৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

রাজধানীর বস্তিতে বারবার কেন অগ্নিকান্ড?

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও আলোর মুখ দেখছে না

শংকর কুমার দে ॥ রাজধানীর বস্তিগুলোতে বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনাগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। গত ছয় মাসে খোদ রাজধানীতেই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে অন্তত তিনটি। এতে নিম্ন আয়ের দরিদ্র শ্রেণীর কোটি টাকার সম্পদের হানি হচ্ছে। অগ্নিকান্ডের ফলে রিক্ত, নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার গরিব মানুষ। প্রতিবারই গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনগুলো আলোর মুখ দেখছে না। কিন্তু অগ্নিকান্ডের কারণ কি, কারা এর পেছনে দায়ী, বার বার একই বস্তিতে কেন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে? এই বিষয়গুলো থেকে যাচ্ছে রহস্যের আড়ালেই। প্রশ্ন উঠেছে, কোন অশুভ মহল কি বস্তির জায়গা দখলের জন্য অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটাচ্ছে? অগ্নিকান্ডের ঘটনাগুলো ষড়যন্ত্র কিনা সেই প্রশ্নও উঠেছে। দমকল বাহিনী সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

দমকল বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে শুধুমাত্র রাজধানীর তিনটি বস্তিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক বস্তিতে অগ্নিকা-ের ঘটনায় সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে রাস্তায় ঠাঁই নিচ্ছে গৃহহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষ। অগ্নিকান্ডের প্রতিটি ঘটনায় গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। অগ্নিকান্ডের কারণ থেকে যাচ্ছে আড়ালে। দমকল বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, বস্তিতে কি এমনিতেই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে? নাকি অগ্নিকান্ড ঘটিয়ে সুযোগ নিতে চাচ্ছে লোভাতুর শ্রেণীর অশুভ মহল। বস্তিতে কেন বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে? এমনকি একই বস্তিতে যখন বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে তখন এই প্রশ্নগুলো তাড়া করে বেশি। অথচ যেই বস্তিতে অগ্নিকান্ড ঘটছে সেই বস্তিবাসী জানতেও পারছেন না অগ্নিকান্ডের কারণ কি, দায়ী কারা?

দমকল বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বিগত ছয় মাসে মিরপুর ঝিলপাড় বস্তি, চলন্তিকা বস্তি বনানীর টিএ্যান্ডটি বস্তিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাজার হাজার বস্তিবাসী রিক্ত, নিঃস্ব হয়ে গেছে। নিম্নশ্রেণীর মানুষ যাদের রাজধানীতে মাথা গোজার ঠাঁই নেই, তারা অশ্রু চোখে বিত্তবানদের করুণা আর সহায়তা কামনা করেছে।

ঝিলপাড় বস্তি

গত বছরের আগস্ট মাসে মিরপুরের রূপনগর থানাধীন ঝিলপাড় বস্তিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত আটটার দিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর দমকল বাহিনীর সতোরোটি ইউনিট আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অন্তত প্রায় পঁচিশ হাজার বস্তিঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

তদন্ত কমিটির কাছে বস্তিবাসী অভিযোগ করেছেন, মিরপুরের ঝিলপাড়ের বস্তিতে গত পঁচিশ বছরে একটি বারও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু হঠাৎ করে কেন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটল? বস্তির জমি খালি করার জন্য অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে কি ? এর সঙ্গে কোন অশুভ মহল জড়িত কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন বস্তিবাসী।

চলন্তিকা বস্তি

মিরপুর ঝিলপাড়ের অগ্নিকান্ডের পর অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে চলন্তিকা বস্তিতে। অগ্নিকান্ডের ফলে পুড়ে যায় অন্তত তিন হাজার বস্তিঘর। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে অনেকেই ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছেন। চলন্তিকা বস্তিতে অগ্নিকান্ডের পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু আজও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।

বনানী টিএ্যান্ডটি বস্তি

সর্বশেষ গত আট ফেব্রুয়ারি ভোর পৌনে চারটায় বনানীর টিএ্যান্ডটি কলোনির বস্তিতে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। এতে সহস্রাধিক বস্তিঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। একে কয়েক হাজার মানুষজন গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নেয়। এই ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনও আলোর মুখ দেখেনি। বস্তিবাসী তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ করেছেন, বস্তির জমি খালি করতেই পরিকল্পিতভাবে অগ্নিকান্ড ঘটানো হয়েছে, এটা ষড়যন্ত্র।

বস্তিবাসীরা তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ করেন, বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা অসহায়ের মতোই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন দরিদ্র শ্রেণীর বস্তিবাসীরা। অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তারপর সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না।

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

১৭/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: