ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

‘টেনিসের কারণেই বিশ্ব চিনেছে তাকে’

প্রকাশিত: ০৯:৫১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

  ‘টেনিসের কারণেই বিশ্ব চিনেছে তাকে’

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ঝলমলে ক্যারিয়ার মারিয়া শারাপোভার। এই সময়ে ৩৬টি ডব্লিউটিএ শিরোপার সঙ্গে তার নামের পাশে যুক্ত রয়েছে পাঁচটি গ্র্যান্ডস্লাম। ২০০৪ সালে প্রথম কোন মেজর শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে শেষবারের মতো কোন গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টে চুমো আঁকেন রাশিয়ান টেনিসের এই গ্ল্যামারগার্ল। এরপর আর কখনই নিজের জাত চেনাতে পারেননি বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান এই তারকা। বুধবার গোটা বিশ্ব টেনিসের ভক্ত-অনুরাগীদের হতাশ করেই ৩২ বছর বয়সে অবসর ঘোষণা করলেন মারিয়া শারাপোভা। ইনস্টাগ্রাম এ্যাকাউন্টে রাশিয়ান টেনিস সুন্দরী অবসরের বিষয়ে লিখেছেন, ‘টেনিসের কারণেই বিশ্ব আমাকে চিনেছে। অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, এই খেলা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এবার টেনিসকে গুডবাই জানাচ্ছি। আমাকে দয়া করে ক্ষমা কর। এবার জীবনের আর এক ভিন্ন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছি। সেখানেও সর্বোচ্চ শিখরে উঠতে চাই।’ কোর্টে টেনিস র‌্যাকেট হাতে নিজের ছোটবেলার ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন মারিয়া শারাপোভা। দীর্ঘ সময় সার্কিটে কাটানো পাঁচটি গ্র্যান্ডস্লাম জেতা মাশার অবসরের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব টেনিসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্ত হলো।’ গ্র্যান্ডস্লামে তার দাপট শুরু হয়েছিল দেড় দশকেরও বেশি সময় আগে। পাঁচ গ্র্যান্ডস্লামের মধ্যে ২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে উইম্বলডন জিতে গোটা টেনিস বিশ্বকেই চমকে দেন শারাপোভা। ফাইনালে তিনি হারান সেই সময় শীর্ষ বাছাই সেরেনা উইলিয়ামসকে। তারপর ২০০৬ সালে ইউএস ওপেন, ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। ২০১২ ও ২০১৪ সালে ফরাসী ওপেন খেতাব তার ঝুলিতে রয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের ধনী মহিলা ক্রীড়াবিদদের তালিকার শীর্ষে বিরাজ করেছেন রাশিয়ান তারকা। কারণ সেই সময় গ্ল্যামার ও টেনিসের অসাধারণ কম্বিনেশনকে সঙ্গী করে একের পর এক স্পন্সর নিজের দিকে টেনে এনেছিলেন মাশা। তবে ডোপিং বিতর্ক জড়িয়ে পড়েই শারাপোভার টেনিস জীবনের প্রদীপ নিভতে শুরু করে। ওই ধাক্কা তিনি আর সামলে উঠতে পারেনি। তার সঙ্গে চোট-আঘাত তাকে অনেকটা পিছিয়ে দেয়। একটা সময় কোনভাবেই পেশাদার টেনিসে নিজেকে আর মোটিভেট করতে পারছিলেন না শারাপোভা। যার ফলে কিছুটা ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়েই প্রিয় টেনিসকে বিদায় জানালেন ৬ ফিট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এই রাশিয়ান তারকা। ২০১৬ সালে মেলডোনিয়াম নামক নিষিদ্ধ ওষুধ সেবনের দায়ে শারাপোভাকে দুই বছর নির্বাসিত হতে হয়। যদিও তিনি বারবার বলেছেন, তিনি এই ব্যাপারে নির্দোষ। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। নির্বাসনের পরে কোর্টে ফিরলেও তাকে আর চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। গত ১৮ মাস ধরে কাঁধ ও বাহুর চোটে একেবারে জেরবার হন শারাপোভা। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনই শেষ টুর্নামেন্ট তার। প্রথম রাউন্ডে মাশা হেরে যান ডোনা ভেকিচের কাছে। তারপরই শারাপোভা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, আর নয়। এবার র‌্যাকেট তুলে রাখার সময় এসে গেছে। বিশ্ব টেনিসে একসময় শারাপোভা-সেরেনা-আজারেঙ্কা-ভেনাসের দাপট ছিল। কিন্তু সেই সময়টা এখন অতীত। এই মুহূর্তে চলছে তারুণ্যের দাপট। গত কয়েক মৌসুম ধরেই দেখা যায় এই চিত্র। বিশেষ করে নাওমি ওসাকা, এ্যাশলে বার্টি, বিয়াঙ্কা আন্দ্রেস্কুরা যেন তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশ্ব টেনিসে। অন্যদিকে সেরেনা-কেভিতোভা-আজারেঙ্কারা যেন হারিয়ে যাচ্ছেন। এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর টেনিস থেকে বিদায় নিয়েছেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকিও। ড্যানিশ টেনিস তারকার পর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে অবসরে চলে গেলেন মারিয়া শারাপোভাও। রাশিয়ান টেনিসের গ্ল্যামারগার্ল মাশার বিদায়ে আবেগাপ্লুত পেত্রা কেভিতোভাও। চেক তারকা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘শারাপোভা আপনার সঙ্গে কোর্ট ভাগাভাগি করাটা ছিল দারুণ আনন্দের। আমরা যখন একে অপরের বিপক্ষে খেলেছি তখন উভয়েই দুর্দান্ত লড়াই করেছি। তবে আপনার কঠোর পরিশ্রমের প্রতি আমার অনেক সম্মান ছিল।’