ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ফেসবুক এবং সেলফি...

প্রকাশিত: ০৫:৫৫, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

ফেসবুক এবং সেলফি...

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। স্মার্টফোনের সহজলভ্যতাই এর অন্যতম কারণ। আর এখন অনেকের কাছে স্মার্টফোন মানেই ইন্টারনেট আর ফেসবুক। মার্ক জুকারবার্গ ও তার তিন বন্ধু মিলে ২০০৪ সালে নির্মাণ করেছিলেন ফেসবুক; যা প্রথমে হার্বার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরে এর জনপ্রিয়তার কারণে এটি উন্মুক্ত করা হয়। জুকারবার্গ তার নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে জানান, বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫৫ কোটি ছাড়িয়েছে। আর প্রতিদিন ফেসবুক ব্যবহার করেন ১০০ কোটি মানুষ। বাংলাদেশেও ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দেশে ৫ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে শুধু ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। বিটিআরসি জানিয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটিতে পৌঁছবে। ফেসবুকের ভালমন্দ দুটো দিকই আছে। কিন্তু বর্তমানে এর কিছু খারাপ দিক দেখতে পাচ্ছি। বাস, ট্রেন, রিক্সা সব জায়গাতেই ফেসবুক ব্যবহারের সীমাহীন প্রবণতা। এমনকি শ্রেণীকক্ষেও ফেসবুক ব্যবহারের কথা শোনা যায়। অতিমাত্রায় ফেসবুক ব্যবহারের ফলে মানুষের চিন্তাশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। ফেসবুকের কারণে মানুষের বই পড়ার আগ্রহ অনেক কমে গেছে বলে অনেকের অভিযোগ। আগে মানুষ সময় কাটাতে প্রচুর বই পড়ত আর এখন সময় কাটানোর মাধ্যমই হয়ে উঠেছে ফেসবুক। আবার এটাও বলা হচ্ছে, ফেসবুকের অতিরিক্ত ব্যবহারে পারিবারিক বন্ধনও শিথিল হয়ে যাচ্ছে। ছেলেমেয়েরা এখন মা- বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর চেয়ে ফেসবুকে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে। আবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে কমে যাচ্ছে সখ্য। পাশে বসে থাকা রক্ত-মাংসের মানুষটির চেয়ে ভার্চুয়াল জগতের মানুষটি অনেক বেশি আপন হয়ে যাচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা। ফেসবুকের অনেক ভাল দিকও আছে। তার মধ্যে অন্যতম; নতুন বন্ধু খুঁজে পাওয়া। ফেসবুকে একটি মন্তব্য লিখে আপনি সবাইকে জানিয়ে দিতে পারেন আপনার অবস্থা কিংবা অবস্থান। বিভিন্ন গ্রুপ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে পরস্পরের সঙ্গে। হালের ক্রেজ সেলফি। অনেকের কাছে তা আবার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে! মুখ-চোখের নানা ভঙ্গিতে ছবি তুলে নিজের অভিব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া। এরই নাম সেলফি। অনেকের কাছে এ যেন এক মাদকতায় পরিণত হয়েছে। শুধু কমবয়সীরাই নয়, সেলফির হাওয়া লেগেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পোপ ফ্রান্সিস থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদির মতো নেতাদেরও। কোথায় সেলফি তোলা যাবে, কোথায় তোলা যাবে না এটাও আমরা আজ ভুলতে বসেছি। এই তো কদিন আগেই অসুস্থ খাদিজার (বদরুল যাকে কুপিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল) সঙ্গে তিন এমপি সেলফি তুলে সমালোচিত হয়েছেন নানা মহলে। সেলফিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে গান ও সিনেমা। কিছুদিন আগে একটি জনপ্রিয় প্যারোডি ওয়েবসাইট চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওয়েবসাইটটির দাবি, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) সেলফিকে একটি মেন্টাল ডিজঅর্ডার বলে ঘোষণা করেছে। এই ‘রোগ’র নাম দেয়া হয়েছে সেলফাইটিস। এই তো গত সপ্তাহেই রেললাইনে ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা গেল দুজন ছেলে। শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা পৃথিবীতেই এমন ঘটনা অহরহ। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত বছর সারা পৃথিবীতে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা গেছে ২৭ জন। ২০১৩ সালে ‘সেলফি’ ওয়ার্ডটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে। বিশ্ববরেণ্য বহু চিত্রশিল্পী নিজেরাই নিজেদের পোর্ট্রেট এঁকেছেন। এদের মধ্যে দ্য ভিঞ্চি, পিকাশো, ভ্যানগগ এবং মাতিসের সেল্ফ পোর্ট্রেট সবচেয়ে বিখ্যাত। অনেকের মতে, পোর্ট্রেটগুলো থেকেই সেলফির উৎপত্তি। তাই আপনিও চাইলে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মূহূর্তগুলোর ছবি তুলে নিজের মতো করে রাখতে পারেন। তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু তা যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়। এমনই প্রত্যাশা সবার কাছে। যাপিত ডেস্ক