ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

হামজা শাবান

বিটকয়েনের দরের হঠাৎ উথাল পাতাল

প্রকাশিত: ০৬:৫২, ৬ জানুয়ারি ২০১৮

বিটকয়েনের দরের হঠাৎ উথাল পাতাল

ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের দাম সম্প্রতি ধপ করে পড়ে যায়। প্রায় ৩০ শতাংশ দরপতন ঘটে মুদ্রাটির। তবে কিছু সময়ের মধ্যে আবার এটি তার বেশিরভাগ হারানো মূল্য ফিরে পায়। সোজা কথায় বেশ কয়েক দিন বিট কয়েনের উত্থান পতনের একটা পর্ব চলে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যারা সম্প্রতি এই ক্রিপটোকারেন্সিকে দামের দিক দিয়ে চরম উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল তাদের জন্য এ ছিল এক অগ্নিপরীক্ষার মতো ব্যাপার। ২২ ডিসেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টার আগে বিটকয়েন ১১ হাজার ৮৩৩ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল। এটা ছিল সর্ববৃহৎ ভার্চুয়াল মুদ্রাটির এক বড় ধরনের দরপতন। আগের দিন বৃহস্পতিবারের দরের তুলনায় এর দর প্রায় ৪ হাজার ডলার পড়ে যায়। অর্থাৎ দরপতনের হার ছিল ২৭ শতাংশ। ডিসেম্বরের প্রথমদিকে বিটকয়েনের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ মাত্রায় ১৯৭৮৩ ডলারে উঠেছিল। এর সঙ্গে তুলনা করলে শুক্রবার সকালের দরপতনের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। শুক্রবার ১১টার পর যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ বিটকয়েন এক্সচেঞ্জগুলোর অন্যতম ‘কয়েনবেস’ ঘোষণা করে যে ট্রাফিক বেশি থাকায় তাদের সাময়িকভাবে ট্রেডিং বন্ধ রাখতে হয়েছে। ওইদিন বিকেলে আবার কয়েনবেসের লেনদেন নতুন করে শুরু হয়। শুক্রবারের আগ পর্যন্ত বিটকয়েনের মূল্য যে রকম অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে চলেছিল তাতে পাগল হয়ে অনেক আনাড়ি ও নতুন মুদ্রা ব্যবসায়ী ফায়দা লোটার জন্য বিটকয়েনে বিনিয়োগের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। কিন্তু শুক্রবারের দরপতনের ঘটনায় নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে হৃদকম্প ঘটে থাকবে। বিটকয়েন মোহগ্রস্তদের জন্য এটা ছিল প্রথম পাঠ। শুধু গত বছরেই বিটকয়েনের দাম এক হাজার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি বিটকয়েনের সঙ্গে যুক্ত কিছু কোম্পানির শেয়ারের দামও বেড়ে যায়। ব্রিটেন ও আমেরিকা উভয় জায়গাতেই একই রকম ঘটনা ঘটে। এই যখন অবস্থা তখন ২২ ডিসেম্বর ঠিক কি কারণে বিটকয়েনের দাম এত পড়ে গিয়েছিল তা পরিষ্কার নয়। বিটকয়েনের দাম যখন অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল তখন কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ ব্যাপারটির অত্যন্ত সমালোচনা করেছিলেন। তারা এটাকে এক ধরনের ফটকাবাজি আখ্যায়িত করেছিলেন। তাদের মতে এই ডিজিটাল মুদ্রার মধ্যে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা মিশে আছে বলেই ফটকাবাজির যে পরিণাম তা এর ক্ষেত্রে ঘটতে বাধ্য। ইউএসবি তো বিটকয়েনকে ফটকাবাজির ফানুস বলে উল্লেখ করেছে। জেপি মরগ্যান চেজের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন বলেছেন যে বিটকয়েন এক ভুয়া ব্যাপার যার শেষ কখনই ভাল হবে না। ২১ ডিসেম্বরই ব্যাংক অব জাপানের গবর্নর হারুহিকো বিটকয়েনের মূল্য বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যায়িত করেছিলেন। যাই হোক, ২২ ডিসেম্বর সকালের দিকে বিটকয়েনের ব্যাপক দরপতনের পর ওইদিন বিকেলেই এর দাম ফিরে আসতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেডিং শেষে এর মূল্য দাঁড়ায় ১৪২৪১ ডলার। এই উত্থান পতনের কারণ জানা না গেলেও এমআইটির ক্রিপটোইকোনমিক্সের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান ক্যাটালিনি বলেন, বিটকয়েনের ইতিহাসে মূল্য সংশোধন এক সাধারণ ব্যাপার এবং যেহেতু ক্রিপটোকারেন্সির বাজার এখনও ছোট তাই গুটিকয়েক বড় বড় কুশীলব এই বাজারের দরের উথাল পাতাল ঘটাতেই পারে।