সোমবার ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

অসময়ে শাখায় শাখায় মোচা ও ফুল-পাল্টেছে প্রকৃতি

অসময়ে শাখায় শাখায় মোচা ও ফুল-পাল্টেছে প্রকৃতি
  • শিমুল বৃক্ষ এখন চোখে পড়ে কম

সমুদ্র হক ॥ অসময়ে শিমুলের মোচা ও ফুল ফুটে জানান দিচ্ছে, প্রকৃতি কতটা পাল্টেছে। শিমুল বৃক্ষে পাতা ঝরেছে। সাধারণত ফুল ফোটে আরও পরে, বসন্তের মাতাল সমীরণে। এবার শিমুলের মোচা ও ফুল একসঙ্গেই ফুটছে। বলে দিচ্ছে, অতি নিকটেই বসন্ত। তাহলে কি মাঘের শেষে শীত দৌড় দেবে! তবে পরিযায়ী পাখিরা বুঝতে পারছে। উড়ে এসে বসেছে ন্যাড়া (পাতাঝরা) শিমুল গাছে। অতিথি পাখিদের ডেকে এনেছে শালিক ও দেশের অন্য পাখিরা। শিমুল ফুল ফুটতেই ফুলের মোচা ঠোকর দিয়ে আঠালো রসের স্বাদ নিচ্ছে। দেখা গেল সবুজ দেহে ঠোঁট, মাথায় সিঁদুরে লাল ও গলায় মেরুন রঙের এক অচেনা পাখি। এই পাখি কি পরিযায়ী। দেশে বছরে যত পরিযায়ী পাখি আসে তার ১৯ শতাংশ এই দেশে থেকে যায়। লোকজন বলছে, তাদের কোন এক প্রজাতি হয়ত।

কম শাখা-প্রশাখার দীর্ঘ শিমুল বৃক্ষ এখন চোখে পড়ে কম। যমুনা বিধৌত এলাকা বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও রৌমারিতে শিমুলের বৃক্ষ বেশি। শিমুলের তুলা বেশি মেলে ওই অঞ্চলে। শিমুল তুলার কদর বেশি, দামও বেশি। লাল বর্ণচ্ছটায় মন রাঙানো শিমুল ফুল নিসর্গের আরেক রূপ তুলে ধরেছে। এই সময়টায় বাতাসের মৃদুমন্দ তালে কোন প্রকৃতিপ্রেমী পথিক গাছের শাখায় তাকিয়ে শিমুল দেখে লতা মঙ্গেশকরের গান গাইতে পারেন ‘ও পলাশ ও শিমুল কেন এ মন মোর রাঙালে...।’ বাঙালী জীবন সংস্কৃতির আবাহনে শিমুল,পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার লাল আভা হৃদয় রাঙিয়ে দেয়। মানব জীবনের কোন অধ্যায়ে মধুময়তায় দীর্ঘ এই গাছ ও লাল শিমুল আবেগকে ছন্দায়িত করে তোলে।

বাংলার এই মাটিতে শিমুলের আগমন বহুকাল আগে। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে উত্তর অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইন্দোনেশিয়া হয়ে উপমহাদেশের বাংলাদেশে। উদ্যানতত্ত্ববিদ মাসুদুর রহমান জানালেন, গোড়ায় ৩ মিটার ব্যাসের ১৮ থেকে ২৫ মিটার উচ্চতার কম শাখা-প্রশাখার এই গাছে শীতে যৌগিক পাতা ঝরে। ফাল্গুনের মধ্যভাগ থেকে চৈত্র পর্যন্ত ১০/১২ সেন্টিমিটার লম্বা লাল বর্ণের ফুল ফোটে। শিমুলের ইংরেজী নাম সিল্ককটন। বৈজ্ঞানিক নাম বোমবাক্স সিইবা। মালভেসি গোত্রভুক্ত। বসন্তে ফুল ফুটে বৈশাখে ঠেকে। এবার শীতেই ফুল ফুটেছে। মোচা আকৃতির ফল ফেটে শিমুল তুলা বের হয়ে ছোট্ট বীজসহ বাতাসে উড়ে অনেকদূরে পড়ে। ট্রপিক্যাল জাতীয় শিমুলগাছের ফুলে থাকে স্বাদু তরল পদার্থ। পিপাসা মেটাতে অনেক পাখি ট্রানজিট হয়ে বসে এই গাছে। ফল খেয়ে উড়ে যায় অনেকটা দূরে। পাখির বিষ্ঠা থেকে বীজ পড়ে সেখানেই গজিয়ে ওঠে শিমুল।

একটা সময় দেশে শিমুল তুলার কদর ছিল। নরম বালিশ ও তোশক বানাতে শিমুল তুলাই অগ্রাধিকার পেত। বর্তমানে শিমুলের গাছ কমে যাওয়ায় শিমুলের তুলার দামও বেড়েছে। একটি বড় শিমুল গাছ হতে মৌসুমে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি তুলা মেলে।

বগুড়ার সোনাতলার রানীরপাড়া গ্রামের সালজার জানালেন, সাধারণত চৈত্রের শেষে মোচা কেটে ঘরের আঙিনায় দুই/তিন দিন রোদে শুকিয়ে তুলা বের করা যায়। এবার মোচা আগে এসেছে। তিনি বুঝতে পারছেন না শিমুলগাছের ফুল ও ফলের এত পরিবর্তন কেন!

