ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

যশোর ও মাগুরায় চামড়ার বাজারে ধস

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস

প্রকাশিত: ২২:৫৭, ২২ জুন ২০২৪

যশোর ও মাগুরায় চামড়ার বাজারে ধস

চামড়ার বাজারে ধস

যশোর সদরের ইছালি গ্রামের বিশ্বজিৎ কুমার ১২২ পিস গরু ও ২০ পিস ছাগলের চামড়া নিয়ে শনিবার যশোরের চামড়ার মোকাম রাজরহাটে এসেছিলেন। কিন্তু কাক্সিক্ষত দাম না পেলেও সব চামড়া বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, গত ২০ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে আমি জড়িত, কিন্তু চামড়ার এরকম দরপতন গত ৩-৪ বছর ধরে চলছে। সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকা ফুট হলেও দাম পাওয়া যাচ্ছে ২৫ টাকা ফুট হিসেবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করা, লবণ লাগানো এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে যে চামড়ার দাম প্রতি পিস ৮-৯শ’ টাকা পড়েছে, সেই প্রায় একই দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।
খুলনার পাইকগাছার স্বপন দাস জানান, তিনি ২৪৮ পিস গরুর চামড়া ও ৪৪ পিস ছাগলের চামড়া রাজারহাটে এনেছেন। বড় চামড়া বিক্রি করেছেন ৮-৯শ’ টাকায়, আর ছাগলের চামড়া প্রতি পিস ২০ টাকা করে। অর্থাৎ গরুর চামড়া বিক্রি করেছি ২৫ টাকা ফুট হিসেবে। অথচ সরকার নির্ধারণ করেছে ৫০ টাকা ফুট করে। যেকারণে আমাদের মতো খুচরা ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেনা। লাভের মুখ দেখছেন আড়তদার আর ট্যানারি মালিকরা।
খুলনা বিভাগের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে চামড়ার দাম ছিল কম। ঈদের প্রথম হাটবার ছিল শনিবার। যদিও আড়তদাররা বলছেন, ভালোমানের চামড়া সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে। খারাপ চামড়া বিক্রি হচ্ছে কম দামে। ঈদ পরবর্তী প্রথম হাটে রাজারহাট ছিল ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম। তবে সেই তুলনায় চামড়ার জোগান ছিল কম। গরু ও ছাগলের প্রায় ৭০ হাজার পিস চামড়ার হাতবদল হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে।
 এদিকে নিজস্ব সংবাদদাতা, মাগুরা জানান, ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়ার  বাজারে দাম কম হওয়ায় বিক্রীত চামড়ার মূল্য পাননি বলে বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। এখানে প্রতিটি গরুর চামড়া প্রকার ভেদে মাত্র ৩০০-৬০০ টাকা এবং খাসির চামড়া ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এবারও চামড়া ক্রয় করে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। জেলায় সংগৃহীত চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ৪ উপজেলায় কোরবানি চাহিদা ছিল ৯২ হাজার ৮৯১টি গবাদি পশু। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলেন, চামড়ার কোনো দাম নেই। গত বছর চামড়া  যে দামে বিক্রি হয়েছে এ বছর সেই চামড়া কম দামে বিক্রি হয়েছে। সরকার দাম বৃদ্ধির সুফল তারা পাননি। এ বছর গরুর চামড়া ৩০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে গৃহস্থ চামড়ার মূল্য পাননি। ফলে কম মূল্যে তারা চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

×