সেলকে ডেকেছিল। বিষয়টি নিয়ে সবাই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। মূলত আইসিটি সেলই ক্যামেরার দেখভাল করে।

আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর আহসান উল আম্বিয়া বলেন, আইসিটি সেলের আশেপাশের কিছু ক্যামেরা ব্যতীত বাকিগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ক্যামেরাগুলো স্ব-স্ব অফিস নিয়ন্ত্রণ করে।  সিসিটিভি ক্যামেরা অচলের ব্যাপারে আমাদের দায় নেই। সমস্যা হলে আমাদের জানালে ঠিক করে দিয়ে আসি।

উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, তারা বহিরাগত, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নয়। যেহেতু এটি ক্রিমিনাল অফেন্স। আমরা থানায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
 

এমএস