৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

নতুন পাঁচ করোনা রোগী শনাক্ত, আর কেউ মারা যাননি

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ ২০২০
  • হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া লোকের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ

নিখিল মানখিন ॥ দেশে আরও পাঁচ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৪। মৃতের সংখ্যা আগের ৫ জনই রয়ে গেছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন মোট ১১ জন। দেশে করোনায় মৃত্যুর হার ১১ শতাংশ এবং সুস্থ হওয়ার হার ২৫ শতাংশ। নতুন করে চট্টগ্রামে আরও একটি এবং রাজধানীতে দু’টি জায়গায় করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চীন থেকে পৌঁছেছে করোনা পরীক্ষার কিট এবং পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। ঢাকার বাইরে করোনা সন্দেহে শরীয়তপুরে তিন, কুষ্টিয়ায় এক শিশু এবং বরিশালে তিনজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক করোনায় খাগড়াছড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন এক যুবকের এবং খুলনায় করোনায় মৃত ব্যক্তির সঙ্গে একই হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে থাকা এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর। সারাদেশে আইসোলেশনে রয়েছে মোট ৪৪ জন। হোম, হাসপাতাল ও অন্যান্য কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৩০ হাজার ৭৬৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনে মোট কল এসেছে ৬৮ হাজার ৯৮৪টি।

করোনা প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী সামাজিক দূরত্ব বজায় কার্যক্রম চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া লোকের সংখ্যাও বেড়েছে কয়েকগুণ।

দেশে মোট আক্রান্ত ৪৪ জন ॥ আইইডিসিআর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। দেশের সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, দেশে আরও চার করোনা রোগী মৃত্যু শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ মারা যায়নি। নতুন আক্রান্ত পাঁচজনই পুরুষ। তাদের দু’জনের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, দু’জন ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে একজন বিদেশফেরত। অন্য রোগীর সংস্পর্শে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন তিনজন এবং বাকি একজন কিভাবে সংক্রমিত হয়েছেন তা অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে ১২৬ জনের। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯২০ জনের।

আরও নতুন তিনটি জায়গায় নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে ॥ বৃহস্পতিবার করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। ঢাকায় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং শিশু হাসপাতালে এবং চট্টগ্রামে বিআইটি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেটি আরও বাড়ানো হবে বলে জানান ডাঃ ফ্লোরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, শীঘ্রই ঢাকার বাইরে খুলনা, রংপুর রাজশাহী ও সিলেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সেই নির্দেশনা স্থগিত ॥ চিকিৎসকদের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি হওয়া আদেশটি বাতিল এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের জারি হওয়া আদেশ স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে কেউ চিকিৎসা সেবাবঞ্চিত হলে সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকি বা থানার ওসিকে জানানোর কথা বলা হয়েছিল। অন্যদিকে অধিদফতরের চিঠিতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ আছে- এমন রোগীকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক (পিপিই) ছাড়াই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ জারি করেছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। এই দুই আদেশ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ওই আদেশ দুটি বুধবার রাতেই বাতিল করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালগুলোয় সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, ইমার্জেন্সি চিকিৎসা (জরুরী সেবা) এবং নতুন রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে না। এমনকি ভর্তি রোগীদের ছাড়াও হচ্ছে না। এতে জনগণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সংশোধিত নতুন ওই বিজ্ঞপ্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে, এই বিজ্ঞপ্তি জারির পরপরই বুধবার বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এ্যাসোসিয়েশন প্রতিবাদলিপি ও গণপদত্যাগ’ শিরোনামে এক বিবৃতি দেয়।

সেখানে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পোশাক সরবরাহ করার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরিত হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ন্যূনতম প্রশিক্ষণহীন ও অভিজ্ঞতাহীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আমলারা সে সময় করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন। ফলে স্বাস্থ্য সেবাকর্মীদের যথাযথ সুরক্ষা পোশাকের ঘাটতিসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় চরম ঘাটতি ও এতদসংক্রান্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি বর্তমানে দৃশ্যমান। বিশেষ কোন ধরনের সুরক্ষা পোশাক ছাড়াই করোনার মতো মারাত্মক ব্যাধি আক্রান্তসহ সকল রোগীর চিকিৎসা প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক সমাজ। চিকিৎসা প্রদান করতে গিয়ে ইতোমধ্যেই যেখানে চিকিৎসকরা এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের আর্মি ও পুলিশের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ ও হয়রানি করার মতো তীব্র উস্কানিমূলক ও তীব্র জিঘাংসামূলক একটি পত্র জারি করার মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার প্রশাসনিক অজ্ঞতা ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক কর্মকর্তাসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরাসরি অপমান করেছেন। এই ধরনের পত্রের অপমানের ভার নিয়ে আমাদের পক্ষে আর কোন ধরনের দায়িত্ব পালন সম্ভব না বলে জানায় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এ্যাসোসিয়েশন।

তবে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এ্যাসোসিয়েশেন বেঁধে দেয়ার সময়েই আগেই বুধবারের তারিখে বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল দেখিয়ে তা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

করোনা সন্দেহে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইসোলেশনে কিছু সংখ্যক রোগী ॥ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইসোলেশনে কিছু সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতারা জানিয়েছেন।

শরীয়তপুরে তিনজনের নমুনা সংগ্রহ ॥ শরীয়তপুরের নড়িয়া ও সখিপুরে ইতালি ফেরত ১ প্রবাসীসহ ৩ জনের সংগ্রহ করে আইইডিসিআর’র কাছে প্রেরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের শরীরে জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজিব হাওলাদার ও একই উপজেলার চামটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন বলে জানা গেছে।

সিভিল সার্জন ডাক্তার এসএম আবদুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, এ বিষয়ে সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের লোক নিয়োজিত রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছি। ২৪ মার্চ সকালে আইইডিসিআর থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে নিয়ে গেছে। রোগী আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থতা অনুভব করছেন। জেলায় এখনও কোন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

কুষ্টিয়ায় এক প্রবাসীর শিশু সন্তান আইসোলেশনে ॥ কুষ্টিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ সন্দেহে বৃহস্পতিবার সকালে এক শিশুকে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেয়া হয়েছে। শিশুটির বয়স মাত্র ৭ মাস।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৩ মার্চ শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন পরিবারের সদস্যরা। ওই সময় তার জ্বর, ঠা-া, কাশি ছিল। জেনারেল হাসপাতালের আরএম ও ডাঃ তাপস কুমার সরকার জানান, শিশুটিকে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। তার অবস্থা অবনতির দিকে গেলে বৃহস্পতিবার তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেয়া হয়। বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে। তারা নমুনা সংগ্রহ করবে।

এদিকে প্রবাসী পিতার বিষয়টি প্রথমে গোপন করলেও চিকিৎসকরা শিশুটির পরিবারকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই পরিবারের এক আত্মীয় জানান, শিশুটির বাবা ৯ মার্চ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ছিলেন। এ তথ্য জানার পরই শিশুটিকে আইসোলেশনে নেয়া হয়। তবে তার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারটি কুষ্টিয়া শহরেই বাস করে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, ওই পরিবারের সব সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনে বাড়িটিকেও লকডাউন করা হবে। সেখানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেনসহ পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

বরিশালে করোনা সন্দেহে তিন রোগী ভর্তি ॥ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজন রোগীকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে পাঁচ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কাশি ও জ্বর নিয়ে বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদকাঠি এলাকার বিথি আক্তার (২৬) বুধবার বিকেলে ভর্তি হন। একইদিন সন্ধ্যায় একই কারণে ভর্তি হন আগৈলঝাড়া উপজেলার চান্দো গ্রামের তৃষ্ণা রানী (৪৫)। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভর্তি হয়েছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নিমদি গ্রামের নোমান (২৫)।

হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন জানান, এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে সাত রোগী করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে দুইজন ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। ভর্তি রোগীদের শারীরিক লক্ষণগুলো প্রাথমিকভাবে করোনার কাছাকাছি থাকায় তাদের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হচ্ছে। আশাকরি এখনও যারা ভর্তি আছেন তারাও কেউ করোনায় আক্রান্ত নন। তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে লক্ষণ দেখে তাদের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খাগড়াছড়িতে আইসোলেশনে থাকা এক যুবকের মৃত্যু ॥ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ওই যুবকের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডাক্তার নুপুর কান্তি দাশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সর্দি, কাশি ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে বুধবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩০ বছরের এক যুবক। লক্ষণ দেখে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়। একইদিন রাত পৌনে ৯টার দিকে মারা যান ওই যুবক। করোনা সন্দেহ হওয়ায় নিহত যুবকের সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে করোনা নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

খুলনায় সন্দেহজনক এক করোনা রোগীর মৃত্যু ॥ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। ওই রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মৃত ব্যক্তির নাম মোস্তাহিদুর রহমান (৪৮)। বাড়ি নগরীর হেলাতলা এলাকায়। ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে রহমান তিনি থাইরয়ডের অপারেশন করেন। অপারেশনের স্থানে ক্ষত হয়ে যাওয়া এবং শরীরে জ্বর অবস্থায় তাকে বুধবার রাতে খুমেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে তার স্বজনেরা নিয়ে আসলে বাহ্যিক পর্যবেক্ষণ করে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডাঃ শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, রোগী মারা যাওয়ার পর তার তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সার্জারি ওয়ার্ডে মৃত্যুবরণকারী ওই রোগী ঢাকায় যে হাসপাতালে অপারেশন হয়েছিলেন এবং যে ওয়ার্ডে ছিলেন সেই ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল। বিষয়টি গোপন রেখেই তার স্বজনেরা তাকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। ধারণা করা হচ্ছে করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যেতে পারেন। মৃতের শরীরের নমুনা (আইইডিসিআর) জাতীয় রোগতত্ত্ব ও ইনস্টিটিউটে পাঠানো হবে।

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ ২০২০

২৭/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: