ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

খেলা

টানা ছয় জয়ে সেই লিচেস্টার সিটির ইতিহাস

প্রকাশিত: ০৬:২৬, ৬ এপ্রিল ২০১৭

টানা ছয় জয়ে সেই লিচেস্টার সিটির ইতিহাস

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অলৌকিক প্রত্যাবর্তনই বলতে হবে। গত মৌসুমে ইতিহাস গড়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা জয় করে লিচেস্টার সিটি। সেই দলটিই এবার শুরু থেকে ধুঁকতে থাকে। একপর্যায়ে অবস্থান হয় তালিকার ১৮তম স্থানে। যে কারণে শঙ্কা ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও অবনমন হওয়ার। এমন অবস্থায় বহিষ্কার করা হয় রূপকথার নায়ক কোচ ক্লাউডিও র‌্যানিয়েরিকে। তার জায়গায় আসেন সহকারী ক্রেইগ শেক্সপিয়ার। অবাক ব্যাপার। এর পরই পুরো চিত্র পাল্টে গেল। অবনমনের শঙ্কায় থাকা সেই দলটিই এখন আগের মতো দুরন্ত, দুর্বার, অপ্রতিরোধ্য। নতুন কোচের অধীনে টানা ছয় ম্যাচ জিতেছে লিচেস্টার। এর মধ্যে পাঁচটিই ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে। মঙ্গলবার রাতেও দুর্দান্ত জয় পেয়েছে তারা। ঘরের মাঠে লিচেস্টার ২-০ গোলে হারিয়েছে অতিথি সান্ডারল্যান্ডকে। অন্যদিকে ড্র’র বৃত্তেই আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নিজেদের মাঠ ওল্ডট্র্যাফোর্ডে হারতে বসা ম্যাচে শেষ মিনিটে জ¬াতান ইব্রাহিমোভিচের পেনাল্টি গোলে রেড ডেভিলসরা ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে এভারটনের সঙ্গে। দারুণ প্রত্যাবর্তনে অবনমন অঞ্চল থেকে পয়েন্ট তালিকার দশম স্থানে উঠে এসেছে লিচেস্টার। ৩০ ম্যাচে তাদের ভা-ারে জমা ৩৬ পয়েন্ট। বাকি ম্যাচগুলোতে ভাল করলে অবস্থান আরও ভাল করার সুযোগ থাকছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। এক ম্যাচ কম খেলে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে ম্যানইউ। ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে চেলসি। লিচেস্টার যা করছে সেটা ইপিএলের ইতিহাসেই বিরল। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও অবনমনের শঙ্কা। এরপর কোচকে বিদায় করার পর টানা জয়। যা নতুন ইতিহাসই সৃষ্টি করেছে। নতুন কোচ শেক্সপিয়ারের অধীনে লীগে টানা পাঁচ ও সবমিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ জিতেছে চ্যাম্পিয়নরা। ইংলিশ লীগে ক্যারিয়ারের শুরুতে টানা পাঁচ ম্যাচ জেতা তৃতীয় কোচ শেক্সপিয়ার। ছয়টি করে ম্যাচ জিতেছিলেন কার্লো আনচেলোত্তি ও পেপ গার্ডিওলা। ওল্ডট্র্যাফোর্ডে ড্র করাটা যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যানউর জন্য। তবে এবার হারতেই বসেছিল তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইব্রার পেনাল্টিতে আবারও সেই ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। লীগে এ নিয়ে টানা ২০টি ম্যাচ অপরাজিত থাকল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে এর অর্ধেকই ড্র। আর এবারের লীগে দলটির ১২টি ড্র’র মধ্যে নয়টিই ঘরের মাঠে। ম্যাচের ২২ মিনিটে কাছ থেকে ফিল জাগিয়েলকার বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রিকে এগিয়ে যায় এভারটন। পিছিয়ে পড়ার পর বেশ কয়েকটি ভাল সুযোগ নষ্ট হয় ইউনাইটেডের। আন্ডের হেরেরার প্রচেষ্টা বাধা পায় ক্রসবারে। দ্বিতীয়ার্ধে এ্যাশলি ইয়ংয়ের ফ্রিকিক থেকে পল পোগবার হেড আবারও বারে লেগে প্রতিহত হয়। ৭১ মিনিটে ইব্রাহিমোভিচ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের জন্য গোল বাতিল হয়। টিভি রিপ্লেতে অবশ্য মনে হয়েছে সুইডিশ তারকার হেড এভারটন গোলকিপার জোয়েল রবেলসকে ফাঁকি দেয়ার আগে অফসাইডে ছিলেন না। অবশেষে ম্যাচের ৯৪ মিনিটে লুক শর গোলমুখী শট হাত দিয়ে রুখে লালকার্ড দেখেন ডিফেন্ডার এ্যাশলি উইলিয়ামস। পেনাল্টি থেকে ম্যানইউকে সমতায় ফেরান সুইডিশ স্ট্রাইকার ইব্রাহিমোভিচ। ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি ম্যানইউ কোচ মরিনহো। তার মতে এই ম্যাচে জয় প্রাপ্য ছিল তার দলের। স্পেশাল ওয়ান বলেন, ভিএআর (ভিডিও এ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) থাকলে আমরা ২-১ গোলে জিততাম। ইব্রাহিমোভিচের গোলটি মোটেও অফসাইড ছিল না। পর্তুগীজ লৌহমানবের অবশ্য লাইন্সম্যানের প্রতি রাগ নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইব্রাহিমোভিচের গোলটি অফসাইড ছিল না, তবে এটা ধরা লাইন্সম্যানের জন্য খুবই কঠিন কাজ। আমি তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করছি না। আমি কেবল বলতে চাই ভিএআর প্রযুক্তি এলে সবার জন্যই ভাল হবে। লীগে টানা ২০ ম্যাচ অপরাজিত ইউনাইটেড। কিন্তু অর্ধেকই ড্র। মরিনহো খুশি হবেন নাকি বেজার, ঠিক যেন বুঝতে পারছেন না। বলেন, ২০ ম্যাচে অপরাজিত থাকাটা দারুণ ব্যাপার। এ যুগের প্রিমিয়ার লীগে এটা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার। তবে আমাদের গোল করার ক্ষমতার উন্নতি ঘটিয়ে আরও বেশি ম্যাচ জিততে হবে। নিজেদের মাঠে ড্রটা খুব বেশি হয়ে যাচ্ছে।