ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

চট্টগ্রামে ড্র করেই সন্তুষ্ট মুমিনুলরা

প্রকাশিত: ২৩:১৭, ২০ মে ২০২২

চট্টগ্রামে ড্র করেই সন্তুষ্ট মুমিনুলরা

মোঃ মামুন রশীদ, চট্টগ্রাম থেকে ॥ বছরের শুরুতে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পর টানা ৩ টেস্টে বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কোন ম্যাচেই ব্যাটাররা ভাল কিছু করতে পারেননি। আইসিসির বিশ^ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তাই ৬ টেস্টের ৫টি হেরে বেশ খারাপ অবস্থানে চলে যায় বাংলাদেশ। হ্যাটট্রিক হারের পর অবশেষে সাগরিকায় এসে পরাজয় এড়িয়ে প্রশান্তি পেয়েছে মুমিনুল হকের দল। সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার সিরিজের প্রথম টেস্টে পঞ্চম দিন ড্র হয়েছে ম্যাচটি। তাইজুল ইসলামের বাঁহাতি স্পিনে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেও লঙ্কানরা দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৬০ রান তোলার পর উভয় দল ড্র মেনে নিয়েছে। তাইজুল দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ উইকেট তুলে নেন। টানা হতাশাজনক পরাজয়ের পর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এসে স্বস্তির ড্রয়ের পর তাই বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক জানালেন, ব্যাটে-বলে দল ভাল পারফর্মেন্সে ফেরাতে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টে এটি কাজে দেবে। চট্টগ্রামে ছিল ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। সেই উইকেটে শুরুর দিন থেকেই দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। একেবারে ফ্ল্যাট উইকেটে যেখানে বোলারদের জন্য তেমন কিছুই ছিল না, সেখানেও বাংলাদেশী বোলাররা লঙ্কানদের আটকে রেখেছেন। দুই পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম হতাশ করলেও স্পিনাররা দারুণ লাইন-লেংন্থে বল ফেলেছেন। বিশেষ করে লক্ষণীয় বিষয় ছিল করোনামুক্ত হয়েই ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনে ফেরা বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসানের টেস্টে ফেরা। ৫ মাস ও ৪ টেস্ট পর খেলতে নেমে তিনি ম্যাচের প্রথম দিনই ১৯ ওভার বোলিং করেন। প্রথম দিন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট চালিয়ে আহামরি রান করতে পারেননি লঙ্কান ব্যাটাররা। তাদের মূলত ১৫ মাস পর টেস্টে ফেরা অফস্পিনার নাঈম হাসান জোড়া আঘাতে থমকে দিয়েছিলেন। প্রথম দিন ৪ উইকেটে ২৫৮ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় দিন আরও দুর্দান্ত ছিলেন বাংলাদেশী বোলাররা। চট্টগ্রামের ছেলে নাঈম এদিন আরও ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং নৈপুণ্য দেখান। ১০৫ রানে তিনি নেন ৬ উইকেট। এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস বিশে^র ১২তম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ১৯৯ রানে সাজঘরে ফেরেন। এদিন আর মাত্র ১৩৯ রান করতেই বাকি ৬ উইকেট হারায় তারা। এরপর বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনশেষে বিনা উইকেটে ৭৬ রান তোলে। তৃতীয় দিন ৩ উইকেটে ৩১৮ রান করে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকে ৭৯ রানে। ১৩৩ রাানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দেন তামিম। চতুর্থ দিন ৪৬৫ রানে প্রথম ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ১০৫ রান করা মুশফিকুর রহিম প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে পৌঁছেন ৫ হাজার টেস্ট রানে। ৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান তুলে লঙ্কানরা চাপে পড়ে। ম্যাচের শেষদিন স্পিনাররা উইকেটে কিছুটা সুবিধা পাবেন এবং দারুণ কিছু হবে বাংলাদেশ দলের এমনটাই প্রত্যয় ছিল। তবে লঙ্কানরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল সাগরিকার উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য ভাল থাকার কারণে। তারা চেয়েছে সারাদিন ব্যাট করতে। সেটা তারা পঞ্চম দিন বাস্তবে রূপও দিয়েছে। শুরুর দিকে বাংলাদেশী বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দিলেও তাইজুলের জোড়া আঘাতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দিমুথ করুনারতেœ ও কুশল মেন্ডিসের ৬৭ রানের জুটি ভাঙ্গেন তিনি। ৪৩ বলে ৪৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন কুশল আর ম্যাথুস ফেরেন শূন্য রানে। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে প্রথম ইনিংসে ১৯৯ রান করে দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্যতেই সাজঘরে ফেরেন ম্যাথুস। এই জোড়া আঘাতে সতর্ক হয়েছে লঙ্কানরা। চা বিরতির আগে যদিও আরও দুটি উইকেট খোয়াতে হয়েছে তাদের। ১৬১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে তারা। ২৮তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে করুনারতেœ ১৩৮ বলে মাত্র ২ চারে ৫২ রানেই সাজঘরে ফিরেছেন। কিন্তু পরে নিরোশান ডিকভেলা ও দিনেশ চান্দিমালের অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রান বিপদমুক্ত করেছে লঙ্কানদের। ডিকভেলা ক্যারিয়ারের ২১তম ফিফটি হাঁকিয়ে ৬৬ রানে অপরাজিত থেকেছেন। ৩৩ রানে ব্যাট করছিলেন ধৈর্যশীল চান্দিমাল। লঙ্কানদের উইকেট নিতে না পেরে মাহমুদুল হাসান জয়কে বোলিংয়ে আনে বাংলাদেশ। তবে তিনি ১টি বল করার পরই উভয় দল ড্র মেনে নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৬০ রান করে শ্রীলঙ্কা। তবে দারুণ বোলিংয়ে ৪ উইকেট নেন তাইজুল। তাই মুমিনুল বলেন, ‘একটা টেস্টে ড্র হওয়ার পর সবাই যেহেতু রানে আছে, সবাই যেহেতু দল হিসেবে খেলতে পেরেছে। ব্যাটসম্যান হোক বা বোলার, দলগতভাবে আমরা যখন ভাল খেলি তখন কিন্তু ভাল ফল পাই।’ দলের ব্যাটিং-বোলিং নিয়েও দীর্ঘ সময় পর স্বস্তি জানিয়েছেন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘যদি পাঁচদিন খেলা খেলা দেখে থাকেন, ওদের ব্যাটিংও দেখেন আমাদের ব্যাটিংয়েও দেখেন এই উইকেটে আপনি টিকে থাকতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনি বেশি উত্তেজিত হয়ে যান তাহলে উইকেট পড়ার সযোগ বেশি থাকবে। দলগতভাবে আমরা সবাই ভাল খেলতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এটাই দরকার। সবাই যখন ভাল খেলি তখন দলের একটা ফল হয়।’ টানা ৩ টেস্ট বাজেভাবে হারের পর অবশেষে স্বস্তির ড্র পেয়েছে বাংলাদেশ। আর এটাই এখন মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে কাজে লাগবে। এমন আত্মবিশ^াস এখন মুমিনুলের। তিনি বলেন, ‘সবাই সম্মিলিতভাবে গিয়ে যখন ভাল করি তখন দল ভাল পজিশনে থাকে। অবশ্যই এটা ঢাকায় কাজে দেবে।’ চলমান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত ৭ টেস্ট খেলে ৫টি হার, ১ জয় ও ১ ড্রয়ে এখন বাংলাদেশের পয়েন্ট ১৬। আর শ্রীলঙ্কা পঞ্চম টেস্ট খেলতে নেমে এটি প্রথম ড্র করল। আগে ২টি করে জয়-পরাজয় দেখেছে তারা। এখর তাদের পয়েন্ট ২৮। মিরপুরে তাই সিরিজ জেতার জন্য মুখিয়ে থাকবে দু’দলই। সিরিজ জয়ের জন্য জিততে চাইবে মিরপুর টেস্ট। আপাতত বাংলাদেশ দল ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভাল করে চট্টগ্রামে দারুণ কিছু করাতে বেশ সন্তুষ্ট। তবে কন্ডিশনের ভিন্নতার কথাও জানালেন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘মিরপুরের উইকেট আর এই উইকেট অনেক ভিন্ন। আর এখানে বোলার ব্যবহার করতে পারিনি তা না। আপনি বিশ্বের সব উইকেটে বোলারদের ব্যবহার করতে পারবেন যদি তারা পরিকল্পনা, কোন লেংন্থে বল করবে সেটা যদি ধরতে পারে তাহলে আপনি পারবেন। ঢাকা টেস্টের জন্য পরিকল্পনা হবে সেটা তো সবাই জানে।’