সোমবার ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

বাওয়ের জোড়া গোলে আয়েশি জয় চট্টগ্রাম আবাহনীর

  • চট্টগ্রাম আবাহনী ৩-০ নোফেল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে পেশাদার লীগ বাদে এখন আর একচ্ছত্র আধিপত্য নেই অন্য কোন ক্লাবের। যেমন স্বাধীনতা কাপ আসরের কথাই ধরা যাক। আগের নয় আসরের দুটিতে ফাইনাল খেলে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড। বন্দরনগরীর এই দলটি সেবার শিরোপা জিতেছিল ২০১৬ সালে, ঢাকা আবাহনীকে হারিয়ে। ২০১৮ আসরেও (জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত) ফাইনালে উঠেছিল। তবে সেবার ‘রাইজিং স্ট্রেংথ’ খ্যাত আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। এবারের দশম আসরেও তারা ফাইনালের ‘হ্যাটট্রিক’ করতে দৃঢ়প্রত্যয়ী। সেই লক্ষ্যে সূচনাটা দারুণভাবেই করেছে তারা। সোমবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম খেলায় (‘বি’ গ্রুপ) তারা তারা ৩-০ গোলে অনায়াস জয় কুড়িয়ে নিয়েছে নবাগত দল নোফেল স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে। খেলার প্রথমার্ধে বিজয়ী দল এগিয়েছিল ১-০ গোলে। বিজয়ী দলের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড মমোদৌ বাও জোড়া গোল করেন।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করেই প্রিমিয়ার লীগে আবারও পথচলা শুরু চট্টগ্রাম আবাহনীর। এরপর ২০১৩-১৪ ও ১৫ মৌসুমের পেশাদার লীগে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের শিরোপা জেতে তারা, ২০১৫ সালে। এছাড়াও ২০১৬ সালের স্বাধীনতা কাপের চ্যাম্পিয়ন আর সবশেষ প্রিমিয়ার লীগে রানার্সআপ হয় তারা। ঘরোয়া ফুটবলের এবারের মৌসুমে মোট ১৩ দল খেলছে। স্বাভাবিকভাবেই যেকোন টুর্নামেন্টে তিন গ্রুপে ৩টি করে দল থাকলেও একটি গ্রুপে পড়ছে ৪টি দল। আর এবার স্বাধীনতা কাপে সেই চার দলের গ্রুপটা হচ্ছে ‘বি’ গ্রুপ।

সোমবারের ম্যাচের স্কোরলাইন দেখে মনে হতে পারে একতরফাই খেলেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। তিন গোলের জয়টা সহজ হলেও নোফেল যে

একেবারেই চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি, তা নয়। তবে চট্টগ্রাম আবাহনীর রক্ষণভাগ যে দক্ষতা দেখিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তাদের দৃঢ়তাতেই নস্যাৎ হয়েছে নোফেলের বেশ কটি আক্রমণ। তাই বন্দরনগরীর দলটির জয়ের পেছনে তাদের আক্রমণভাগের যেমন কৃতিত্ব ছিল, তেমনি ছিল রক্ষণভাগেরও। ম্যাচ শুরুর ৬ মিনিটে একটা সুযোগ সৃষ্টি করেছিল নবাগত নোফেল। বাঁপ্রান্ত থেকে আশরাফুল ইসলামের বাঁ পায়ের জোরালো শট প্রতিহত করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর ডিফেন্ডাররা। ১৯ মিনিটে প্রায় মাঝমাঠ থেকে লং পাসে বল দেন চট্টগ্রাম আবাহনীর নাইজিরিয়ান ডিফেন্ডার মুফতা লাউয়াল। হেডে বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন নোফেলের নাইজিরিয়ান ডিফেন্ডার মাইকেল ইয়েন্টা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না বল পেয়ে শুয়ে পড়ে দারুণ এক বাইসাইকেল কিকে লক্ষ্যভেদ করে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ম্যাচে লিড এনে দেন গাম্বিয়ান মিডফিল্ডার মমদৌ বাও (১-০)। ৫৪ মিনিটে কর্নার থেকে মিডফিল্ডার কৌশিক বড়ুয়ার উড়ন্ত শটে দারুণ হেডে নোফেলের জাল কাঁপান মুফতা লাউয়াল (২-০)। ৬১ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে নোফেলের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের শটে দলকে তৃতীয় গোল এনে দেন মমদৌ বাও (৩-০)। ম্যাচের প্রায় শেষদিকে এসে আবারও সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন আশরাফুল ইসলাম। ছোটখাটো গড়নের এই ফুটবলারই ম্যাচের প্রথম আক্রমণটি করেছিলেন। ৮৯ মিনিটে তার তীব্র শট সামান্য ডাইভ দিয়ে দারুণভাবে গ্রিপে নেন চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক মোহাম্মদ নেহাল। শেষ পর্যন্ত তিন গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে গত আসরের রানার্সআপরা।

আবারও রহমতগঞ্জে আটকে গেল মোহামেডান

স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে সোমবার গোলশূন্য ড্র করে আবারও রহমতগঞ্জে আটকে গেল এই আসরের সবচেয়ে সফল দল মোহামেডান (তিনবার চ্যাম্পিয়ন ও একবার রানার্সআপ)! তবে পরিসংখ্যান বলে, এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। খুব বেশিদিন আগে যাওয়ার দরকার নেই। মাত্র ১১ মাস আগেই এমনটি ঘটেছিল। বিষয়টি বেশ মজার।

একই আসর। অভিন্ন ভেন্যু (বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম)। মুখোমুখি দলদুটোও একই। ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি এবং ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর। তারিখ দুটো বিশেষ একটা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। সেটা কাকতালীয় ঘটনার কারণে। এ বছরের ১৯ জানুয়ারিতে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। ১১ মাস পর একই আসর। এবার ‘বি’ গ্রুপের খেলায় মুখোমুখি সেই একই দল। ফলাফল? আবারও গোলশূন্য ড্র। বুঝতেই পারছেন, দলদুটি হচ্ছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড এবং রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি!

শীর্ষ সংবাদ: