ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

প্রার্থীতা বাতিল সংক্রান্ত ইসির প্রস্তাব আত্মঘাতি- রিজভী

প্রকাশিত: ১৭:৪১, ২৮ আগস্ট ২০২০

প্রার্থীতা বাতিল সংক্রান্ত ইসির প্রস্তাব আত্মঘাতি- রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রার্থীতা বাতিল সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাব আত্মঘাতি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএরনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন (রানেসা) আয়োজিত সাবেক ছাত্রদল নেতা দিলরুবা শওকতের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ৯১(ই) ধারা অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিলের সরাসরি ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের কাছে। সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আইন-২০২০ এর খসড়া তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার কমিশনের বৈঠকে ৩৪টি সুপারিশ সম্বলিত খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশন তার ক্ষমতাটাকে কেটে নিয়ে অর্থাৎ কারো প্রার্থীতা বাতিল করতে হবে না রাখতে হবে সেটার জন্য এখন আলাদা পূর্ণাঙ্গ আইন করার জন্য ইসি একটি রেজুলেশন নিয়েছে এবং সেটা এখন যাবে সংসদে, সেখানেই আইন প্রণীত হবে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাটাকে আইন করে সরকার নিজের হাতে রাখবে। প্রয়োজন হলে যদি তার কথা কেউ না শুনে তাহলে তাকে বাদ দেয়া হবে। ওই আইন এমন হবে যে সরকার প্রধান হবেন অখন্ড ক্ষমতার অধিকারী। অর্থাৎ বিএনপি কথা শুনছে না-ওর রেজিস্ট্রেশন বাদ, ওমুক দল কথা শুনবে না-ওর রেজিস্ট্রেশন বাদ। সরকারের কাছে এই ক্ষমতা তুলে দিচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আরও ক’জন কমিশনার। যদিও একজন কমিশনার সেখানে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। রিজভী বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ(আরপিও) ৭২- এর সংশোধন করে কোন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিলের সরাসরি ক্ষমতা বিলুপ্ত করা হচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্র মিন করলে নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সার্বভৌম সত্ত্বা। গণপ্রতিনিত্ব অধ্যাদেশের ৯১(ই) ধারায় আছে, নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী কোনো প্রার্থীর প্রার্থীতা প্রত্যাহার বা বাতিলের ব্যাপারটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। সংবিধানইনির্বাচন কমিশনকে এ দায়িত্ব দিয়েছে। রিজভী বলেন, কেউ কি নিজের স্বাধীনতা নিজে খর্ব করে? তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছায় নিজেদের স্বাধীনতা সরকারের কাছে সমর্পন করছে । নতুন মাত্রায় সরকার সেটা প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করে সরকার একেবারে নতুন আইন করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া সরকার নির্বাচন কমিশনের অধিকারকে খর্ব করে নিজের হাতে রাখতে চাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের ক্ষমতা। রিজভী বলেন, কেউ যদি সরকারের সমালোচনা করে তাহলে জননিরাপত্তা আইনে তাকে আটকিয়ে রাখা হবে। টিআইবি এর প্রতিবাদ করেছে। রিজভী বলেন, দেশে বাকশাল ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। বাকশাল মানে একদলীয় শাসন, বাকশাল মানে অন্যের কোনো কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে না, গণমাধ্যম থাকবে না, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে না। রিজভী বলেন, আমরা একটি ভয়ঙ্কর অসুস্থ পরিবেশের মধ্যে আছি। সুস্থ গণতন্ত্র নেই বলে আমাদের নানাভাবে নানা কৌশলে কথাগুলো বলতে হচ্ছে। কথার মধ্যে যদি কোনও ব্যত্যয় ঘটে তবে নিস্তার নেই। ডিজিটাল আইন আছে, সরকারের অনেক অস্ত্র আছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা একটি অস্ত্র, নানা ধরনের গালাগালি একটি অস্ত্র, ডিজিটাল আইন এটি একটি অস্ত্র। এরপর আরও বড় অস্ত্র আছে বিচারবহির্ভূত হত্যা। প্রয়োজনে বিরোধীদলের কণ্ঠ রুদ্ধ করার জন্য, মিছিল বন্ধ করার জন্য, রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ করার জন্য সরকারের যখন যে অস্ত্র ব্যবহার করা দরকার সেই অস্ত্র তারা ব্যবহার করছে নির্বিঘেœ। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বোধোদয় হয়েছে। তিনি তাদের নেতাকর্মীদের বলেছেন, সাবধান, বেশি বাড়াবাড়ি কইরেন না। কখন যে কি ঘটে যায় বলা মুশকিল। ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আপনাদের পুলিশ বাহিনী আছে অস্ত্র আছে, কিন্তু জনগণ আর আপনাদের নেই। এই যে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতা এটা কেন হয়েছে? আপনারা ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন থেকে এসব কথা বললেই নেতাকর্মীরা অনেকটা সতর্ক থাকতো। আপনারা আশকারা দিয়েছেন। আপনাদের বিবেক তখন নাড়া দেয়নি। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, আমিনুল ইসলাম, মতস্যজীবী দলের নেতা আবদুর রহিম, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবির, এ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন, ইশতিয়াক আহমেদ রাফি প্রমুখ। ##