ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

পোকামাকড়ের কামড়ে কারাবন্দী বেগম জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন

প্রকাশিত: ০৬:১৩, ২৪ মে ২০১৮

পোকামাকড়ের কামড়ে কারাবন্দী বেগম জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া পোকামাকড়ের দংশনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, মঙ্গলবার পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন তার নিকটাত্মীয়রা। তাদের কাছে খালেদা জিয়া বলেছেন কারাগারে তাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছে তা বসবাসের অযোগ্য। স্যাঁতসেঁতে, জরাজীর্ণ ভবন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকলে যা হয় সেই রকমই অবসবাসযোগ্য ও নানা অসুখ-বিসুখ আক্রমণের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে কারাগারে খালেদা জিয়ার বাস করার কক্ষটি। অসংখ্য পোকামাকড়ে আকীর্ণ কক্ষটিতে বাস করা যেন নরকবাস। অসংখ্য পোকামাকড় রয়েছে সেখানে। এসব পোকামাকড়ের দংশনে খালেদা জিয়া আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার ঘাড়ে প্রচ- ব্যথা, বাম হাতটা অবিরাম ব্যথার কারণে শক্ত এবং তার দুই পায়ে ক্রমাগত ব্যথা হচ্ছে এবং সেগুলো ভারি ও ফুলে উঠছে। কিছু দিন আগে তার চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। চোখ দুটো সারাক্ষণ জ্বালাপোড়া করে। এ ছাড়া দেয়াল থেকে ঝরেপড়া সিমেন্ট ও বালির কারণে চোখের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। ব্যথায় চোখ সবসময় লাল হয়ে থাকে। এসব কারণে খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বারবার দাবি করার পরও খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে দুঃসহ জীবনযাপনে বাধ্য করে তিলে তিলে তার জীবন বিপন্ন করে তোলাই সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। সরকারের নির্দেশিত চিকিৎসকদের পরামর্শও জেল কর্তৃপক্ষ কানে তোলেনি, কারণ কর্তৃপক্ষের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে সরকারী হুঙ্কার। এই কারণে এখন পর্যন্ত তাকে অর্থপেডিক্স বেড দেয়া হয়নি। বিশেষায়িত হাসপাতালে এমআরআই পরীক্ষা অগ্রাহ্য করেছে জেল কর্তৃপক্ষ। আমরা অবিলম্বে তার সুচিকিৎসা ও মুক্তি দাবি করছি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ বিএনপিকে ধ্বংস করাই প্রধানমন্ত্রীর প্রধান এজেন্ডা। আর এ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতার জোরে বন্দী করে রেখে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকালে প্রাণহানি নিয়ে রিজভী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে মাদক বিস্তার করেছে। সরকারের ছত্রছায়ায় গডফাদাররা অন্তরালেই রয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। প্রকৃত বড় বড় মাদক ডিলাররা অন্তরালে থেকে যাচ্ছে কীভাবে? প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বাড়িতে তারা দেখা-সাক্ষাত করছেন। চারিদিকে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে সরকারী এই মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে। রিজভী আহমেদ বলেন, বিচারবহির্ভূতভাবে নির্বিচারে বন্দুকযুদ্ধে মানুষ হত্যা করে পৃথিবীর কোথাও সামাজিক অপরাধ দমন করা যায়নি। তিনি বলেন, ৯ দিনে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৪৩ জন। নিহত ব্যক্তিদের মাদক ব্যবসায়ী বলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অথচ যতবড় অপরাধী হোক তাকে বিচারবহির্ভূত হত্যার সুযোগ নেই। রিজভী বলেন, রাষ্ট্র যদি নানা অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হয় তাহলে তাদের দ্বারা সৃষ্ট বেআইনী কর্মকা- বীভৎস্যরূপে আত্মপ্রকাশ করবেই। এই বিচারবহির্ভূত হত্যার যাত্রাপথে ক্রমাগতভাবে সরকারবিরোধী লোকজনদের নির্মূলে ব্যস্ত থাকার আশঙ্কা করছে অনেকেই। মাদকের পশ্চাদভূমি বন্ধ না করে, গডফাদারদের না ধরে শুধু ক্রসফায়ারের হিড়িক অব্যাহত রাখলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কারণ, সারাদেশে মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায়। এই সকল ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা দেশকে রক্তাক্ত নির্বাচনের দিকে নিয়ে যায় কিনা সেটি নিয়েও এখন মানুষ ভাবছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।