ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

গণযোগাযোগ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম জঙ্গী রাজাকারের পক্ষ নিতে পারে না

প্রকাশিত: ০৫:৩৮, ৩০ নভেম্বর ২০১৬

গণমাধ্যম জঙ্গী রাজাকারের পক্ষ নিতে পারে না

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, গণমাধ্যম হোঁচট খেলে গণতন্ত্র হোঁচট খাবে। রাজনীতিবিদরা ভুল করতে পারে, তবে গণমাধ্যম ভুল করতে পারে না। গণমাধ্যম সমালোচনায় মুখর হবে কিন্তু খলনায়কের ভূমিকা পালন করতে পারে না। কারণ গণমাধ্যম গণতন্ত্রের প্রতিপক্ষ নয়। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রথম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ম্যাপিং দ্য টেরিয়ান অব ম্যাস মিডিয়া রিসার্চ ইন বাংলাদেশ : ক্রিটিক্যাল পার্সপেক্টিভস’ শীর্ষক এ সম্মেলনে দেশের প্রায় ১৫টি সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেনÑ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. মোঃ গোলাম রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শবনম আযীম। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা (গণমাধ্যমকর্মীরা) নিরপেক্ষতার নামে গণতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রকে এক করবেন না। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এবং রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধাকে এক করবেন না। গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করবে, ত্রুটি ধরিয়ে দেবে। কিন্তু তা জঙ্গী, খুনী, রাজাকারের পক্ষ নিতে পারে না। গণমাধ্যমকে অতন্দ্র প্রহরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সরকারের পক্ষ নেয়ার দরকার নেই, তারা বাংলাদেশের সংবিধান ও দেশের ইতিহাসের পক্ষে কাজ করবে। কারণ গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। তিনি আরও বলেন, তথ্য কোন পণ্য নয়, এর সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। এজন্য গণমাধ্যমকে দায়বদ্ধ হতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। নিরপেক্ষতার নামে ভাল-মন্দের মাঝখানে হাঁটা যাবে না। রাজনীতিবিদরা ভুল করলে শুধরে দেয়ার দায়িত্ব গণমাধ্যমে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কখন তার পরিধির বাইরে পা রাখছে আর কখন ব্যক্তি আইনের বাইরে পা রাখছে- এ বিচারটি করার দায়িত্ব বহুক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ওপর বর্তায়। সেজন্য রাষ্ট্র ও রাজনীতির যে ইতিহাস সেখানে রাষ্ট্রনায়করা, রাজনীতিবিদরা ভুল করতে পারে কিন্তু গণমাধ্যমের ভুল করার কোন অবকাশ নেই। আমরা ভুল করলে সমাজ ও গণমাধ্যম ঐক্যবদ্ধভাবে তা শুধরে দেয়। যারা অভিভাবকদের পাহারা দেয় সেই পাহারাদার যদি ভুল করেন তাহলে গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র একসঙ্গে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া ব্যক্তি স্বাধীনতা সম্ভব নয় মন্তব্য করে উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, স্বাধীনতা উপভোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমকে দায়বদ্ধ হতে হবে। দেশের গণমাধ্যম বর্তমানে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে। এ স্বাধীনতার কতটুকু সদ্ব্যবহার করা হচ্ছে তা এখন দেখার বিষয়। এজন্য গণমাধ্যমের আত্মসমালোচনা দরকার।