মঙ্গলবার ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

ম্যাথুসের কণ্ঠে ধৈর্যের ডাক

ম্যাথুসের কণ্ঠে ধৈর্যের ডাক

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে শুরুটা ভাল হয়নি লঙ্কানদের। পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে ২০৬ রানের বড় হারে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে পিছিয়ে অতিথিরা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে নাস্তানাবুদ করে ফেরা স্বাগতিক প্রোটিয়ারাই যে ফেবারিট, প্রথম দ্বৈরথেই সেটি পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতা শ্রীলঙ্কাকে ডুবিয়েছে। অলআউট ২০৬ ও ২৮১ রানে। এজন্য ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যের অভাকে দায়ী করেছেন অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নিয়মিত লঙ্কান সেনাপতি বলেন, ‘এখানকার উইকেটে শট নির্বাচন অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রোটিয়া বোলিং আক্রমণ এমন যে, মনোযোগটাই প্রধান। এই কন্ডিশনে, এমন বোলিংয়ের বিপরীতে রান করাটা সবসময় কঠিন। ব্যাটসম্যানদের খুব কম সুযোগ আসে। বাজে বলের জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়। ধৈর্য ধরে মনোনিবেশ করে টিকে থাকতে হয়। আমরা সেখানটাতেই ব্যর্থ হয়েছি। দ্রুত ভুল শুধরে সামনে তাকাতে হবে।’ কেপটাউনে সোমবার শুরু দ্বিতীয় টেস্ট।

প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রান করা দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ৪০৬ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। বিপরীতে প্রথম ইনিংসে এক পর্যায়ে ১২১ রানে ৭ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কাকে আরও বড় লজ্জা থেকে বাঁচান ধনঞ্জয় ডি সিলভা, সাত নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন তিনি। আটে নামা রঙ্গনা হেরাথ ২৪। কুশল মেন্ডিজ, কুশল পেরেরা, দিমুথ করুনারতেœÑ টপ অর্ডারে কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। দুই স্বাগতিক পেসার ভারনন ফিল্যান্ডার (৫/৪৫) ও কাইল এ্যাবটের (৩/৬৩) কোন জবাবই তারা দিতে পারেননি। ৪৮৮ রানের অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮১Ñএ গুড়িয়ে যায় লঙ্কানরা। কুশল মেন্ডিজ ৫৮ ও ম্যাথুজ ৫৯ রান করে আউট হন। গ্রেট মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার অবসরের পর টপঅর্ডার ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতার যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেটিও কম দায়ী নয়। দলটিতে এখন শীর্ষ পর্যায়ে ফাইট দেয়ার মতো বড় মাপের ব্যাটসম্যান নেই। দিনেশ চান্দিমাল, দিমুথ করুণারতেœ আর অধিনায়ক ম্যাথুজ ব্যর্থ হলেই সব শেষ।

বিষয়টি মেনে নিয়ে এগোতে হবে বলে মনে করেন ম্যাথুজ, ‘দলে বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানই নতুন। তারা এখনও শিখছে ও টেস্টে মানিয়ে নেয়ার পথ খুঁজছে। আমাদের অবশ্যই তাদের সুযোগ দেয়া উচিত। আমি মনে করি দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা বেশ কিছু অসাধারণ শট খেলেছি। আবার কিছু সহজ বলে আউটও হয়েছি। এটা ঠিক প্রোটিয়ারা ভাল বোলিং করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে রান আউটগুলো তাদের ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে।’ ১৯৯৩ থেকে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এ পর্যন্ত মুখোমুখি ২৩ টেস্টের ১২টি জিতে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলঙ্কার জয় মাত্র ৫টিতে। ৬ টেস্ট ড্র হয়। ২০১২Ñএ সর্বশেষ ঘরের মাটিতে তিন টেস্টের সিরিজে অতিথিদের ২-১এ হারিয়েছিল প্রোটিয়ারা। সিরিজ তো দূরের কথা, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এ পর্যন্ত ওই একটি মাত্র টেস্টই জয়ের মুখে দেখে লঙ্কানরা। প্রায় পাঁচ বছর আগের সেই টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন রঙ্গনা হেরাথ।

এই সফরে বোলিংয়ে তিনিই দলের প্রধান ভরসা। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বোলারদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ৩৯Ñএ পা রাখতে যাওয়া বর্ষীয়ান বাঁহাতি এ অর্থোডক্স স্পিনার। পেসবান্ধব কন্ডিশনেও প্রথম ম্যাচে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

এ্যাকশনে যাচ্ছে পাকিস্তান!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাইরের মতো ক্রিকেটেও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কটা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)! চুক্তির বরখেলাপ করায় এমন ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পিসিবি। ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) মোতাবেক গত দুই বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের অন্তত দুটি দ্বিপক্ষীয় হোম সিরিজে খেলার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান বোর্ড এ জন্য তাগাদা দিলেও খেলা থেকে বিরত থাকে বিসিসিআই। এ দুই সিরিজ ভেস্তে যাওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করছে পিসিবি। আর আইসিসির ভবিষ্যত সূচী (এফটিপি) অনুযায়ী ২০১৭ সালে ভারতের হোম সিরিজে তারা খেলবে না বলে জানিয়েছে। কারণ দ্বিপক্ষীয় সূচী মোতাবেক পাকিস্তানের হোম সিরিজ দিয়ে সর্বশেষ এফটিপি-তে দু’দলের দ্বৈরথ শুরু হওয়ার কথা।

শীর্ষ সংবাদ: