সোমবার ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

তাইওয়ানের যন্ত্রাংশে ‘মেড ইন জাপান’ স্টিকার

  • গাজী ওয়্যারসের আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ লোপাটের ঘটনায় তদন্ত রিপোর্ট

মোয়াজ্জেমুল হক ॥ গাজী ওয়্যারসে উৎপাদিত পণ্য বাজার হারাচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অচিরেই এটি একটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে একটি তদন্ত কমিটির পক্ষে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্টিল এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (বিএসইসি) নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত গাজী ওয়্যারস লিমিটেডকে শক্তিশালী ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পে দুর্নীতির বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অর্থ লোপাটের ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করেছে সরকারী তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটি প্রদত্ত রিপোর্টের কপি জনকণ্ঠের কাছে এসেছে। এতে দেখা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির পক্ষে সম্প্রতি তাদের তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে গাজী ওয়্যারসে প্রকল্পে ৯ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করার বিষয়টি কমিটির নিকট যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়নি। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল গাজী ওয়্যারসের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে দেশের বর্তমান চাহিদা ৫০ শতাংশ মেটানো। কেননা, ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই কারখানার পণ্যের মাধ্যমে দেশের চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ সরবরাহ করা যেত। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নতুন করে স্থাপিত মেশিনারিজসহ পুরাতন মেশিনারিজের মোট উৎপাদিত পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ২৫ শতাংশ সরবরাহ করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারছে না। কারণ হিসেবে কমিটি উল্লেখ করেছে ব্যক্তি মালিকানার সময় জাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পণ্যের মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় এই প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই বাজার হারাচ্ছে। রিপোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ডিপিপি এবং পিপিআর-২০০৮ অনুযাযী মেশিনারি ও ইকুইপমেন্ট সংক্রান্ত দুটি প্যাকেজের আওতায় ৪৫ কোটি টাকা পণ্য ক্রয়ের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএসইসি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আবশ্যক ছিল। এক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। যা একটি গুরুতর অনিয়ম।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, সরবরাহকৃত মেশিনসমূহে তাইওয়ানের স্টিকার লাগানো ছিল। পরবর্তীতে এতে জাপানের স্টিকার লাগানো হয়েছে মর্মে অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে এই দুটি প্যাকেজের আওতায় সরবরাহকৃত ৯টি মেশিনের গায়েই ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে জাপানী কোম্পানির নাম সংবলিত স্টিকার লাগানো দেখা যায়। মেশিনের গায়ে খোদাই করা কোন কোম্পানির নাম পাওয়া যায়নি। যা পূর্বেকার জাপানী মেশিনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। ফলে সরবরাহকৃত মেশিনগুলোর মধ্যে কোনটি জাপান এবং কোনটি তাইওয়ান থেকে সরবরাহ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মেশিনারিজ সরবরাহে প্যাকিং লিস্ট এবং মেশিনসমূহ জাহাজীকরণের পর্যালোচনায়ও নানা অসঙ্গতি এবং অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া নির্বাচিত দরদাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তাদের দাখিলকৃত দরপত্রে মেশিনারিজ তৈরির ফ্যাক্টরি জাপান এবং তাইওয়ানে অবস্থিত এবং তারা মোট ৯টি মেশিনারিজের মধ্যে তিনটি জাপানের কারখানা ও ৬টি তাইওয়ানের কারখানা থেকে সরবরাহ করবে মর্মে প্রাপ্ত দরপত্রে উল্লেখ থাকার পরও এই বিষয়টি প্রকল্পের দরপত্রের মূল্যায়ন কমিটি, কারিগরি সাবকমিটি এবং সর্বোপরি গাজী ওয়্যারসে কোম্পানি বোর্ডের কার্যপত্রে উপস্থাপন না করা পদ্ধতিগত বিচ্যুতি। এই বিচ্যুতির জন্য কোম্পানির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিব এবং প্রকল্প দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ডাঃ গোলাম কবির, প্রকল্প পরিচালক মোঃ আকতার হোসেন, উপ-পরিচালক ও প্রকল্পের কারিগরি সাবকমিটির সভাপতি এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ তাজুল ইসলামসহ গাজী ওয়্যারসের তৎকালীন কোম্পানি বোর্ড সচিব ও উক্ত প্রকল্পের ৭ সদস্য বিশিষ্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য অলক প্রিয় বড়ুয়াকে দায়ী করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্পের ক্রয়কার্য অনুমোদন সংক্রান্তে এবং পদ্ধতিগত বিচ্যুতি ও আর্থিক ব্যয় অনুমোদনের যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব প্রদানে খাম খেয়ালিপনার জন্য উক্ত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এছাড়া যেহেতু গাজী ওয়্যারস একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা ও কর্মকৌশলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি দিন দিন বাজার হারাচ্ছে। এক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে অচিরেই এটি একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই খারাপ। বর্তমানে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছে। অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এই প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা প্রদানে এটি ব্যর্থ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি গাজী ওয়্যারসের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা এবং আধুনিকীকরণ প্রকল্প থেকে অর্থ লোপাটের ঘটনা নিয়ে এটি দৈনিক জনকণ্ঠে একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এছাড়া গাজী ওয়্যারস এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও শিল্প মন্ত্রণালয় বিএসইসি কর্তৃপক্ষ এবং দুদকে এই অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করার পর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটি গঠনের পর তদন্ত কার্যক্রম শেষে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত রিপোর্ট শিল্প মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিপোর্টটি বিএসইসি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করার পর এখনও কারও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, গাজী ওয়্যারসকে শক্তিশালীও আধুনিকীকরণ প্রকল্পে কারিগরি ও আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা লোপাট সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত হয়। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাপকহারে পরিচালিত হচ্ছে, যা দিনের আলোর মতো দৃশ্যমান। ফলে, সরকারের ভাবমূর্তিও সর্বমহলে আলোচিত। তবে কোন কোন উন্নয়ন কার্যক্রমে দুর্নীতিবাজদের বেপরোয়া তৎপরতা সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর্থিক দুর্নীতির বড় একটি ঘটনা সরকারী প্রতিষ্ঠানের। চট্টগ্রামে বিএসইসির (বাংলাদেশ স্টিল এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন) প্রতিষ্ঠিত ও নিয়ন্ত্রিত গাজী ওয়্যারস লিমিটেডকে শক্তিশালী ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পে বড় ধরনের কারিগরি ও আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ কোটি টাকা লোপাট করেছে দুর্নীতিবাজ শক্তিশালী একটি চক্র। এ ঘটনায় সংস্থার বিভিন্ন পর্যায় থেকে অভিযোগের পর শিল্প মন্ত্রণালয় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে, যার প্রধান হলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ জাফর উল্লাহ। তদন্ত শেষে অর্থ লোপাটের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ৬ জানুয়ারি তদন্ত কমিটি চট্টগ্রামে এসে সরেজমিনে তদন্ত শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা শুরু হয়নি। অর্থ লোপাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের এ ঘটনা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে সংস্থার শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পর্যায় থেকে। দুদকের একটি সূত্র বলেছে, তারা এ সংক্রান্তে একটি অভিযাগ পেয়েছেন। তবে অনুসন্ধানের এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএসইসির এ প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত। এই গাজী ওয়্যারসকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিকীকরণে সরকার সুদবিহীন ৬৯ কোটি টাকা প্রদান করেছে, যা পাঁচ বছর পর সংস্থাটিকে ফেরত দিতে হবে। একনেকে সুদমুক্ত এ ঋণ অনুমোদিত অর্থাৎ এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী) হতে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের কালুরঘাটে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি প্রধানত বিভিন্ন সাইজের তামার তার উৎপাদন করে; যা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার, ফ্যানসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারী এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭২ সালে সরকারী নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আধুনিকীকরণের এই প্রকল্পে সরকার প্রদত্ত প্রাক্কলিত ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক মেশিনারিজ ক্রয় ও ফ্যাক্টরি ভবন নির্মাণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মেশিনারিজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে টেন্ডার ডকুমেন্ট প্রস্তুত থেকে মেশিনারিজ আমদানির পর স্থাপন পর্যন্ত সর্বস্তরে অত্যন্ত কৌশলে দুর্নীতির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে লোকাল এজেন্ট নির্দিষ্ট করে রেখে ওই এজেন্টের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে লুটে নেয়া অর্থ গচ্ছিত রাখা হয়; যার পরিমাণ ১২ কোটি টাকা। অনিয়মের বড় ঘটনাটি হয়েছে জাপানী মেশিনারিজ সরবরাহ দেয়ার শর্ত উপেক্ষা করে তাইওয়ানে নির্মিত যন্ত্রপাতি জাহাজীকরণ করে আনা। বাণিজ্যিক অডিট অধিদফতর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে ‘গাজী ওয়্যারসের এ প্রকল্পে ২০১৯-২০২০ এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে যে, জাপানের তৈরি মেশিনারিজ ও ইক্যুইপমেন্টের পরিবর্তে তাইওয়ানে প্রস্তুতকৃত মেশিনারিজ ও ইক্যুইপমেন্ট ক্রয় করে অনিয়মিত ব্যয় হয়েছে ৪৫ কোটি টাকার বেশি। নিরীক্ষা রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ প্রকল্পের জন্য ২০১৯ সালে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কারিগরি সাব মূল্যায়ন কমিটির সভায় মেসার্স সিকমে ইটালিয়া ইম্পিয়ানটি ভায়া টরিনো, ইতালি এবং মেসার্স ডায়মন্ড প্রজেক্ট কলি জাপানের দরপত্র কারিগরি বিবেচনায় বিবেচিত হয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কারিগরি মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য ও সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স ডায়মন্ড প্রজেক্ট কলি জাপান, ম্যানুফেকচারার কোম্পানি মেসার্স পুরুকুয়া বুশন কলি, জাপান এবং হোকোয়েটসু ইন্ডাস্ট্রিজ কলি জাপানকে ক্রয়াদেশ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। কমিটির সুপারিশক্রমে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ১৯৪তম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানসমূহকে ক্রয়াদেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়।

সূত্র জানায়, কারিগরি সাব মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ ও কোম্পানির বোর্ড সভায় উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে ক্রয়াদেশ দিলেও আদেশের একটি শর্তে কান্ট্রি অব অরিজিন হিসেবে জাপান ও তাইওয়ানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে কৌশলে। এর পর প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২’র আওতায় ৯টি মেশিনারি ও ইক্যুইপমেন্ট আমদানির জন্য ডায়মন্ড প্রজেক্ট কলি জাপানের অনুকূলে ২০২০ সালের ৫ মার্চ এলসি খোলা হয়। এর মধ্যে ৬টি মেশিনারিজ ও ইক্যুইপমেন্ট তাইওয়ান থেকে জাহাজীকরণ করা হয়। ফলে জাপানের পরিবর্তে তাইওয়ান প্রস্তুতকৃত মেশিনারিজ ও ইক্যুইপমেন্ট ক্রয় করায় অনিয়মিত ব্যয় করা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকার বেশি।

সূত্র জানায়, সুবিধাভোগীরা অত্যন্ত কৌশলে পিপিআর-২০০৮ও ভঙ্গ করে টেন্ডার ডকুমেন্ট প্রস্তুত এবং সিপিটিইউ জারিকৃত স্টান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্টে অপ্রয়োজনীয় শর্ত লোকাল এজেন্ট কোয়ালিফিকেশন ক্রাইটেরিয়াতে বাধ্যতামূলক করা হয় এবং স্পেসিফিকেশন তৈরিতে জাপান, জার্মানি, ইইউভুক্ত দেশ, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র স্ট্যান্ডার্ড লেখা হয়। অথচ, পূর্ব নির্ধারিত লোকাল এজেন্ট এবং এর সহযোগী জাপানী ঠিকাদারের মাধ্যমে তাইওয়ানে প্রস্তুতকৃত নিম্নমানের স্বল্পমূল্যের মেশিনারিজ আমদানি করে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এই কারখানায়। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। অথচ প্রকল্প কাজ শেষে দেখা যায়, নিম্নমানের মেশিনারিজগুলো কখনও চালু হয় আবার পরক্ষণেই বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে উৎপাদনে ধস নেমেছে বললে কোন অত্যুক্তি হবে না।

শীর্ষ সংবাদ: