সোমবার ১০ কার্তিক ১৪২৮, ২৫ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তে রেকর্ড

করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তে রেকর্ড
  • ২৪৭ জনের প্রাণহানি, আক্রান্ত ১৫,১৯২

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২১ জনে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯২ জন। এটিও একদিনে দেশে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।

সোমবারের রেকর্ড শনাক্ত মিলে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনে। এর আগে গত ১৩ জুলাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।

সোমবারে রেকর্ড সংক্রমণ ঘটলেও নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রায় ৫১ হাজার মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৩১৬ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৫০ হাজার ৯৫২টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৫ লাখ ৬ হাজার ২৩৩টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে রবিবার ২২৮, শনিবার ১৯৫, শুক্রবার ১৬৬, বৃহস্পতিবার ১৮৭, বুধবার ১৭৩ ও মঙ্গলবার ২০০ জনের মৃত্যু হয়। গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়। এদিন মৃত্যু হয় ২০১ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৫২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৯ হাজার ৯২৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই ৭২ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৬১, রাজশাহীতে ২১, খুলনায় ৪৬, বরিশালে ১২, সিলেটে ১৪, রংপুরে ১৬ এবং ময়মনসিংহে ৫ জন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৪১ জন পুরুষ এবং ১০৬ জন নারী। এদের মধ্যে ২৬ জন বাসায় মারা গেছেন। ১ জনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৩৪০ জন এবং নারী ৬ হাজার ১৮১ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৩৭ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৫৯, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৩০, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১৬, ২১ থেকে ৩০ বছরের ৩ এবং ১১ থেকে ২০ বছরের ২ জন মারা গেছেন।

বিভাগভিত্তিক করোনা সংক্রমণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে মোট নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৯৫৩। এর মধ্যে মহানগরসহ ঢাকা জেলাতেই ৬০৪০ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৯৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৬৭ জনের নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯০৮ জন। রংপুর বিভাগে ৬৭৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। খুলনা বিভাগে ১১৮৬ জনের নতুন করোনা হয়েছে। বরিশাল বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৪১ জনের। এছাড়া সিলেট বিভাগে নতুন করোনা হয়েছে ৫৬৪ জনের।

রাজধানীর কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল বলে পরিচিত ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালেও ফাঁকা আইসিইউয়ের সংখ্যা কমছে। এই হাসপাতালেই কোভিড রোগীর চিকিৎসার জন্য আইসিইউয়ের সংখ্যা বেশি। কিন্তু সেখানেও প্রতিদিনই ফাঁকা আইসিইউয়ের সংখ্যা কমছে। ঢাকার বাইরের রোগীরা অন্য কোভিড হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা না থাকায় রোগীরা এখন ডিএনসিসি হাসপাতালে আসছেন। সেখানে আইসিইউয়ের পাশাপাশি সাধারণ শয্যাতেও রোগী বাড়ছে।

বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। দেশে করোনার ডেল্টা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ এবং করোনায় মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। ২১ জুলাই ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়। ঈদ-উল-আজহার ছুটি শেষে গত শুক্রবার থেকে ফের কঠোর বিধি-নিষেধে আরোপ করা হয়েছে সারাদেশে। আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে এই কঠোর বিধি-নিষেধ কর্মসূচী বাস্তবায়িত হবে।

শীর্ষ সংবাদ: