ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

ক্রসফায়ারে বিরোধী নেতাকর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে ॥ রিজভী

প্রকাশিত: ০৭:২৭, ২৭ মে ২০১৮

ক্রসফায়ারে বিরোধী নেতাকর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে ॥ রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ারে এখন ক্রমান্বয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতেও ৫ জেলায় ৭ জনকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন বিচার বহির্ভূত হত্যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অপর এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে প্রয়োজন কঠোর আন্দোলন। আরেক অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার না চাইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। রিজভী বলেন, অনেক পরিবারের অভিযোগ পুলিশের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় নিরীহ লোকদের হত্যা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে গ্রেফতার বাণিজ্য। ঈদ মৌসুমে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের রমরমা বাণিজ্য করার সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, মাদকের গডফাদাররা আওয়ামী লীগের লোক বলেই তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, বাতাসে বারুদের পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে দিয়ে সরকার নিজের জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। রিজভী বলেন, গত সাড়ে ৯ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসার নেপথ্যের কারিগররা বিদেশে আয়েশি জীবন-যাপন করছে। অথবা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা হয়ে দেশেই বসবাস করছে। আওয়ামী লীগ নেতা মাদক স¤্রাট বদিসহ শত শত বড় বড় নেতাকর্মীদের নাম গণমাধ্যমে প্রচার হলেও এখনও পর্যন্ত তাদেরকে আইনের আওতায় নেয়া হয়নি। দেশে মাদক বিস্তারের জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ। তাদের আমলেই সব সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে মাদকের চালান ঢুকছে অত্যন্ত নিরাপদে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, একদিকে জনগণকে ভয় পাইয়ে দিতে সরকারী চেষ্টা বাস্তবায়ন হচ্ছে অন্যদিকে নিরীহ লোকদের ধরে হত্যা ও হত্যার ভয় দেখিয়ে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঈদের আগে রমরমা বাণিজ্য। প্রত্যেক ঈদ মৌসুমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের রমরমা বাণিজ্য করার সুযোগ করে দেয়া হয়, এখন গ্রেফতার বাণিজ্যের পাশাপাশি হত্যা বাণিজ্য চলছে। রিজভী বলেন, এখন পর্যন্ত ৭৫ জনকে হত্যা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোটা দেশকে হত্যার বধ্যভূমিতে পরিণত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে মাদক নির্মূলের নামে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এভাবে নির্বিচারে মানুষ হত্যা সকলের জন্য রীতিমতো উদ্বেগ, ভয় ও বিপদের কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, এখন দেশজুড়ে মাদকবিরোধী যে অভিযান চলছে সেখানে পুলিশ তাদের ইচ্ছামতো বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ধরে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে, হয়রানি করছে। যদিও বলা হচ্ছে তালিকা করে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা। আসলে মাদক ব্যবসায় যারা গডফাদার তারা মূলত আওয়ামী লীগেরই লোক, আর সেই কারণেই তারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, অবিলম্বে এসব নাটক বন্ধ করুন, মাদক নির্মূলের নামে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। আমরা বরাবরই বলে আসছি, বিএনপি মাদকবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নয়, আপনারা প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের গণসংযোগের সুযোগ রেখে নির্বাচন আচরণবিধির যে সংশোধন হয়েছে তার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধিমালা সংশোধন করেছে ইসি, যা ভোটের ময়দান ধ্বংসের শামিল। এর ফলে ভোটের মাঠে সমান সুযোগ থাকবে না। এটি ভোটারদের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা। রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন দলকে লাভবান করতেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধন করেছে। জানা গেছে, একজন নির্বাচন কমিশনার এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট দিলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সরকারী দলের নুন খাওয়ার অমর্যাদা করেননি। তিনি সরকারের এই ইচ্ছা পূরণের মধ্যদিয়ে সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন কমিশনকে স্বাধীনভাবে চলার পথে বাধা দিলেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, দলের নেতা এ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রমুখ। খালেদাকে মুক্ত করতে প্রয়োজন কঠোর আন্দোলন- নজরুল ॥ দলের নেতাকর্মীদের কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি। তবে এভাবে আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করা যাবে না। তাকে মুক্ত করতে হলে প্রয়োজন কঠোর আন্দোলন। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবিতে মুক্তির দাবিতে ‘শফিউল বারী মুক্তি পরিষদ’ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নজরুল বলেন, জনতা পারে না এমন কোন কাজ নেই। আমরা ৯০ এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা তখন পেরেছি কারণ তখন আমাদের আন্দোলনের বয়স ছিল। তবে এখন যদি করতে বলেন তাহলে পারব না। এখন আন্দোলন করতে হবে স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলকে। তিনি বলেন, সবারই ধৈর্য্যরে সীমা থাকে। এই দেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়ে গেছে। ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আজ কারাগারে যথেষ্ট অসুস্থ। ডাক্তাররা বলেছেন এমন অবস্থায় থাকলে তিনি পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন, অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। সরকারী চিকিৎসকরা তার উন্নত চিকিৎসার সুপারিশ করার পরও সরকার সেটা আমলে নেয়নি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের বক্তৃতায় খুব বেশি সাহসী হওয়ার চেয়ে কাজে বেশি সাহসী হতে হবে। জনগণ বর্তমান সরকারের পক্ষে নেই। তারা সুযোগ পেলে বিএনপিকেই ভোট দিতে চায়। সরকার না চাইলে খালেদার মুক্তি হবে না- ড. মোশাররফ ॥ আদালতের হাতে নয়, সরকারের হাতেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, যতই জামিন নেয়া হোক না কেন সরকার না চাইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. মোশাররফ বলেন, সরকার রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গায়ের জোরে আরেকটি বাকশালী সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়।