শুক্রবার ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ জুলাই ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

করোনায় আয় কমেছে ৭৪ শতাংশ পরিবারের ॥ ১৪ লাখের বেশি প্রবাসী শ্রমিক বেকার

করোনায় আয় কমেছে ৭৪ শতাংশ পরিবারের ॥ ১৪ লাখের বেশি প্রবাসী শ্রমিক বেকার
  • ব্র্যাক, ডেটা সেন্স ও উন্নয়ন সমন্বয়ের যৌথ গবেষণা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন একটি সঙ্কটময় মুহূর্তে উপনীত হয়েছে। মহামারীটি নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অস্বাভাবিক বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। দেশের প্রায় ১০ কোটি ২২ লাখ (১০০.২২ মিলিয়ন) মানুষ অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত দুর্বলতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রায় ৭৪ শতাংশ পরিবারের উপার্জন কমে গেছে। ১৪ লাখেরও বেশি প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন বা ফিরে আসছেন। ব্র্যাক, ডেটা সেন্স এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের এক যৌথ সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ‘কোভিড-১৯ এবং জাতীয় বাজেট ২০২০-২০২১: নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কৌশল পুনর্বিবেচনা’ শীর্ষক এই সমীক্ষার ফলাফল সোমবার এক ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং পাওয়ার এ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারপার্সন ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. আতিউর রহমান। ব্র্যাকের উর্ধতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইসোশ্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. অনন্য রায়হান। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গবর্নেন্স এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন।

সমীক্ষাটিতে ব্র্যাক, বিআইজিডি, পিপিআরসি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিচালিত গবেষণা-সমীক্ষার পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি জরিপও পরিচালনা করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত ফলাফল সমন্বয় করে মূল প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। জরিপটি দেশের ২৫ জেলায় দৈবচয়নে নির্বাচিত ৯৬২ জন উত্তরদাতার অংশগ্রহণে মে মাসের ১৫-১৮ তারিখের মধ্যে সম্পাদন করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় দেশে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫ কোটি ৩৬ লাখ (৫৩.৬৪ মিলিয়ন) মানুষ চরম দরিদ্র (দৈনিক আয় ১.৯ ডলার)। এদের মধ্যে নতুন করে চরম দরিদ্র হয়ে পড়া পরিবারগুলোও রয়েছে। উচ্চ অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকা চরম দরিদ্রের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৩ লাখ (৪৭.৩৩ মিলিয়ন) এবং উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ৩ কোটি ৬৩ লাখ (৩৬.৩৩ মিলিয়ন) মানুষ।

জরিপে দেখা গেছে, কোভিড-১৯-এর কারণে নিম্নআয়ের মানুষের উপর বহুবিধ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যেসব পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এর মধ্যে ৩৪.৮% পরিবারের কমপক্ষে একজন সদস্য চাকরি হারিয়েছেন। মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে গড় পারিবারিক উপার্জন প্রায় ৭৪ শতাংশ কমে গেছে। দিনমজুরসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মকর্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উৎপাদন খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। উদাহরণ হিসেবে, তৈরি পোশাক খাতে রফতানি গত এপ্রিলে ৮৪ শতাংশ কমে গেছে। এ বছর মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৭ এপ্রিলের মধ্যে ১,১১৬টি কারখানা বন্ধ ঘোষিত হয়েছে এবং চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক (২.১৯ মিলিয়ন) শ্রমিক।

সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়, নিম্নআয়ের মানুষের এই রোগের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এসব পরিবারের উপার্জনশীল সদস্যের মৃত্যু হলে নারী ও শিশুদের মধ্যে অনাহার এবং অপুষ্টির শিকার হওয়ার উচ্চ আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। দেশব্যাপী সমন্বয়ের অভাবের কারণে দরিদ্র ও অতিদরিদ্রদের কাছে সরকারের দেয়া খাদ্য এবং নগদ সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও গবেষণা-সমীক্ষা থেকে প্রতীয়মান হয়।

সমীক্ষায় বলা হয়, ১৪ লাখেরও বেশি প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারানোর কারণে ফিরে এসেছেন বা দেশে ফিরে আসছেন। বিদেশে থাকা অভিবাসীরাও এখন ঋণচক্র ও সামাজিক কলঙ্কের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন। কোভিড-১৯ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারগুলোকে আরও বেশি অসুবিধার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘মানুষকে আগে বাঁচাতে হবে, তারপর স্বপ্নপূরণ আর সুখে থাকার চিন্তা। তাই এবারের বাজেট হোক বেঁচে থাকার বা টিকে থাকার বাজেট। কোভিড-১৯ এর এই মহামারীতে সবচেয়ে হুমকির মুখে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। মধ্যবিত্তরাই চিকিৎসাসেবা পাবেন কি না সেই আতঙ্কে আছেন, দরিদ্রদের অবস্থা তো আরও করুণ। স্বাস্থ্য খাত ঠিক না করলে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে না, আমাদের অর্থনীতিও আগাবে না।‘তিনি বলেন, আমাদের কৃষি ও শিল্পকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা আমাদের অর্থনীতির রক্ষাকবচ হবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি। ফলে এ উভয় খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে আসছে বাজেটে। আমরা নিশ্চয়ই আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। আমাদের টেকসই উন্নয়নের জন্য গ্রীন ইনভেস্টমেন্ট, গিওন ডেভেলপমেন্টের দিকে যেতে হবে। আরও মানবিক হতে হবে।’

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষ হিসেবে বটম অব দি পিরামিডে শুধু শ্রমিকরা নয়, অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও আছেন। প্রণোদনা দেয়ার পরও শ্রমিকদের ৬০% বেতন দেয়া হয়েছে। তাদের বাসা ভাড়া ও অন্যান্য খরচ তো কমেনি। তাই এই মুহূর্তে বেঁচে থাকার জন্য যাদের প্রয়োজন বেশি তাদের প্রণোদনা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখতে হবে। এখন অনলাইন ব্যবসায়ের উদ্যোক্তা বেড়েছে। তাই স্মার্ট ফোন সুলভ করে ইন্টারনেট খরচ কমাতে হবে।’ ড. ইমরান মতিন বলেন, ‘জনগণের আতঙ্ক দূর করতে স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ বাড়াতে হবে। উপজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়েও সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখতে হবে।’

শীর্ষ সংবাদ:
রূপালী ইলিশে ভর করে কমছে দেশী মাছের দাম         রিজেন্টের সাহেদের প্রধান সহযোগী তরিকুল ৫ দিনের রিমান্ডে         আত্মহত্যা করেছেন সিউলের মেয়র         মার্চের ট্রেনযাত্রা বাতিলের টিকিটের টাকা ফেরত দেবে রেলওয়ে         করোনা ভাইরাসে আরও ৩৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৯৪৯         দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা হবে ॥ দুদক চেয়ারম্যান         সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক         বাংলাদেশ থেকে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         করোনা ভাইরাসকে জয় করলেন ৩৫ বিচারক         সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে ইরানের সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ         করোনায় আক্রান্ত বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট         জাতি আজ একজন নিবেদিতপ্রাণ আইনজীবীকে হারালো ॥ আইনমন্ত্রী         সরকারের ব্যর্থতায় দেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ॥ রিজভী         বাতাসে করোনাভাইরাস তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে         করোনা ভাইরাস ॥ যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ৬৫ হাজারের বেশি শনাক্ত         সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আর নেই         টানা চতুর্থ জয়ে নতুন মাইলফলক গড়লেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড         ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচটি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আম্পায়াররা!         এবার পশ্চিম তীরকে একীভূত করার ব্যাপারে ইসরাইলকে সতর্ক করল রাশিয়া         ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র        
//--BID Records