মঙ্গলবার ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ০৭ জুলাই ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

চট্টগ্রামে সরকারী নির্দেশ মানছে না বেসরকারী হাসপাতালগুলো

চট্টগ্রামে সরকারী নির্দেশ মানছে না বেসরকারী হাসপাতালগুলো
  • করোনা চিকিৎসা

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে আইসিইউ সুবিধার একটি বেড করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য রীতিমতো সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। আইসিইউ সুবিধা পেতে বঞ্চিত হয়ে অধিকাংশ রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এর মূল কারণ সরকারী দুটি হাসপাতালে একেবারে সীমিতসংখ্যক আইসিইউ বেড থাকা, আর অন্যদিকে, বেসরকারী হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে আইসিইউ বেডে রোগী ভর্তি না করানো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতীয়মান করোনা আক্রান্তদের আইসিইউ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামে বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের টলানো যায়নি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনিক পর্যায় থেকে দফায় দফায় নির্দেশনা প্রদান করার পরও বেসরকারী হাসপাতাল ক্লিনিকগুলো করোনা আক্রান্ত রোগীদের আইসিইউ সুবিধা প্রদান থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। সরকারী পর্যায়ে নামমাত্র দেখানোর জন্য করোনা উপসর্গ নিয়ে কিছু রোগী ভর্তি করছে এসব বেসরকারী হাসপাতাল।

চলমান এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পক্ষে জানান দেয়া হয়েছিল, যেসব বেসরকারী ক্লিনিক হাসপাতালে করোনা রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হবে না তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং লাইসেন্স বাতিল করার প্রক্রিয়া নেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে স্পষ্ট যে, বেসরকারী হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে করোনা আক্রান্ত জটিল রোগী যাদের আইসিইউ সুবিধা প্রয়োজন তাদেরও দেয়া হচ্ছে না। ফলে এ জাতীয় রোগীর স্বজনরা চমেক ও জেনারেল হাসপাতালে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু আইসিইউ সুবিধার বেড পেতে ব্যর্থ হয়ে অনেকরই প্রাণ যাচ্ছে। অথচ, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শুরুতে যেসব বক্তব্য দিয়েছিল তা কার্যকর করতে এখনও ব্যর্থ হয়ে আছে। এ ব্যর্থতার কারণেই মূলত বেসরকারী পর্যায়ের হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকরা সরকারের সিদ্ধান্ত অকার্যকর রাখার সুযোগ নিচ্ছে।

এ ধরনের একটি পরিস্থিতিতে সরকারী দুটি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ সংশ্লিষ্ট রোগীর চাপে বেহাল দশায় রয়েছে। চট্টগ্রামে শনিবার পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে ১৬৫। আর আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৬২৫ জন। শনিবার পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ৮৯০ নমুনা পরীক্ষায় ১৫৯ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে আইসিইউ সুবিধা বেসরকারী ২৮ হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ৫টি বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এর মধ্যে একমাত্র মা ও শিশু হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোন হাসপাতালে করোনা রোগীদের আইসিইউ সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বেসরকারী বারোটি হাসপাতালকে সরকার করোনাভাইরাসজনিত রোগীর চিকিৎসার জন্য চিহ্নিত করে দেয়া হয়। এ অবস্থায় বেসরকারী হাসপাতাল ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পরিত্যক্ত বেসরকারী হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঠিক করে এটিকে চট্টগ্রাম সরকারী জেনারেল হাসপাতালের ইউনিট-২ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর এ পরিত্যক্ত হাসপাতালটির কিছু কিছু স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ঠিকঠাক করে এটিতে রোগী ভর্তি করানো শুরু হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, এ হাসপাতালে যারাই ভর্তি হয়েছেন তারা কোন ধরনের চিকিৎসা তো পাননি, উপরন্তু ধুঁকেছেন। এমনও ঘটনা রয়েছে, উচ্চ পর্যায়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ভর্তি করিয়ে টানা চার দিন কোন খাদ্য সরবরাহ করা হয়নি।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, চট্টগ্রামের সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮, চট্টগ্রাম সরকারী জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ সুবিধার বেড কার্যক্রম রয়েছে। মূলত সরকারীভাবে এ ১৮টি বেড নিয়ে দুটি হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা চলমান। অপরদিকে, বেসরকারী মা ও শিশু হাসপাতালে ১০টি থাকলেও করোনা রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ৬টি। ফলে সরকারী বেসরকারী মিলে মোট ২৪টি আইসিইউ সুবিধার বেড কাজ করছে করোনা রোগীদের জন্য। এতে করে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে অনেকে আইসিইউ বেড পেতে ব্যর্থ হচ্ছে।

৬০ লাখেরও বেশি জনঅধ্যুষিত এ মহানগরীতে বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর এতে করে আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন অনেকে। অপরদিকে, মহানগরীর ২৮টি ক্লিনিকে অন্তত ২শ’ আইসিইউ সুবিধার বেড রয়েছে। কিন্তু এসব বেসরকারী ক্লিনিক হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি করানো হলেও আইসিইউ সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারী ক্লিনিক হাসপাতালগুলোকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের আইসিইউ সুবিধার বেড ঢালাওভাবে দেয়া হলে অন্য জটিল রোগীদের এ সুবিধা দেয়া যাবে না বলে ক্লিনিক মালিকদের বক্তব্য রয়েছে। মূলত, এ অবস্থায় চট্টগ্রামে দিন দিন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।

অপরদিকে, করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রেও আগ্রহীদের মাঝে দুর্ভোগ চরমে। সরকারী দুটি হাসপাতাল বাদে বেসরকারী ইম্পেরিয়াল ও শেভরন হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও নমুনা পরীক্ষার সুযোগ নেই। এতে করে নমুনা পরীক্ষা না করে নিজ নিজ বাসা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। এদের অনেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাপক শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে দৌড়াচ্ছেন। অনেকে তদবির করিয়ে সরকারী হাসপাতালে আইসিইউ বেডে ভর্তি হচ্ছেন। আর যারা পাচ্ছেন না তাদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।

শীর্ষ সংবাদ:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৫৫ জনের, নতুন শনাক্ত ৩০২৭         শুল্ক কমিয়ে বিদেশ থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত         করোনা ভাইরাস ॥ চিকিৎসক নিয়োগে আসছে বিশেষ বিসিএস         বান্দরবানে জনসংহতির সংস্কারপন্থি ছয়জনকে গুলি করে হত্যা         দাউদকান্দিতে প্রাইভেটকার খাদে পড়ে একই পরিবারের ৩ জন নিহত         এবার মাশরাফির স্ত্রীও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত         জাতীয় পার্টিতে নতুন দুই উপদেষ্টা         দুই আসনের উপনির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য বলল বিএনপি         করোনা ভাইরাসে ভারতে মৃত্যু ছাড়াল ২০ হাজার         টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে দুই ইয়াবা কারবারি নিহত         কলম্বিয়ায় জ্বালানি ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণ ॥ নিহত অন্তত ৭         ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকের বড় ভাইয়ের মৃত্যু         মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও উপ-প্রধানের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা         বন্যপ্রাণী নিধন চলতে থাকলে আরও প্রাদুর্ভাব আসবে ॥ জাতিসংঘ         যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৩২ রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী         শুধু ভারত নয়, জাপানসহ ২০ দেশের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চীনের         জাপানে বৃষ্টি-বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪         জিনপিংয়ের সমালোচনা করায় চীনা অধ্যাপক গ্রেফতার         চীনের ৫০টি বিনিয়োগ প্রকল্প আটকে দিয়েছে ভারত         নিজের স্বার্থেই ইউরোপের উচিত পরমাণু সমঝোতা মেনে চলা ॥ ইরান        
//--BID Records