ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

অশ্বিন, না জাদেজা কাকে দেখা যাবে মেলবোর্নে?

প্রকাশিত: ২০:২৯, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮

অশ্বিন, না জাদেজা কাকে দেখা যাবে মেলবোর্নে?

অনলাইন ডেস্ক ॥ মেলবোর্নের পিচ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই ভারতের আদর্শ প্রথম একাদশ কী হবে, তা নিয়ে মত-পাল্টা মতের লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। ডেনিস লিলি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি নিশ্চিত মেলবোর্নে তিন পেসার এবং এক স্পিনারে খেলবে দুই দলই। সেই কম্বিনেশনের কোনও তারতম্য হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ভারতীয় শিবিরে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, সেই একমাত্র স্পিনার কে হবেন? প্রধান অফস্পিনার অশ্বিন না কি বাঁ হাতি রবীন্দ্র জাদেজা? এমনিতে সুস্থ থাকলে একশোটি ক্ষেত্রে নিরানব্বই বার অশ্বিনই প্রথম পছন্দ হবেন কোচ রবি শাস্ত্রী, অধিনায়ক বিরাট কোহালির। কিন্তু অ্যাডিলেড টেস্টে তলপেটের নীচে চোট পাওয়ার পর তিনি কতটা সেরে উঠেছেন, তা নিয়ে সংশয় এখনও দূর হয়নি। অ্যাডিলেডের পরে পার্থে অশ্বিন খেলতে পারেননি। পার্থ টেস্টের মধ্যে তাঁকে খুব বেশি শারীরিক কসরত করতে দেখা যায়নি। দিনের খেলা শেষে দু’এক দিন কয়েক ওভার হাত ঘোরাতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু সেটা যতটা না বল করা, তার চেয়ে বেশি চোট কেমন আছে তা দেখে নিতে চাওয়া বলেই মনে হয়েছে। পার্থে টেস্ট হেরে মেলবোর্নে আসার পর থেকে ভারতীয় দল বিশ্রামে রয়েছে। কোহালিরা আবার মাঠে ফিরবেন রবিবার থেকে। অস্ট্রেলিয়া দলেরও সে রকমই সূচি। শুক্রবার মেলবোর্নে সারা দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় ব্যক্তিগত ভাবে কারও মাঠে গিয়ে প্র্যাক্টিস করার পরিস্থিতিও ছিল না। কিন্তু মেলবোর্নে আসা ইস্তক ভারতীয় শিবির থেকে অশ্বিনের অবস্থা নিয়ে কোনও মেডিক্যাল বুলেটিনও আসেনি। অশ্বিনের ফিটনেস খুব স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাউদাম্পটন টেস্ট থেকে। সেই টেস্ট শুরুর দু’দিন আগে তিনি নেটে বল করেননি। হঠাৎই ঘোষণা করা হয় যে, তিনি ফিট এবং খেলবেন। শেষ পর্যন্ত সাউদাম্পটনে খেললেও বিতর্ক তৈরি হয় অশ্বিনের পারফরম্যান্স নিয়ে। ইংল্যান্ডের মইন আলি পিচের ক্ষতকে ব্যবহার করে ভারতকে শেষ করে দেন। অথচ, বিশ্বের অন্যতম সেরা অফস্পিনার হয়েও অশ্বিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেননি। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সিরিজের শেষ টেস্টে ওভালে অশ্বিনকে বসিয়ে খেলানো হয় জাদেজাকে। ব্যাটে-বলে সফল হয়ে বাঁ হাতি রাজকোটের অলরাউন্ডার দলে জায়গা পাকা করার দাবি জোরালো করেন। পার্থে অশ্বিনের চোট থাকায় জাদেজাকে কেন খেলানো হল না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নেথান লায়ন কেমন সফল হচ্ছেন, সেই তুলনা টেনে সমালোচনা চলছে ভারতের প্রথম একাদশ নির্বাচনের। এ দিন শোনা গেল, পার্থ টেস্ট শুরুর ঠিক আগে জাদেজার ফিটনেস নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। তিনি যদিও টেস্টের মধ্যে নেমে অতিরিক্ত হিসেবে ফিল্ডিং করেন এবং ইশান্ত শর্মার সঙ্গে ‘সেমসাইড’ ঝামেলায় জড়িয়ে গিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। কিন্তু টিম সূত্রের খবর, টেস্টের ঠিক আগে তিনি সম্পূর্ণ ফিট ছিলেন না। সেটা যে কোনও কারণেই হোক সাংবাদিক সম্মেলনে এসে অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলতে চাননি। সম্ভবত দেশের মাটিতে ধারাবাহিক ভাবে দারুণ পারফরম্যান্স করার পরেও উপেক্ষিত উমেশ যাদবের পাশে দাঁড়াবেন বলেই অন্য কোনও অজুহাত দিতে চাননি কোহলি। বহু বার দেখা গিয়েছে, ভারতকে ম্যাচ জিতিয়েও দলে জায়গা পাকা করতে পারেননি উমেশ। যখনই কাউকে বাদ দিতে হয়েছে, তাঁর উপর কোপ পড়েছে। মেলবোর্ন এবং সিডনিতে অবশ্য পার্থের মতো প্রাণবন্ত, বাউন্সি পিচ থাকার সম্ভাবনা নেই। তাই শেষ দু’টি টেস্টে ডেনিস লিলির পূর্বাভাস মতোই তিন পেসার এবং এক স্পিনারে নামা কার্যত নিশ্চিত। কিন্তু ধাঁধা হচ্ছে, মেলবোর্নে একমাত্র স্পিনার কে হবেন? অশ্বিন কি সম্পূর্ণ ফিট হয়ে গিয়েছেন? জানা গিয়েছে, অশ্বিনের ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া হবে। সাউদাম্পটনের মতো আর কোনও ফাঁক রাখতে চায় না কেউ। ফিটনেস পরীক্ষার ফল দেখে ঠিক করা হবে, তিনি খেলতে পারবেন কি না। যদি তিনি একশো শতাংশ সুস্থ না হয়ে থাকেন, তা হলে সাউদাম্পটনের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে তাঁকে খেলানোর ঝুঁকি না-ও নেওয়া হতে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে জাদেজাকেও তৈরি রাখা হচ্ছে দেখলে অবাক হওয়ার নেই। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, দলের এক নম্বর স্পিন অস্ত্রের নাম আর অশ্বিন। কিন্তু আধা বা প্রায় ফিট অবস্থায় তাঁকে খেলানোর কথা ভাবতে গিয়ে সাউদাম্পটনের বেদনাদায়ক স্মৃতি ফিরতে পারে। সেই কারণে যদি সম্পূর্ণ চিন্তামুক্ত না হওয়া যায়, তা হলে জাদেজার জন্য দরজা খুললেও খুলতে পারে। ভারত-অস্ট্রেলিয়া চলতি সিরিজে দলের প্রধান স্পিন অস্ত্র হওয়ার পাশাপাশি একটা ব্যক্তিগত দ্বৈরথও চলার কথা অশ্বিনের। বিশ্বের সেরা অফস্পিনার কে, তা নিয়ে তাঁর সঙ্গে লড়াই অস্ট্রেলিয়ার নেথান লায়নের। দ্বৈরথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন লায়ন। দু’টেস্টে ১৬ উইকেট নিয়ে তিনি এখন উইকেট শিকারিদের তালিকায় এক নম্বরে। দু’নম্বরে ভারতের যশপ্রীত বুমরা এবং মোহাম্মদ শামি। দু’জনেই দু’টেস্টে পেয়েছেন ১১ উইকেট। একটি টেস্ট থেকে অশ্বিনের ঝুলিতে এখনও পর্যন্ত রয়েছে ছয় উইকেট। লায়নকে যদি সেরা স্পিনারের দ্বৈরথে হারাতে হয়, তা হলে মেলবোর্ন ও সিডনিতে দারুণ কিছু করতে হবে। তার জন্য সবার আগে ফিটনেস পরীক্ষায় লেটার মার্কস নিয়ে পাশ করতে হবে। রবিবার ভারতীয় দল প্র্যাক্টিসে ফিরছে। সম্ভবত সে দিনই, প্রথম প্র্যাক্টিস সেশনে অশ্বিনের ফিটনেস যাচাই করা হবে। অর্থাৎ, বক্সিং ডে টেস্টের প্রাক্কালে নানা নাটক আর উত্তেজনা মজুত থাকতেই পারে কোহলিদের প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
monarchmart
monarchmart