ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

নন-কটন খাতের জন্য নীতিমালা চায় বিজিএমইএ

তিন বছরে ৪ শতাংশ বেড়েছে রপ্তানি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:৪২, ৩ মার্চ ২০২৪

তিন বছরে ৪ শতাংশ বেড়েছে রপ্তানি

৪ শতাংশ বেড়েছে রপ্তানি

বিশ্ব ফ্যাশন বাজারে স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতার কারণে নন-কটন পোশাকের চাহিদা বাড়ায় তার সঙ্গে তাল মেলাতে চায় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে নন-কটন খাতের জন্য আলাদা নীতিমালার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমাদের শিল্পটি মূলত তুলা নির্ভর, তবে বিশ্বের ফ্যাশন বাজার এখন নন-কটনের দিকে সরে যাচ্ছে।

বর্তমান বিশ্বে ভোক্তাদের ক্রমাগত জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ও পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভোক্তা পর্যায়ে বৈশ্বিক পোশাক ব্যবহারের মধ্যে ৭৫ শতাংশ নন-কটন এবং বৈশ্বিক টেক্সটাইল বাণিজ্যের মধ্যে ৫৭.৫০ শতাংশ নন-কটন। ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আমাদের রপ্তানির মাত্র ২৯ শতাংশ নন-কটন পোশাক। অর্থাৎ নন-কটন যাতে আমাদের বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সবচেয়ে বেশি এবং আনন্দের বিষয় হচ্ছে, বিগত ৩ বছরে আমাদের রপ্তানিতে নন-কটনের শেয়ার ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোতে পেট্রো কেমিক্যাল চিপস থাকায় তারা কম দামে নন-কটন দিয়ে তৈরিকৃত পোশাক সরবরাহ করতে পারে।

কিন্তু আমাদের এখানে এসব কাঁচামাল নেই, তাই কাঁচামাল আমদানি করে আমাদের পণ্য তৈরির খরচ বেশি পড়ে যায়। মূলত কোরিয়া, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও ভারতে এসব ফাইবারের যে সক্ষমতা আছে, তাতে করে তারা অনেক কম মার্জিনাল খরচে পণ্য তৈরি করতে পারে ও কম্পিটিটিভ থাকতে পারে। আমাদের এখানে শিল্পটি এখনো উদীয়মান। তাই স্কেল ইকোনমির অ্যাডভান্টেজ না থাকায় আমাদের ইউনিট কস্ট কিছুটা বেশি। এছাড়া প্রচুর মূলধন ও টেকনোলজি নির্ভর হওয়ায় মূলধনী বিনিয়োগের চাহিদাও অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সক্ষমতা এবং এফিসিয়েন্সি বাড়ানো। এই যাতে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ আনার জন্য সরকারের বিশেষ নীতি সহায়তার প্রয়োজন কতটুকুু তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা যদি নন-কটন, যাতে আমাদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারি, তাহলে একদিকে আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমবে, আমরা আরও কম্পিটিটিভ হতে পারব, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়াতে পারব ও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারব।

বিশ্বব্যাপী টেকসই কাঁচামাল সমাদৃত হচ্ছে, সেখানে আমাদের পাট, বাঁশ, ইত্যাদি বিকল্প তন্তুর সম্ভাবনাগুলো এগিয়ে নিতে হবে, যার বাজার সম্ভাবনা অনেক। আগামী বাজেটে রিসাইক্লিং শিল্পের জন্য আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে, সেগুলোও আমরা সরকারকে জানিয়েছি। আশা করি, এগুলোর প্রতিফলন আমরা অচিরেই দেখতে পাব। আমাদের এই উদ্যোগগুলোর সফলতার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে নন-কটন খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভিশন-২০৩২ রোডম্যাপ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিজিএমইএ। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে নন-কটন পোশাকের বাজার পৃথিবীতে ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের। বিজিএমইএ ২০৩২ সালে নন-কটন পোশাক রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ৪ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের। বর্তমানে বাংলাদেশ মাত্র ১ হাজার ১৫০ মার্কিন ডলার রপ্তানি করে।

কিন্তু এ জায়গায় পৌঁছানোর জন্য প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই বিনিয়োগের ফলে নতুন করে ১ লাখ কর্মসংস্থান হবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার জন্য নন-কটন খাতের জন্য আলাদা নীতিমালার দাবি জানায় বিজিএমইএ।

×