শনিবার ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্রে করোনায় গণমাধ্যমের লড়াই

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পেশাগত কারণেই যে কোন সঙ্কটে তাদের থাকতে হয় সামনের সারিতে। ঘটনাপ্রবাহ মেলে ধরতে হয় সংবাদপত্রের পাঠক বা টিভি দর্শকের কাছে। উপস্থাপন করতে হয় যুদ্ধ, সংগ্রাম, লড়াই কিংবা দুর্যোগের প্রকৃত তথ্য থেকে আলোকচিত্র। কেউ বা লিখে আবার কেউ ছবি তুলে পালন করেন নিজ দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে কখনও বা নেমে আসে জীবনের ঝুঁকি। তাই ভীতিকে পাশ কাটিয়ে ছুটতে হয় খবরের সন্ধানে। করোনাভাইরাস নামের চলমান মহামারীতেও তেমন নির্ভীকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সাংবাদিকরা। গণমাধ্যমের সেই লড়াইয়ের দৃশ্যকল্প এবার উঠে এলো প্রদর্শনীর মাধ্যমে। সোমবার থেকে শুরু হলো ‘চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্রে করোনায় গণমাধ্যমের লড়াই’ শীর্ষক প্রদর্শনীটি। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনালয়ে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

আয়োজনে ঠাঁই পেয়েছে চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মোঃ মনিরুজ্জামান, গুলশান হোসেন ও তাহমিনা হাফিজ লিসার আঁকা চিত্রকর্ম এবং নাসির আলী মামুনের ক্যামেরাবন্দী আলোকচিত্র। এছাড়াও রয়েছে ছয় আলোকচিত্রীর তোলা ছবি। বরেণ্য চিত্রকর শাহাবুদ্দিন আহমেদ এঁকেছেন ‘লড়াই’ ও ‘ঝুঁকি’ শিরোনামে ছবি। লড়াই নামের চিত্রকর্মে এক হাতে ক্যামেরা নিয়ে নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অপর হাতে দুর্যোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন এক সংবাদকর্মী। ঝুঁকি শীর্ষক চিত্রকর্মে উঠে এসেছে ছোট ট্রাইপটে ক্যামেরা বসিয়ে সংবাদ সংগ্রহের গল্প। মোঃ মনিরুজ্জামানের আঁকা চিত্রকর্মের শিরোনাম ‘অবিচল’। তাহমিনা হাফিজ লিসার অঙ্কিত ‘সম্মুখ যোদ্ধা’ নামের ক্যানভাসে উঠে এসেছে গণমাধ্যম কর্মীদের সংগ্রামের চিত্র। নাসির আলী মামুনের আলোকচিত্রের শিরোনাম ‘জার্নালিস্ট উইথ করোনা ইনফ্রন্ট অব এ্যা হসপিটাল হোয়ার এভরিবডিজ ডিজএ্যাপেরাড ইন্টারভিউইং এ্যা মাউস’।

গ্যালারির এক কোণায় দেখা মেলে করোনায় প্রাণ হারানো সাঁইত্রিশ সাংবাদিকের মধ্যে ৩১ জনের ছবি। সবার ওপরে রাখা হয়েছে প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর ছবি। এছাড়া প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষের লড়াইয়ের চিত্র মেলে ধরা আলোচিত কিছু আলোকচিত্র। একইসঙ্গে রয়েছে বিজেসির সদস্যদের ক্যামেরায় ধারণকৃত করোনায় কিভাবে গণমাধ্যম কর্মীরা কাজ করেছেন তার কিছু খণ্ডচিত্র।

করোনাকালে গণমাধ্যম কর্মীদের নির্ভীক যোদ্ধা আখ্যা দিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, করোনার শুরু থেকেই ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সাহসিতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন সাংবাদিকরা, সত্যিই তা প্রশংসনীয়। আমি কোন সাংবাদিককে ভীতি নিয়ে হাতগুটিয়ে বসে থাকতে দেখিনি। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছেন, যা আমি কখনও ধারণা করতে পারিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সাংবাদিকেরা যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাদের মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের পাশে যেভাবে দাঁড়ানোর প্রয়োজন ছিল, সেভাবে দাঁড়ায়নি। শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, এই সময় শুধু ব্যবসায়ী দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো ক্যানভাসকে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে সেটি অনুসরণ করা হয়নি। অনেক সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যেটি খুবই দুঃখজনক।

করোনায় দেশে যখন সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হয় তখন পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মী পাশাপাশি সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে হাছান মাহমুদ বলেন, এই করোনাকালে সঠিক সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছানোর কাজে এবং গুজব ও কুচক্রী মহলের নানামুখী ষড়যন্ত্র বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনার শুরুতে যে অপচেষ্টা ছিল; সেগুলোর বিরুদ্ধে মূলধারার সাংবাদিক, মূলধারার গণমাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্যারিস থেকে অনলাইনে যুক্ত হন শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমি গত মে মাসে প্যারিসে চলে আসি। তখন দেখেছি সাংবাদিকদের লড়াই। তারই কিছুটা তুলে আনার চেষ্টা করেছি আমার ক্যানভাসে।

বিজেসির নির্বাহী শাহনাজ শারমিনের উপস্থাপনায় আলোচনায় অংশ নেন জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এনডিসি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা গবেষক ডাঃ সালেহ মাহমুদ তুষার, চিত্রশিল্পী মোঃ মনিরুজ্জামান ও তাহমিনা হাফিজ লিসা, প্রয়াত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকনের স্ত্রী শারমিন সুলতানা রিনা, বিজেসির সদস্য সচিব শাকিল আহমেদ, ট্রাস্টি রাশেদ আহমেদ, নির্বাহী মানস ঘোষ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বিজেসির ট্রাস্টি সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।

২৫ নবেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শীর্ষ সংবাদ: