সোমবার ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

রাইড শেয়ারিংয়ের নতুন ভোগান্তির নাম ভাড়া

 রাইড শেয়ারিংয়ের নতুন ভোগান্তির নাম ভাড়া
  • নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১১টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও, একটি প্রতিষ্ঠানও শর্ত পূরণ করতে পারেনি ॥ বিআরটিএ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং ব্যবহারকারীদের আরেক ভোগান্তির নাম ভাড়া। একই দূরত্বে একেক সময় একেক ভাড়া। যাত্রীর চাপ বেশি থাকলেও ভাড়া বেড়ে যায়। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে, রাইড শেয়ারিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর দায় চাপাচ্ছে জিপিআরএস সিস্টেমের ওপর।

এছাড়া জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এ্যাপভিত্তিক কয়েকটি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও উঠছে। গন্তব্য ও দূরত্ব একই হওয়া সত্ত্বেও একেক সময় একেক রকম দূরত্ব দেখায় এবং ভাড়াও কাটে একেক রকম।

কারওয়ান বাজার থেকে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার দূরত্ব (জিএফএস) সাড়ে সাত কিলোমিটারের মতো। কাজের প্রয়োজনে একজন যাত্রী প্রায়ই এ্যাপভিত্তিক একটি রাইড শেয়ার করে যাতায়াত করেন। কিন্তু কখনও দূরত্ব ৭.৮২ কিলোমিটার, কখনও ৭.৩০ আবার কখনও বা ৩.২৭ কিলোমিটার দেখায়। এর ফলে ভাড়ার তারতম্য দেখা যায়। তবে অধিকাংশ সময় ভাড়া বেড়ে যায়।

একই অভিজ্ঞতা, আরও অনেক যাত্রীর। আজিমপুর থেকে কারওয়ান বাজারের দূরত্ব কখনও দেখায় ৩.৫০ কিলোমিটার, আবার কখনও ৬.৯৬ কিলোমিটার। উবারের একজন যাত্রীর অভিযোগ, উত্তরা থেকে জিয়া কলোনি পর্যন্ত তার সম্ভাব্য ভাড়া ছিল ৪২৪ টাকা, যা পরে বেড়ে হয়, ১,০৮০ টাকা। আবার যাত্রীর কল নেয়ার পর তা বাতিল না করে অন্য প্রতিষ্ঠানের রাইড নেয়ারও অভিযোগ আছে ভুরি ভুরি। এসব নিয়ে অভিযোগ করলেও বাস্তবে কোনও ফলাফল মিলে না।

রাইড শেয়ারিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এ্যাপসে অতিরিক্ত ভাড়া ওঠায় তাদের হাত নেই। এ প্রসঙ্গে পাঠাও-এর জুনিয়র সহ-সভাপতি আহমেদ ফাহাদ বলেন, ‘আমাদেরসহ সবার সিস্টেম জিপিএস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অনেক সময় তা ঠিকমতো কাজ না করতেও পারে। এজন্য ভাড়া এদিক-সেদিক হয়।

বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর পরিচালক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘হয়ত এ্যাপসের মধ্যে কোনও ত্রুটি আছে। ত্রুটিটা ঠিক করে নেয়া তাদের জন্য যথাযথ হবে। এ্যাপসকে ত্রুটিমুক্ত করা গেলে, সমস্যা এড়ানো সম্ভব।’

বিআরটিএ (রোড সেফটি) পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১১টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও, একটি প্রতিষ্ঠানও শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এই নীতিমালায় যে শর্ত আছে তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেনি। এই কারণে আমরা তাদের অনুমোদন দিতে পারিনি। এখানে বিআরটিএ, এ্যাপস কোম্পানি ও পুলিশ এই ত্রিপক্ষের একটা বিষয় আছে। এ নিয়ে তারা পুলিশের সঙ্গে, আমাদের সঙ্গে বসছে। মনে করছি শীঘ্রই এটার সমাধান হবে।

শীর্ষ সংবাদ: