মঙ্গলবার ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন মুশফিক

চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ বিরতিই বড় বাঁধা টেস্ট ক্রিকেটে ভাল করার জন্য। নিয়মিত টেস্ট খেললে আগামী দুই বছরের মধ্যে ভাল একটা অবস্থানে যাবে বাংলাদেশ দল এমনটাই দাবি করলেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ দল ৯ টেস্ট খেলবে। এর মধ্যে বিদেশের মাটিতেই খেলতে হবে ৭টি, ঘরের মাটিতে মাত্র ২টি। প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিধর ক্রিকেট দল। এ কারণে আগামী বছরটাকে বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন মুশফিক। এবার ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলেছে মুশফিকের দল, এসেছে ঐতিহাসিক বিজয়। নিজেদের স্পিনবান্ধব উইকেটে দারুণ বোলিং করে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টেই সবগুলো উইকেট নিয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা। মুশফিকের দাবি বিদেশের মাটিতেও প্রতিপক্ষের সব উইকেট নেয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশ দলের আছে। ঘরের মাটিতে ভাল খেলার পর বিদেশের মাটিতে অনেক কিছুই প্রমাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে মুশফিক মনে করছেন ব্যাটসম্যানদেরই মূল দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার মিরপুর একাডেমি মাঠে অনুশীলনের সময় আগামী বছরে বাংলাদেশ দলের টেস্ট চ্যালেঞ্জ নিয়ে অনেক কিছুই বলেছেন মুশফিক-

প্রশ্ন ॥ টেস্টে ১৬ বছর কেমন ছিল এবং আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জটা কি?

মুশফিক ॥ বাংলাদেশ টিম অবশ্যই আরও ভাল অবস্থায় থাকতে পারতো। আপনি যদি এক/দুই বছর পরপর একটা করে টেস্ট খেলেন এটা খুবই কঠিন। সর্বশেষ সিরিজটাতে আমরা যে পারফর্মেন্সটা করেছি আশা করব যে ভবিষ্যতে অন্তত টেস্ট ম্যাচ কিছুটা বেশি খেলা হবে। খেলাগুলোতে যদি আমরা ভাল পারফর্মেন্স করতে পারি বাংলাদেশ দল আরও এগিয়ে যাবে। আগের থেকে আমার মনে হয় একটাই পার্থক্য যে বাংলাদেশ দলে এখন পারফর্মারের সংখ্যা অনেক বেশি। এটা একটা ভাল লক্ষণ। আমরা যদি নিয়মিত টেস্ট খেলি আশা করছি দুই বছরের মধ্যে একটা ভাল অবস্থানে যেতে পারব। আমাদের বেশি গুরুত্ব থাকবে যে আমরা ঘরের মাটিতে যেমন ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলেছি তেমন করে যেন বাইরেও ভাল খেলতে পারি।

প্রশ্ন ॥ এই ১৬ বছরে ২০১৭ সালটাই কি আপনি মনে করেন টেস্ট ক্রিকেটে আরও সামনে এগুনোর সুযোগ?

মুশফিক ॥ অবশ্যই। আপনি যত বেশি টেস্ট খেলবেন ততবেশি ভাল করার সুযোগ থাকে। সেদিক থেকে বলব গত ১০/১৫ বছর বাংলাদেশ তেমন বেশি টেস্ট খেলেনি যার কারণে দক্ষতাসম্পন্ন যেসব খেলোয়াড় আছে তাদের পারফর্ম করার সুযোগ নেই। আমি বলব দলগতভাবে আমাদের শুরুটা অন্তত ভাল হয়েছে। ২০১৭ সালটা অবশ্যই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ আর কোন বছরে আমরা হয়তো ৯/১০টা টেস্ট খেলিনি। এটাও আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের আসলে এখনও প্রমাণ করার অনেক কিছু বাকি আছে যে আমরা বাইরে গিয়ে কিরকম খেলি। এজন্য আমাদের, মানে অন্তত ব্যাটসম্যানদের অনেক দায়িত্ব নিতে হবে। আশা করব নিউজিল্যান্ড ট্যুর থেকেই যেন সেটা শুরু করতে পারি।

প্রশ্ন ॥ টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে এই ১৬ বছর পর দলকে নিয়ে আপনার সন্তুষ্টির জায়গা কোথায়?

মুশফিক ॥ আমার সন্তুষ্টির জায়গা বলতে আমি বলব যে আমাদের দলে এখন পারফর্মারের সংখ্যা অনেক বেশি। এটা যে কোন অধিনায়কের জন্যই অনেক বড় পাওয়া। আমি অনেক ভাগ্যবান, আল্লাহর রহমতে এখন অনেক ভাল পারফর্মার আছে। দলে শুধু পারফর্মার থাকলে হবে না, তাদের পারফর্মেন্স করতে হবে। আশা করছি যে এতদিন তারা যেমন করেছে অন্তত আগামী বছরেও সেটা করতে পারি আমরা টেস্টে ভাল করব। আগামী বছর টেস্টগুলোতে ভাল করতে পারলে সেটা বিশ্বব্যাপীই অনেক নাম হয়ে যাবে।

প্রশ্ন ॥ আমাদের শক্তিমত্তার বিষয়টি চিন্তা করে ইংল্যান্ড সিরিজে খেলেছি, এটা আরেকটু আগে থেকে পরিকল্পনা করলে ভাল হতো কিনা?

মুশফিক ॥ আসলে আগে তো শক্তিমত্তাটা কোথায় সেটা বুঝতে হবে। আপনার টিমের যদি শক্তিই না থাকে আগেভাগে কোনকিছু পরিকল্পনা করে প্রস্তুত হওয়া কঠিন। আবার প্রতিপক্ষকে নিয়েও ভাবতে হবে। এটা যদি উপমহাদেশের কোন দল হয়, ওদেরও বিশ্বমানের কিছু স্পিনার থাকবে এবং সামলাতে হবে তাদের। সার্বিকভাবে একটা পরিকল্পনার অবশ্যই ব্যাপার আছে। আমার মনে হয় এখনও দেরি হয়ে যায়নি বরং ভাল সময়েই শুরু হয়েছে। তবে প্রয়োগটাই বেশি জরুরী। পরিকল্পনা আমরা সবসময়ই করে থাকি। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ন া।

প্রশ্ন ॥ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টে ৪০ উইকেট নিয়েছি। বিদেশের মাটিতে আমাদের এই সামর্থ্য আছে কিনা?

মুশফিক ॥ সক্ষম তো অবশ্যই আছে। এই বিশ্বাসটাতো অবশ্যই থাকতে হবে। বরং আমি মনে করি যে নিউজিল্যান্ডে যত সিমিং কন্ডিশনই হোক আমাদের সিম বোলার অনেক ভাল আছে। ২০১৫ বিশ্বকাপেও দেখেন আমাদের সিম বোলাররা অনেক ভাল বোলিং করেছে। তাই আমি বলব যে সিমিং কন্ডিশন হলেও আমাদের অনেক ভাল সিমার আছে যারা কিনা ২০ উইকেট নেয়ার মতো। আশা করছি যারাই সুস্থ আছে এবং যারা ইনজুরি থেকে ফিরবে, মুস্তাফিজও আসবে তারা যদি নিজেদের সেরা পারফর্মেন্সটা করতে পারে তাহলে টেস্টের ২০ উইকেট নেয়ার সক্ষমতা আমাদের অবশ্যই আছে। কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে ব্যাটসম্যানদের।

শীর্ষ সংবাদ: