সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

বেগম জিয়া যে সুবিধা পাচ্ছেন তা প্রধানমন্ত্রীর উদারতায়

  • আওয়ামী লীগের বৈঠকে কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আশপাশের লোকেরা সব বিএনপির ও তাঁর পরিবারের। স্লো পয়জনিং যদি করে থাকে তাহলে পাশের লোকেরাই করতে পারে। এখানে আওয়ামী লীগকে জড়াচ্ছেন কেন? শেখ হাসিনা কেন হুকুমের আসামি হবেন? বেগম জিয়াকে আপনারা মাইনাস করার জন্য স্লো পয়জনিং করছেন কিনা বা সেই রকম কিছু করবেন বলেই কি ‘উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপাতে আওয়ামী লীগের ওপর, শেখ হাসিনার ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছেন?

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমন্ডলীর বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছেন, বেগম জিয়াকে নাকি স্লো পয়জনিং করা হচ্ছে। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে চাই। দন্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আজকে যে সুবিধা গ্রহণ করছেন বেগম জিয়া, এটা প্রধানমন্ত্রীর উদারতার কারণে। তাঁর পাশে থাকেন আপনারা, ফখরুল সাহেবরা। তাঁকে যে খাওয়ায় সে পরিবারেরই লোক। তাঁর আশপাশে সর্বক্ষণ ঘোরাফেরা করে বিএনপির লোকেরা। আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের কেউ তাঁর পাশে থাকে না। তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের চিকিৎসকরাই চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফলে হুকুমের আসামি শেখ হাসিনা হবে না, হলে সেটা ফখরুল সাহেব, আপনারা হবেন।

মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বেগম জিয়ার জন্য এখন এত মায়াকান্না কাঁদেন, কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করেন। তাঁর জন্য দেখবার মতো কার্যকর ও অর্থবহ একটা মিছিল রাজপথে করার দুঃসাহস আপনাদের ছিল না। এটা দেখাতে পারেননি। কোন্ মুখে তাঁর জন্য মায়াকান্না কাঁদছেন? লজ্জা করে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারের কোন দায় নেই। কোন কিছু হলে এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে। মির্জা ফখরুল সাহেবদের নিতে হবে। এসময় খালেদা জিয়া চিকিৎসার নামে কোন ইস্যু সৃষ্টি করে শান্তি শৃঙ্খলাভঙ্গ, নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন সেতুমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, দেশের সংবিধান ও আইন দ্বারা দেশ পরিচালিত হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক নিয়মনীতির মধ্যে যতটুকু সম্ভব তার সবটুকু সুযোগ বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার মানবিক হৃদয়ের কল্যাণে একজন দ-প্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়া বাসায় থাকছেন। দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ পাচ্ছেন। হতে পারেন খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আইনের চোখে তিনি একজন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁর বর্তমান পরিচয় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

বিএনপি দেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার জন্ম দিয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর উদরতাকে প্রতিহিংসা বলতে দ্বিধা করছেন না। বিএনপির কৃতজ্ঞতাবোধ নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তোলে। কিন্তু এই দেশের রাজনীতিতে তারা প্রতিহিংসার জন্ম দিয়েছেন। এ সময় তিনি ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-, বিএনপির আমলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে মির্জা ফখরুল সাহেব বড় বড় কথা বলেন। দ্বার্থহীন ভাষায় বলতে চাই, কারো চিকিৎসার নামে জনগণকে জিম্মি করা যাবে না। কোন ইস্যু সৃষ্টি করে শান্তি শৃঙ্খলাভঙ্গ, নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ তা প্রতিহত করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দেশবিরোধী এই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে প্রতিহত করতে সারাদেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে। যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে, আমরা তাদের সমুচিত জবাব দেব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক ও আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খানম, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, কৃষি সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান।

শীর্ষ সংবাদ: