ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

একীভূত হতে পাঁচ ব্যাংকের প্রস্তাব

সময় লাগবে ৩ বছর

রহিম শেখ

প্রকাশিত: ০০:১৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

সময় লাগবে ৩ বছর

একীভূত হতে পাঁচ ব্যাংকের প্রস্তাব

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারের লক্ষ্যে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে। এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ‘স্বেচ্ছায়’ একীভূত হতে প্রস্তাব দিয়েছে পাঁচ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হচ্ছে- সোনালী, এক্সিম, সিটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইউসিবি ব্যাংক। এসব ব্যাংক বিডিবিএল, পদ্মা, বেসিক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে চায়।

এ ব্যাংকগুলোর অডিটর নিয়োগ, সম্পদ ও দায় ঠিক করা, শেয়ার দর ঠিক করা, শেয়ার অংশ র্নিধারণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে তিন বছর সময় লাগবে। এ জন্য নতুন করে আর কোনো ব্যাংক মার্জার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক একীভূত হওয়ার খবরে ব্যাংকগুলোর কর্মীরাও আছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়, চাকরি থাকবে তো? থাকলে কোথায় পদায়ন করা হবে, সেটাও আরেক চিন্তা। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূতকরণের যে নীতিমালা জারি করেছে, সেখানে ওপরের দু-একটি পদ বাদে ব্যাংকের সাধারণ কর্মীদের তিন বছরের মধ্যে ছাঁটাই না করার কথা বলা হয়েছে। 
দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনতে গত কয়েক বছর ধরেই তাগিদ দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদরা। আওয়ামী লীগও ব্যাংক খাতের সংস্কারের বিষয়টি তাদের সর্বশেষ নির্বাচনি ইশতেহারে রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় দুর্বল ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকগুলোকে সবলের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আড়াই বছরের ‘রোডম্যাপ (কর্ম কৌশল)’ ঠিক করার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে এক বছর সময় দিয়ে ‘প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন’ বা পিসিএ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ৩১ জানুয়ারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ জন্য ভালো ও দুর্বল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরুরও পরামর্শ দিয়েছিলেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয় গত ৪ মার্চ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকেও।

ওই বৈঠকে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার জানান, চলতি বছরের মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দুর্বল ব্যাংককে ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হতে পারে। এরপর গত মার্চে বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের শীর্ষ ব্যক্তিদের ডেকে সংকটে থাকা পদ্মা ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পরামর্শ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটি পদ্মা ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আগ্রহ দেখালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও রাজি হয়। ১৪ মার্চ ইসলামি ধারার এক্সিম ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ একে অপরের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর গভর্নরের উপস্থিতিতে দুই ব্যাংকের মধ্যে একীভূতকরণের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি হয়। ৩ এপ্রিল সরকারি খাতের দুটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। সেদিন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ৪ এপ্রিল ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার আগেই বেসরকারি পদ্মা ব্যাংককে শরিয়াভিত্তিক এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা আসে।

ব্যাংক দুটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়ে সমঝোতা চুক্তিও করেছে। নীতিমালা জারির পর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বিডিবিএল একীভূত করার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে দুই কোম্পানির পর্ষদ। এরপর ৮ এপ্রিল সিটি ব্যাংকের সঙ্গে সমস্যাগ্রস্ত বেসিক ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ ঈদের ছুটির আগে ৯ এপ্রিল বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বা ইউসিবির সঙ্গে সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।
জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি নতুন করে মার্জারের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন এই দশ ব্যাংক একীভূত করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক মার্জারের জন্য আমরা সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে পাঁচটি প্রস্তাব পেয়েছি। আপাতত এই প্রস্তাবগুলোর বাইরে আর নতুন কোনো প্রস্তাব আমরা নেব না।

এই পাঁচটি প্রস্তাবের ব্যাংকগুলো একীভূত করার পরে প্রয়োজন হলে নতুন মার্জারে যাওয়া হবে। এগুলোর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো ব্যাংক মার্জার করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই পাঁচ প্রস্তাবের ব্যাংকগুলো একীভূত করার সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে তিন বছর লেগে যেতে পারে। সেই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে আর কোনো ব্যাংক মার্জারের কাজে হাত দেবে কি না- সেই প্রশ্নের উত্তরে মেজবাউল হক বলেন, ব্যাংক একীভূত করতে অনেক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। অডিটর নিয়োগ, সম্পদ ও দায় ঠিক করা, শেয়ার দর ঠিক করা, শেয়ার অংশ র্নিধারণ ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। 
‘রোডম্যাপ’ ও ‘পিসিএ’ নীতিমালা করে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছিল, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে স্বেচ্ছায় কোনো ব্যাংক একীভূত হতে চাইলে সুযোগ দেওয়া হবে। এর পর বাংলাদেশ ব্যাংক ‘দুর্বল ব্যাংক’ চিহ্নিত করবে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত দেবে কোন ব্যাংক কার সঙ্গে একীভূত হবে। কিন্তু নীতিমালা ঘোষণার এক মাসের মথায় দুর্বল ব্যাংক শনাক্ত করার সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক একীভূতকরণ নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, দুর্বল ব্যাংকের দায়িত্ব নিলে গ্রহীতা ব্যাংকের ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ, সিআরআর, এসএলআর, এলসিআর এর বিপরীতে বিভিন্ন হারে যে প্রভিশন রাখতে হয়, তাতে ছাড় দেওয়া হবে তিন বছরের জন্য। গ্রহীতা ব্যাংকের কার্যক্রম নির্বিঘœ রাখা এবং জনস্বার্থে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালায় বলা হয়, দীর্ঘ মেয়াদি বন্ড কেনার মাধ্যমে নগদ সহায়তা, মূলধন বৃদ্ধির জন্য শেয়ার ইস্যু, পারপেচুয়াল বন্ড এবং সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করতে গ্রহীতা ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পরবর্তী তিন বছর দুর্বল ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন গ্রহীতা ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে যুক্ত হবে না। অর্থাৎ আর্থিক প্রতিবেদন পৃথক আকারে দেখানো যাবে। এর ফলে একীভূত হওয়ার পরও দুর্বল ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের কোনো প্রভাব পড়বে না গ্রহীতা ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর। এর বাইরে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে যে কোনো বিষয়ে সুবিধা নিতে পারবে গ্রহীতা ব্যাংক, তাও বলা হয়েছে নীতিমালায়।

সাবেক ব্যাংকার নুরুল আমিন জনকণ্ঠকে বলেন, লাভের হিসাব করলে বলা যায়, ব্যবস্থাপনার দিক থেকে কিছুটা ব্যয় কমবে। শাখার সংখ্যা বাড়লে ব্যবসার পরিধি বাড়বে। কিন্তু খারাপ ঋণের বিষয়টি এখান থেকে বাদ দিতে হবে আগে। তবে সব মিলিয়ে লাভের পরিমাণটাই বেশি হবে বলে মনে করেন তিনি। 
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, স্বেচ্ছায় একীভূতকরণের কথা বলা হলেও এখানে কর্তৃপক্ষের তরফে প্রচ্ছন্ন চাপ ছিলো। অন্তত ভালো ব্যাংকগুলোর প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণে তার তেমনই মনে হয়েছে। সবল ব্যাংকগুলোর উৎসাহটা দেখিনি। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে নিরপেক্ষ অডিট করে তাদের প্রকৃত আর্থিক চিত্র তুলে ধরা দরকার, যা এখনো করা হয়নি। নইলে, ভালো ব্যাংকের জন্য এটা অবশ্যই লোকসান হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে পারলেও কর্মী ছাঁটাইয়ের শঙ্কা থাকবে। কারণ, একই এলাকায় দুই ব্যাংকের দুটি শাখা থাকলে সেখানে একটি শাখা কমানো হবে। তখন ওই শাখার কর্মীরা কোথায় যাবেন? শুধু শাখা পর্যায়ে নয়, ব্যাংকের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাতে পারেন।
চাকরি হারাবেন এমডি-ডিএমডিরা ॥ নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) চাকরি হারাবেন। এ ছাড়া একীভূত হওয়া দুই ব্যাংকের মধ্যে খারাপ অবস্থায় থাকা ব্যাংকের পরিচালক আগামী ৫ বছর অন্য কোনো ব্যাংকে পরিচালক হতে পারবেন না। তবে পাঁচ বছর পর আবার একীভূত হওয়া ব্যাংকের পর্ষদে ফিরতে পারবেন।

যদিও এ ক্ষেত্রে তাদের কিছু শর্ত মানতে হবে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এ বিধানের মাধ্যমে সেসব পরিচালককে এক ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যাদের কারণে ব্যাংক খারাপ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে পাঁচ বছর বিরতির পর তাদের আবার পর্ষদে ফেরার বন্দোবস্ত রাখা হলো। 
বাধ্যতামূলক একীভূতকরণ ॥ নীতিমালার আলোকে, খারাপ অবস্থায় থাকা ব্যাংকগুলো নিজ থেকে একীভূত না হলে বাধ্যতামূলকভাবে একীভূতকরণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে দুই ব্যাংক এক করার আগেই নগদে পাওনা পরিশোধ করা হবে। একীভূতকরণের আগে দুই ব্যাংকের মধ্যে একটি সমঝোতা সই করতে হবে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে সর্বশেষ আদালতের কাছে একীভূতকরণের আবেদন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব ব্যাংক নিজ থেকে একীভূত হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সিআরআর, এসএলআর সংরক্ষণে ছাড় দেওয়া হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সাধারণভাবে একটি ব্যাংকের ৪ শতাংশ হারে নগদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। এখন ৫০ হাজার কোটি টাকার একটি ব্যাংকের হয়তো ১ শতাংশ সিআরআর ছাড় দেয়া হলো। এতে ওই ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকা ছাড় পেল। এ পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি ভালো করতে পারবে। 
নীতিমালা জারির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং মধ্যস্থতায় একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে পারে। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বিদেশি ব্যাংকের শাখাও একীভূত করা যাবে। তবে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংক একীভূত হবে না। 
 বৈষম্য দেখছেন ব্যাংকাররা ॥ নীতিমালায় বলা হয়েছে, একীভূত হওয়া ব্যাংকের কর্মীদের তিন বছর পর্যন্ত ছাঁটাই করা যাবে না। এমনকি একীভূত হওয়ার আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে বেতন ও শর্তে কর্মরত ছিলেন, সেই একই বেতন ও শর্তে তাদের বহাল রাখতে হবে।

তিন বছর পর কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন করে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। বিলুপ্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে একীভূত ব্যাংকের কোনো পদে রাখা যাবে না। তবে এসব পদের কাউকে চাইলে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া যাবে। 
যেভাবে বাধ্যতামূলক একীভূত ॥ নীতিমালা অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে দুর্বল মানের চিহ্নিত হওয়া ব্যাংকগুলো মানোন্নয়নে ব্যর্থ হলে ওই ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধরনের ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক দায় ও সম্পদ গ্রহণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে। এতে ওই ব্যাংকের বিস্তারিত আর্থিক তথ্য উল্লেখ থাকবে।

এতে কেউ সাড়া না দিলে যে কোনো ব্যাংককে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষা করা হবে। তারা দায়দেনার পাশাপাশি শেয়ার বিনিময় ও সুনামের (গুডউইল) হিসাব করবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্কিম গঠন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর একীভূত হওয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
দুর্বল ব্যাংকের মূল্য নির্ধারণ ॥ একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণ কীভাবে হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি সিকিউরিটিজ ব্যতীত অন্যান্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মাসের শেষ তারিখের বাজার দরে মূল্যায়ন হবে। অন্যান্য সিকিউরিটিজ তাদের পূর্ববর্তী মাসের শেষ তারিখে বিদ্যমান অভিহিত মূল্য অথবা নগদায়নযোগ্য মূল্যে মূল্যায়ন করতে হবে। জমি/প্রাঙ্গণ ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ এবং দাবি পরিশোধের সূত্রে অর্জিত সম্পদ বাজারদরে মূল্যায়ন করতে হবে। আসবাব ও সরঞ্জামের দাম ঠিক হবে লিখিত মূল্যের ভিত্তিতে।

বেসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তি ॥ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেসরকারি সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে চাচ্ছেন না। তারা অন্য কোনো সরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) একীভূতকরণের সিদ্ধান্তও বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা।
গত মঙ্গলবার দুপুরে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বরাবর এক স্মারকলিপিতে তাদের দাবি তুলে ধরেন। 
গভর্নরকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, বেসরকারি মালিকানাধীন সিটি ব্যাংকের সঙ্গে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক মার্জারের বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অযৌক্তিক।

বেসিক ব্যাংক ২০১৫ সাল থেকে পুরোপুরি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক। বেসিক ব্যাংকে অন্যান্য রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের অনুরূপ চাকরি বিধিমালা অনুসরণ করা হয়, যা বেসরকারি মালিকানার ব্যাংকের সঙ্গে পুরোপুরিভাবেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বেসিক ব্যাংককে অন্য একটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের সঙ্গেই একীভূত করার অনুরোধ জানান এই ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

×