ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ব্রায়ান ফাং;###;ওয়াশিংটন পোস্ট

মুক্ত ইন্টারনেট থেকে চীনাদের দূরে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ০৬:২০, ২২ জুলাই ২০১৭

মুক্ত ইন্টারনেট থেকে চীনাদের দূরে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা

চীনে নিজেদের প্রাইভেসি রক্ষা করতে এবং অনলাইন সেন্সরশিপ থেকে পরিত্রাণ পেতে ওয়েব সার্ভাররা যে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে থাকে চীন সরকার সেটির বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে। দেশের বৃহত্তম কয়েকটি টেলিকম কোম্পানিকে তাদের গ্রাহকদের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহার করতে না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক এখন এক প্রযুক্তি যা অন্যান্য সার্ভারের মাধ্যমে একজনের ইন্টারনেট ট্রাফিকের পথ এমনভাবে ঘুরিয়ে দেয় যাতে দেখতে লাগে তারা অন্য কোন জায়গা থেকে ওয়েবের সঙ্গে যুক্ত। চীনের বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানির কয়েকটি হল রাষ্ট্র পরিচালিত চায়না মোবাইল, চায়না ইউনিকম এবং চায়না টেলিকম। বেজিং সরকার ওয়েবের পরিশ্রুত অংশটাই যাতে কেবল দেশের অধিকাংশ এলাকার দৃশ্যমান হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টায় ইন্টারনেটের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে। এই বিধিনিষেধগুলো সাধারণভাবে ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ নামে জনসাধারণের কাছে পরিচিত। গ্রেট ফায়ারওয়াল বা বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য চীনা নাগরিকরা এতদিন ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করে এসেছে। ভিপিএনের বদৌলতে চীনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা টুইটার ও ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ও নিউজ সাইটগুলোর যেগুলো বিধিনিষেধপ্রাপ্ত সেগুলোতে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে থাকে। চীন সরকার ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ ফাঁকি দেয়া ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যেই দমন অভিযান চালিয়ে থাকে। সর্বশেষ এমন অভিযান চালিত হয়েছে ২০১৬ সালে। তখন থেকে ভিপিএনের ব্যবহার ব্যাপক বেড়ে যায়। তবে সম্প্রতি ভিএনপির ওপর আক্রমণ জোরদার হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি দফতর নিয়ম জারি করে যেসব ভিপিএন সরকারের পূর্ব অনুমোদন নেয়নি সেগুলো অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। তারপর থেকে বেশকিছু ভিপিএন প্রোভাইডারকে আইনী হুঁশিয়ারির দোহাই দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকার বলেছে যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমলে ভিপিএনের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চীনের ইন্টারনেটকে ‘বিশুদ্ধ করা’ এবং দেশের সাইবার সার্বভৌমত্ব জোরদার করার প্রচেষ্টারই অংশ। এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ চীনা নাগরিকদের মুক্ত ইন্টারনেটে ঢোকার সুযোগ কঠিন হয়ে পড়ল। ফলে মুক্ত ইন্টারনেটে যেতে হলে মূল ভূখ-ের বাইরে স্থাপিত ভিপিএন ব্যবহার করতে হবে অথবা নিজস্ব ভিপিএন সার্ভার স্থাপন ও ব্যবহার করতে হবে যা হচ্ছে এক বাড়তি বাধা। তবে চীনের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে সরকার এ ব্যাপারে আরও কিছু পদক্ষেপ নেবে। অর্থাৎ দমন অভিযান জোরদার হবে। গ্রেটফায়ার ডট অর্গ নামে একটি ওয়েবসাইটের ছদ্মনামী যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা চার্লি স্মিথ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের এ্যাপ বন্ধ করার অন্যান্য পদক্ষেপও নিতে পারে যা হবে এখনকার চাইতে আরও কঠোর।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২