শনিবার ৯ কার্তিক ১৪২৭, ২৪ অক্টোবর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

মুজিববর্ষে গৃহহীনদের ৯ লাখ ঘর দেবে সরকার

মুজিববর্ষে গৃহহীনদের ৯ লাখ ঘর দেবে সরকার
  • দ্বিতীয় ধাপের প্রকল্প অনুমোদন

তপন বিশ্বাস ॥ মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সারাদেশে প্রায় নয় লাখ ঘর নির্মাণ করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপে নির্মাণ করা হচ্ছে ৫৯ হাজার ৮০৩টি ঘর। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ফেজের ঘর নির্মাণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী সোমবার অনুমোদন দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টিআর, কাবিখা প্রকল্প সীমিত করে সেই টাকা দিয়ে সারাদেশে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়। দুর্যোগ প্রশমন এই ঘর নির্মাণে প্রথম পর্যায়ে সারাদেশে ইতোমধ্যে ২৮ হাজার ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। মূলত মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না-প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশের প্রেক্ষিতে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মধ্যে এই গৃহনির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়। কিন্তু মাঠ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং কিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কারণে গ্রামীণ পর্যায়ের কিছু মধ্যবিত্তরা এই ঘরের মালিক বনে যান। এর প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় ফেজে তালিকা তৈরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়।

দ্বিতীয় ফেজের এই গৃহনির্মাণে ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘর হবে দুই বেডরুম বিশিষ্ট। সঙ্গে থাকবে একটি পাঁচ ফুট চওড়া বারান্দা, টয়লেট, ইউটিলিটি ও কিচেন রুম। ঘরটি হবে টিনের চাল বিশিষ্ট। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় ধাপের পর পর্যায়ক্রমে ঘর নির্মাণ প্রকল্প চলতে থাকবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না। আমরা তা বাস্তবায়ন করব। এবার শুধু গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, খাস জমির ব্যবস্থা করতে। তিনি বলেন, প্রকল্পের মোট ঘর হবে ৮ লাখ, ৮২ হাজার ৩৩টি।

চলতি বছর আওয়ামী লীগ আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘মুজিববর্ষে বাংলাদেশের কোন মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। আমরা মুজিববর্ষ উদযাপনে অনেক কর্মসূচীর চিন্তা করছি। জাতির পিতা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ যেন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান পায়। তার স্বপ্ন ছিল একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এজন্য তিনি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। এখনও আমাদের দেশে নদীভাঙ্গনে মানুষ গৃহহারা হয়। দেশে কিছু মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়, যারা ভূমিহীন, গৃহহীন। আমি চাই মুজিববর্ষ আমরা উদযাপন করছি, এ মুজিববর্ষের ভেতরেই গৃহহীনদের ঘর করে দেব। বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না।’ প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে সরকার জাতির পিতার জš§শতবর্ষ উদযাপনে ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করে। আর তার জš§ তারিখ অর্থাৎ ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে মুজিববর্ষের কর্মকা-। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জš§ নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

জানা গেছে, গত ২ মার্চ মন্ত্রিসভার অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় জাতির পিতার জš§শতবার্ষিকী উদযাপনে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে মুজিববর্ষের কর্মসূচী গ্রহণের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ‘অহেতুক’ নতুন কর্মসূচী না নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নিজেদের বাজেট থেকে মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে এমন কর্মসূচী নেয়ার নির্দেশনা দেন। এরপরই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয় হতদরিদ্রদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি দেয়ার প্রকল্পটি মুজিববর্ষ উপলক্ষে কর্মসূচী হিসেবে ঘোষণা দেয়া যেতে পারে। তাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিটি গ্রামের একজন করে মোট ৬৮ হাজার ৩৮টি পাকাবাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের কর্মকর্তাদের নিয়ে গত ৩ মার্চ একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে এটি চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে জানানো হয় দেশে ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি গৃহহীন পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারকেই পাকাবাড়ি করে দেয়া হবে। এটিই মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এক তলাবিশিষ্ট দুই বেডের এই পাকা বাড়িতে থাকবে ড্রয়িংরুম, বারান্দা, টয়লেট, কিচেনসহ একটি পরিবারের বসবাসের উপযোগী বাসগৃহ। আপাতত এ প্রকল্পে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের টিআর-কাবিখার কর্মসূচীর সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস বাবদ ৫০ শতাংশ খরচ স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের অর্থও সমন্বয় করে এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগে এসব প্রকল্পের ঘরগুলো ভিন্ন ডিজাইনের হতো। এখন একই ডিজাইনের ঘর নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

করোনাভাইরাস আপডেট
বিশ্বব্যাপী
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
৪২৫৪৯৩৮৩
আক্রান্ত
৩৯৭৫০৭
সুস্থ
৩১৪৫৬২৭৯
সুস্থ
৩১৩৫৬৩
শীর্ষ সংবাদ:
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের দৃঢ় ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী         দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৯৪         বনানীতে স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত রফিক-উল হক         দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের অবদান অনস্বীকার্য় ॥ রাষ্ট্রপতি         ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক         করোনায় পুলিশের কার্যক্রম প্রশংসনীয় ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         অভয়ারণ্যে ডলফিন বেড়েছে ৫৫ শতাংশ         নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে রোড সেফটি অডিট ॥ সেতুমন্ত্রী         দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত নিম্নচাপ, নামল সতর্ক সংকেত         সেবাই জনপ্রতিনিধিদের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ॥ শিক্ষামন্ত্রী         ডিএসসিসি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের উন্নয়ন অংশীদার ছিল, আছে ও থাকবে : মেয়র তাপস         আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সকল মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হবে ॥ অর্থমন্ত্রী         ফাঁড়িতে রায়হানের মৃত্যু ॥ আরেক পুলিশ সদস্য গ্রেফতার         আগামীকাল থেকে ফিরতে পারেন সেন্টমার্টিনের পর্যটকরা         গাজীপুরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি মডার্ন স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন         শীতকালে করোনায় আমেরিকায় ভয়াবহ অবস্থা হবে ॥ গবেষণা         আগুনমুখায় স্পিডবোট ডুবিতে নিখোঁজ ৫ জনেরই লাশ উদ্ধার         ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে: যুক্তরাষ্ট্র         রেমডেসিভিয়ারকে সম্পূর্ণ ছাড়পত্র দিল ট্রাম্প প্রশাসন         নির্বাচিত হলে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেবেন বাইডেন