সোমবার ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

ইসি নিয়োগ বিল আজ সংসদে উঠছে

  • এ মাসেই সার্চ কমিটি

শরীফুল ইসলাম ॥ আজ রবিবার জাতীয় সংসদে উঠছে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ বিল-২০২২’। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য দ্রুত আইন পাস করতে আজ সংসদে বিলটি তোলার জন্য দিনের কার্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিল পাসের পর নতুন আইনের বলে এ মাসেই রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ সংসদে উত্থাপন করবেন। এর পর বিলটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিলের ওপর সুপারিশ সংবলিত রিপোর্ট পেশের পর তা গৃহীত হওয়ার পর আইনমন্ত্রী বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করবেন। কণ্ঠ ভোটে বিলটি পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি বিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে। পরে এ আইনের বলে সার্চ কমিটি গঠন এবং সার্চ কমিটির সুপারিশ করা তালিকা থেকে রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করবেন।

প্রস্তাবিত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ বিল-২০২২’ এ উল্লেখ করা হয়েছে- রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের শূন্য পদে নিয়োগদানের জন্য এ আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করার জন্য ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করবেন। এই ৬ সদস্যের মধ্যে এক নম্বরে থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের একজন বিচারপতি, তিনি কমিটির চেয়ারম্যান হবেন। এরপর থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক এবং বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত ২জন বিশিষ্ট নাগরিক।

৬ সদস্যের সার্চ কমিটির মধ্যে কমপক্ষে ৩ জনের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হবে। উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকবে। সার্চ কমিটি গঠনের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করবে।

সার্চ কমিটি যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করার উদ্দেশে রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের নিকট হতে নাম আহ্বান করতে পারবে। সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিযোগদানের উদ্দেশে প্রতিটি শূন্য পদের জন্য ২ জন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সার্চ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে।

প্রস্তাবিত বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার কারা হতে পারবেন এবং তাদের যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। বয়স কমপক্ষে ৫০ বছর হতে হবে। কোন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী, আধাসরকারী বা বেসরকারী বা বিচার বিভাগীয় পদে কমপক্ষে ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রস্তাবিত বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হওয়ার অযোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আদালতের মাধ্যমে যদি কেউ অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষিত হন, দেউলিয়া ঘোষণার পর দেউলিয়া অবস্থা থেকে মুক্ত না হন, অন্য কোন দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করেন বা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন, নৈতিক স্খলন এবং সেক্ষেত্রে যদি ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দু’বছরের কারাদ-ে দ-িত হন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দ-িত হনÑ তিনি এ কমিটির সদস্য হতে পারবেন না। এ ছাড়া কেউ রাষ্ট্রীয় পদে থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার হতে পারবেন না।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর বিধি প্রণয়ন করা যাবে। এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে আবশ্যক হলে বিধি প্রণয়ন করবে। এ আইনের বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতোপূর্বে গঠিত সার্চ কমিটি ও এ কমিটি সম্পাদিত কার্যাবলী এবং উক্ত সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বৈধ ছিল বলে গণ্য হবে এবং উক্ত বিষয়ে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

এদিকে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে সরকারের আইন প্রণয়নের বিষয়টি নিয়ে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন শনিবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করতে সরকার যে আইনটি করেছে তা জাতির সঙ্গে আরেকটি নাটক। আমরা আগেই বলেছি, নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তাই আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কখনও কোন নির্বাচনে যাবে না। কেননা, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। আরেক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই আইনে সরকার নির্বাচন কমিশনের আগের কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়ে ইনডেমনিটি সুবিধা দিচ্ছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের বিগত কর্মকা-ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এভাবে সরকার কমিশনের বেআইনী কাজের বৈধতা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আইন নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে অতিসম্প্রতি এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিসহ একটি চিহ্নিত মহল নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের মহৎ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে। দেশের বিশিষ্টজন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহ যেখানে সংবিধানের নির্দেশনা মেনে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন সেখানে বিএনপি ও তাদের দোসর, দেশবিরোধী অপশক্তি দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য প্রদান করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনরার ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ বিল-২০২২’ বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে সুপারিশ আকারে সংসদের বৈঠকে উঠবে এবং সংসদীয় বিধান অনুযায়ী আলোচনার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস হবে। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যগণও এ বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। অথচ গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার না মেনে পূর্ব নির্ধারিত দুরভিসন্ধি অনুযায়ী বিএনপি নেতারা এই আইন নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন করতে জাতীয় সংসদে বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে। সময় হাতে কম থাকায় এ মাসের মধ্যেই আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এর পর এ আইনের বলে ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিদের সার্চ করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের সুপারিশ করবেন। এসব প্রক্রিয়া শেষ করে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তায় গঠন করা হবে নতুন নির্বাচন কমিশন। ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশন ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর আগে ২০১৭ সালে ৫ বছরের জন্য গঠন করা হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে যচ্ছে এ কমিশনের মেয়াদ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে বিগত কয়েক মাস ধরেই বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও কিছু নির্বাচন বিশেষজ্ঞ সোচ্চার হয়ে ওঠে। সরকারী দল আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি ভাল নির্বাচন কমিশন গঠন হবে বলে আগে থেকেই বলে আসে। তবে আওয়ামী লীগ আগে আইন করার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ বললেও পরে অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতির সংলাপে গিয়ে আইন করার বিষয়ে প্রস্তাব করে। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়া অন্যান্য দলও আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করে।

২০১২ সালে জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে সার্চ কমিটির মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনসহ অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেয়া হয়। আর ২০১৭ সালে বর্তমান নির্বাচন কমিশনও সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন পাস করা হবে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের বিষয়ে এতদিন তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। বর্তমান সরকার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েও এক পর্যায়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ প্রান্তে চলে আসায় শেষ পর্যন্ত আইনটি করার বিষয়ে গতি স্লথ করে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশী কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি উঠলে সরকার এ বিষয়ে আবার গতি বাড়ায়। এ কারণে কিছুটা তাড়াহুড়া করেই ১৭ জানুয়ারি আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপন ও অনুমোদন করা হয়।

সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশে একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলীসাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদান করবেন। সংবিধানের ১১৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন।

শীর্ষ সংবাদ:
কালোবাজারি চলবে না ॥ তালিকা নিয়ে মাঠে নামছে রেল পুলিশ         বুঝেশুনে উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা নিতে হবে         বিএনপিকে নিয়ম মেনেই নির্বাচনে আসতে হবে ॥ কাদের         ঢাকায় আইসিসি প্রধানের ব্যস্ত দিন         দুদুকের মামলায় হাজী সেলিম কারাগারে         সিলেট নগরীর পানি নামছে ॥ সুনামগঞ্জ হাওড়বাসীর দুর্ভোগ         দুই সন্তানসহ স্ত্রী হত্যা ॥ স্বামী আটক         বিশ্বের সবচেয়ে দামী আম চাষ হচ্ছে দেশে         সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণা ॥ জামাই-শ্বশুর আটক         দেশে কালো টাকা ৮৯ লাখ কোটি, পাচার ৮ লাখ কোটি         সব ব্যাংকারদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক         সরকার পরিবর্তনের একমাত্র উপায় নির্বাচন ॥ কাদের         ভারত থেকে গমের জাহাজ এলো চট্টগ্রাম বন্দরে, কমছে দাম         কারাগারে হাজী সেলিম, প্রথম শ্রেণির মর্যাদা         অর্থনীতি সমিতির ২০ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ         কোভিড-১৯ : ভারত-ইন্দোনেশিয়াসহ ১৬ দেশের হজযাত্রীদের দুঃসংবাদ         বাইডেনসহ ৯৬৩ মার্কিন নাগরিকের রাশিয়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         পেছাচ্ছে না ৪৪তম বিসিএস প্রিলি         পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র অবকাঠামো করা যাবে না ॥ প্রধানমন্ত্রী         রাজধানীর গুলশানে দারিদ্র্য কম, বেশি কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে