ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১

সংস্কৃতি সংবাদ

শিল্পের নান্দনিকতায় রাঙানো ঢাকা আর্ট সামিট

সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:১০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

শিল্পের নান্দনিকতায় রাঙানো ঢাকা আর্ট সামিট

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্রাঙ্গণ এবং গ্যালারিতে আয়োজিত ঢাকা আর্ট সামিটে দর্শনার্থীরা

গ্যালারির প্রবেশ দ্বারে শোভা পাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যম-িত দৃশ্য, সামনেই রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সারি। ভেতরে প্রবেশ করে চোখে পড়বে নান্দনিক গুহা, যেখানে শিশু থেকে শুরু করে সবাই পাঠ করছে বিভিন্ন বই। গ্যালারির এক অংশে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। এমনি অসংখ্য শিল্পকর্ম নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালায় চলছে ঢাকা আর্ট সামিটের ষষ্ঠ আসর।

মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায় দর্শনার্থীর ভিড়ে চিত্রশালা প্রাঙ্গণ যেন উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। কেউ এসেছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে, আবার কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে। শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো বাংলা প্রতিপাদ্য ‘বন্যা’কে আবর্তিত করে শুরু হয়েছে ঢাকা আর্ট সামিটের ষষ্ঠ সংস্করণ। এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছে দেশ-বিদেশের ১৬০-এর বেশি প্রখ্যাত
শিল্পী। ৯ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এই আয়োজন চলবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং এটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এবারের আসরে গুরুত্ব পাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, লৈঙ্গিক সম্পর্ক, বিভিন্ন প্রজন্মের বোঝাপড়া ও নানা সম্প্রদায়ের জীবনাচরণের মতো বিষয়গুলো। 

ঢাকা আর্ট সামিট ২০২৩-এ এবারের প্রতিপাদ্য ‘বন্যা’কে ঘিরে প্রদর্শনীটি নানাভাবে সাজানো হয়েছে। আয়োজনে উঠে এসেছে নদীমাতৃক বাংলাদেশে ‘বন্যা’ শব্দ রূপটি কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় বরং এর চেয়ে বেশি কিছু এবং এ দেশে মেয়েশিশুদের নাম হিসেবেও ‘বন্যা’ পরিচিত। এবারে ঢাকা আর্ট সামিটে ‘বন্যা’কে উপস্থাপন করা হয়েছে ভিন্নরূপে; যে প্রশ্ন তোলে গতানুগতিক বাইনারি চিন্তাধারার বিরুদ্ধে- আবশ্যকতা ও অনাবশ্যকতা, পুনর্নির্মাণ ও দুর্যোগ, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক, নারী ও পুরুষ বিষয়ক প্রথাগত ধারণা নিয়ে।

শিল্পীরা তাদের ভাবনায় এসব সম্পর্কের বিশদ তাৎপর্যে প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। প্রদর্শনীর জন্য নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে জাতীয় চিত্রশালা ভবনের পুরো আঙিনা। এছাড়া, সামদানী আর্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন ১২ জন বাংলাদেশী শিল্পী, যাদের শিল্পকর্মে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ইস্যু প্রাধান্য পাচ্ছে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত শিল্প সমালোচক ও শিল্প সংগ্রাহকদের অংশগ্রহণে রয়েছে ওয়ার্কশপ, পারফরম্যান্স সেমিনারসহ নানা প্রদর্শনী।

আর্ট সামিটের ষষ্ঠ আসরে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন সুমাইয়া ভ্যালি, অ্যান্টনি গ্রোমলি, আসফিকা রহমান, বিনোদবিহারী মুখার্জী, ভাষা চক্রবর্তী, চিত্রপ্রসাদ, ড্যানিয়েল বৈদ্য, দামাসাস হাচা, ফয়সাল জামান, গাজালেহ আভারজামানি, হাবিক চুহেন, হাবিবা নওরোজ, জামাল আহমেদ, জয়দব রোজা, জনি রুসিকা, কবির আহমেদ, মাসুম চিশতি, কামরুজ্জামান সাধন, লালা রুখ, ল্যাপডিয়াং সায়েম, মেরিনা পেরেজ সিমাও, নাবিল আহমেদ, নাজমুন নাহার কেয়া, পল তাবুরেট, রূপালী গুপ্তা ও প্রসাদ শেঠি, পূর্ণিমা আখতার, রফিকুন্নবী, সাইফুদ্দিন আহমেদ, সাহেজ রাহাল, তানিয়া গয়াল, ভেরোনিকা হাপচেঙ্কো, ইয়াসমিন জাহান নূপুর, রিজভী হাসান, গণেশ পাইন প্রমুখ।
বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রতিষ্ঠিত ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় শিল্পগুলো দর্শনার্থীদের দেখার সুযোগ করে দিতে ২০১২ সাল থেকে ঢাকা আর্ট সামিটের আয়োজন করে আসছে সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রতি দুই বছরে আর্ট সামিটের আয়োজন করে থাকে। ঢাকা আর্ট সামিটের সর্বশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালে। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এবার তিন বছরে এই প্রদর্শনীর পর্দা উঠল।

×