ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, ক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমর্থকদের মধুর উপহার গ্যালাক্টিকোদের, নয় বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুল, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন ১-২ রিয়াল মাদ্রিদ (দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলে জয়ী রিয়াল), ;###;লিভারপুল ০-০ এফসি পোর্তো (দুই লেগ মিলিয়ে

পিএসজিকে বিদায় করে শেষ আটে রিয়াল মাদ্রিদ

প্রকাশিত: ০৫:৩৬, ৮ মার্চ ২০১৮

পিএসজিকে বিদায় করে শেষ আটে রিয়াল মাদ্রিদ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অন্য সব আসর গুল্লাই গেলেও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে বরাবরই ভিন্ন চেহারায় দেখা যায় রিয়াল মাদ্রিদকে। স্প্যানিশ পরাশক্তিরা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে গত মৌসুমে। চলমান মৌসুমে অন্যান্য আসরে ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বাকি শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। কিন্তু ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে তাদের আটকাবে সাধ্য কার। আপাতত সেটা পারেনি ফরাসী পরাশক্তি প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনও (পিএসজি)। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল (শেষ ষোলো) থেকেই ডি মারিয়া, গঞ্জালো হিগুয়াইন, এডিনসন কাভানিদের বিদায় করে দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, সার্জিও রামোস, মার্সেলো, কাসেমিরোরা। মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে প্যারিসের পার্ক দ্য প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে ইনজুরি আক্রান্ত নেইমারকে ছাড়াই অসাধ্য সাধনের লক্ষ্যে নামে উনাই এমেরির দল। সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে ৩-১ গোলে হারায় বড় ব্যবধানে জয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু জয় দূরে থাক, ঘরের মাঠে আরেকবার হেরেছে তারা। এবার রিয়ালের কাছে পিএসজি ধরাশায়ী ২-১ গোলে। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলের বড় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট পেয়েছে জিনেদিন জিদানের দল। অন্যদিকে নয় বছরের খরা কাটিয়ে শেষ আটে উঠেছে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল। প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে ৫-০ গোলে জিতেই অনেকটা নিশ্চিত হয়েছিল দ্য রেডসদের পরের পর্বে খেলা। পরশু রাতে নিজেদের মাঠে অবশ্য জিততে পারেনি তারা। এ্যানফিল্ডে পর্তুগীজ ক্লাবটির সঙ্গে লিভারপুল ড্র করেছে গোলশূন্যভাবে। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-০ গোলে জিতে ঠিকই কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছেন মানে, সালাহ, ফিরমিনোরা। প্যারিসে স্বাগতিক পিএসজির বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুর দিকে রিয়াল ছিল কিছুটা অগোছালো। সেই সুযোগে তাদের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি আক্রমণ রচনা করে পিএসজি। কিন্তু নেইমারবিহীন দলের ওই আক্রমণে কোন ধার ছিল না। যে কারণে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। বিরতির পর দুই দলই আক্রমণের ধার বাড়ায়। ফলে ম্যাচ জমজমাট হয়ে ওঠে। এ অর্ধের ষষ্ঠ মিনিটেই (৫১ মিনিট) ম্যাচের প্রথম গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী পর্তুগাল সুপারস্টার রোনাল্ডো। বাঁপ্রান্ত থেকে লুকাস ভাজকুয়েজের ক্রসে ডি বক্সে থাকা সি আর সেভেন লাফিয়ে উঠে দর্শনীয় হেডে লক্ষ্যভেদ করেন (০-১)। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে এটি পর্তুগাল তারকার ১১৭তম গোল। ৭১ মিনিটে গোলটি পরিশোধ করেন পিএসজির উরুগুইয়ান তারকা এডিনসন কাভানি। আর্জেন্টাইন উইঙ্গার ডি মারিয়ার ক্রসে ডাইভিং হেড করেন জ্যাভিয়ের পাস্টোরে। বলটি রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ডি বক্সে থাকা কাভানির কাছে গেলে তিনি টোকা মেরে জালে জড়ান (১-১)। এর আগে ৬৬ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পিএসজির মার্কো ভেরাট্টি। ফলে দশজনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। ৮০ মিনিটে কাসেমিরো গোল করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন। ডি বক্সে জটলার মধ্য থেকে তার নেয়া শট ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মারকুইনহোসের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায় (১-২)। ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান বলেন, শুরু থেকেই আমরা সঠিক ফর্ম ধরে রেখে খেলেছি। মাঠে সেরাটা দিয়েছি। এটি ছিল নিখাদ একটি ম্যাচ। এখানে ম্যাচ জয় করা খুব একটা সহজ ছিল না। এটি ঠিক যে লীগ ও কাপে বর্তমান সময়টি আমাদের ভাল যাচ্ছে না। তবে এটি ফুটবলেরই একটি অংশ। এই খেলোয়াড়রাই গত দুই বছরে বিপুলসংখ্যক ম্যাচে জয় ছিনিয়ে এনেছে। তবে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বেশ কঠিন। এই হারকে লজ্জার নয় বলে মন্তব্য করেছেন পিএসজি কোচ উনাই এমেরি। তিনি বলেন, শেষ ষোলোর বাধা পেরুতে না পারাটা হতাশার। তবে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারাটা নয়। এগিয়ে যাওয়ার জন্য তারাই বেশি যোগ্য। এ বিষয়ে অন্য কোন বিশ্লেষণের সুযোগ নেই। এই হারের ফলে ২০১১ সালে কাতারি বিনিয়োগ আসার পর চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে অংশগ্রহণের সুযোগ এখনও অধরাই থেকে গেল পিএসজির।