উদ্যানতত্ত্ববিদ রহমান শিমুলের ইতিহাস জানালেন। ন্যামইউয়েতের রাজা ফিউতো খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে হ্যান শাসনামলে সম্রাটকে খুশি করার জন্য শিমুল ফুলের মালা গেঁথে দিয়েছিলেন। সম্রাট এই ফুলের মালা দেখে অভিভূত হয়ে রাজ্যে উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। এমন ইতিহাসে এর উল্টো দিকও আছে। ত্রিনিদাদ এ্যান্ড টোবাগোতে লোকাচার ও লোকগাথায় শিমুলগাছকে ‘ক্যাসেল অব দ্য ডেভিল’ (শয়তানের দুর্গ) বলা হয়। ওদের লোকগাথার সারমর্ম হলোÑ কোন এক কাঠুরে গভীর জঙ্গলে বড় শিমুলগাছের মধ্যে বাজিল নামের এক দৈত্যকে মেরে আটকে রেখেছিলেন। দৈত্য এখনও ওই গাছের মধ্যে আছে। শিমুলকে নিয়ে এসবই ভিন দেশের মজার কল্পকাহিনী।

এসব কল্পকথাকে ছাড়িয়ে বিজ্ঞানের বাস্তবতায় যা মেলে তা অবাক হওয়ার মতো। শিমুলগাছের কা-ের ছাল, বাকল, কচি গাছের মূল ও শিকড়ের রস, বীজের তেল ভেষজ গুণাগুণে অসাধারণ। ড. তপন কুমার দে লিখেছেনÑ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ফোঁড়া, ব্যথা, পোকার কামড়, প্লিহার ব্যথা, স্ত্রী রোগ, পুরুষের শুক্র স্বল্পতা বাড়ানো, দেহের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়াসহ ১৬ ধরনের রোগের ওষুধ হিসেবে ভাল কাজ করে। শিমুলের আঠা প্রসাধন সামগ্রী, আইসক্রিম বড় করা ও বই বাঁধাইয়ের কাজে ব্যবহার হয়। শিমুলের কাঠ নরম। প্যাকিং বাক্স, দেয়শলাই, কাগজের মন্ড তৈরি, প্লাইউড হিসেবে ব্যবহার হয়।

শিমুলের এত গুণাগুণ। তারপরও দেশের কোন গ্রামে শিমুলকে নিয়ে কুসংস্কার আছে। তবে, বিজ্ঞানের এই যুগে বর্তমান তারুণ্য কোন কুসংস্কারে আমল তো দেয়-ই না, উল্টো কল্পকথা শুনে বেশ মজাই পায়। মধ্যবয়সীরা জীবনের কোন অধ্যায়ের স্মৃতির পাতা মেলে ধরে ফেলে আসা দিনগুলোকে কাছে টেনে কিংবদন্তির শিল্পী লতার গানের সুর ধরে ‘ও পলাশ ও শিমুল কেন এ মন মোর রাঙালে, জানি না আমার এ ঘুম কেন ভাঙালে/ যার পথ চেয়ে দিন গুনেছি আজ তার পদধ্বনি শুনেছি/ও বাতাস কেন আজ বাঁশি তব বাজায়ে/দিলে তুমি এই হৃদয় সাজায়ে...।’

শীর্ষ সংবাদ:
কালোবাজারি চলবে না ॥ তালিকা নিয়ে মাঠে নামছে রেল পুলিশ         বুঝেশুনে উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা নিতে হবে         বিএনপিকে নিয়ম মেনেই নির্বাচনে আসতে হবে ॥ কাদের         ঢাকায় আইসিসি প্রধানের ব্যস্ত দিন         দুদুকের মামলায় হাজী সেলিম কারাগারে         সিলেট নগরীর পানি নামছে ॥ সুনামগঞ্জ হাওড়বাসীর দুর্ভোগ         দুই সন্তানসহ স্ত্রী হত্যা ॥ স্বামী আটক         বিশ্বের সবচেয়ে দামী আম চাষ হচ্ছে দেশে         সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণা ॥ জামাই-শ্বশুর আটক         দেশে কালো টাকা ৮৯ লাখ কোটি, পাচার ৮ লাখ কোটি         সব ব্যাংকারদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক         সরকার পরিবর্তনের একমাত্র উপায় নির্বাচন ॥ কাদের         ভারত থেকে গমের জাহাজ এলো চট্টগ্রাম বন্দরে, কমছে দাম         কারাগারে হাজী সেলিম, প্রথম শ্রেণির মর্যাদা         অর্থনীতি সমিতির ২০ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ         কোভিড-১৯ : ভারত-ইন্দোনেশিয়াসহ ১৬ দেশের হজযাত্রীদের দুঃসংবাদ         বাইডেনসহ ৯৬৩ মার্কিন নাগরিকের রাশিয়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         পেছাচ্ছে না ৪৪তম বিসিএস প্রিলি         পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র অবকাঠামো করা যাবে না ॥ প্রধানমন্ত্রী         রাজধানীর গুলশানে দারিদ্র্য কম, বেশি কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে