ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

ভারতে দুই ডোজ নিয়েও করোনায় আক্রান্ত ৪০ হাজারের বেশি

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ১১ আগস্ট ২০২১

ভারতে দুই ডোজ নিয়েও করোনায় আক্রান্ত ৪০ হাজারের বেশি

অনলাইন ডেস্ক ॥ ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় করোনাভাইরাসের টিকার উভয় ডোজ সম্পূর্ণ করার পরও ৪০ হাজারের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা একবার সংক্রমিত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং টিকা নেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করার পর করোনায় আক্রান্ত হওয়া নিয়ে তীব্র উদ্বেগের মাঝে কেরালা সরকারকে আক্রান্তদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ভ্যাকসিন বা পূর্ববর্তী সংক্রমণের মাধ্যমে সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য ভাইরাসটি যদি পর্যাপ্তভাবে রূপ বদল করে ফেলে, তাহলে তা নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে। তবে কেরালায় টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করার পর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার এই ঘটনায় দ্রুত ছড়াতে সক্ষম অতি-সংক্রামক ধরন ডেল্টা কোনও জ্বালানি জুগিয়েছে কি-না সেটি এখনও জানা যায়নি। করোনার অতি-সংক্রামক এই ধরন প্রথম ভারতে শনাক্ত হয়; পরে এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কেরালায় টিকা নেওয়ার পর যে ৪০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই রাজ্যের পাঠানামথিট্টা জেলার। এই জেলায় টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৯৭৪ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৪২ জন। পুনঃসংক্রমণের ঘটনা বিরল হলেও অসম্ভব নয়। কেরালার কয়েকটি জেলায় এই ভাইরাসে পুনঃসংক্রমিত হওয়ার বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে তারা বলেছেন, প্রথম সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষায় টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া যারা ইতোমধ্যে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের জন্যও টিকা গুরুত্বপূর্ণ। করোনার নতুন কোনও ভ্যারিয়েন্টের কারণে টিকা নেওয়ার পর সংক্রমিত হওয়ার এই ঘটনা ঘটেছে কি-না, তা জানতে আক্রান্ত সবারই নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হবে বলে সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্টের উত্থানের সম্ভাবনা যাচাইয়ে ৪০ হাজার নমুনারই শতভাগ জিনোম সিকোয়েন্সিং করার পরিকল্পনা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য কেরালার রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করছে বলে জানিয়েছেন তারা। আগামী ১৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল কেরালা সফরে যেতে পারেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের এই প্রদেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দৈনিক ২০ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হচ্ছে। মঙ্গলবারও কেলারায় এই ভাইরাসে নতুন করে ১৩ হাজার ৪৯ জন আক্রান্ত এবং ১০৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার এই রাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২১ হাজার ১১৯ জন এবং মারা গেছেন ১৫২ জন। সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে।
×