ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

উড়োজাহাজ লিজ না নিয়েই হজ ফ্লাইট শেষ করেছে বিমান

প্রকাশিত: ০৫:২২, ১৮ অক্টোবর ২০১৬

উড়োজাহাজ লিজ না নিয়েই হজ ফ্লাইট শেষ করেছে  বিমান

আজাদ সুলায়মান ॥ কোন উড়োজাহাজ লিজ না নিয়ে নিজস্ব বহর দিয়েই হজ ফ্লাইট শেষ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এতে এবারের হজে আর্থিকভাবে বিপুল সাশ্রয়ী হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিমান ব্যবস্থাপনার শীর্ষ কর্মকর্তারা একের পর এক নানা সঙ্কট মোকাবেলা করেই এবারের হজ মিশন শেষ করেছে। সোমবার বিকেল তিনটায় ক্যাপ্টেন শেখ নাসিরউদ্দিন বোয়িং-৭৭৭ যোগে তিনশত হাজী নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করেন। এ নিয়ে মোট ৪৮ হাজার ২১২ জন হাজী দেশে ফিরিয়ে এনেছে বিমান। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন এম মোসাদ্দিক আহমেদ মনে করেনÑ এটা তার একক কোন ক্যারিশমা বা অবদান নয়। এটা বিমানের টপ টু বটম প্রতিটি কর্মীর পেশাদারিত্বের ফসল। এ বছর বিমান কোন ধরনের বড় উড়োজাহাজ লিজ না নিয়েই এত বড় চ্যালেঞ্জ উতরে গেছে। যেটা ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নিজস্ব সিডিউল ঠিক রেখে অর্ধ লক্ষ হজযাত্রী বহন করাটা যে আদৌ সহজ ও স্বাভাবিক হবে না- সেটা উপলব্ধি করেই বিমান একটি বড় উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রও আহ্বান করে। কাবো নামের একটি এয়ারলাইন্স তাতে অংশ নিয়ে কার্যাদেশও পেয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কাবো দরপত্রে উল্লেখিত শর্ত মোতাবেক বোয়িং ৭৪৭ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়। তখন বিমান অর্ধ লাখ হজযাত্রী বহন নিয়ে চরম সংশয় ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাবোর জাহাজের অপেক্ষায় ছিল বিমান। কিছুতেই না পেয়ে সিডিউলে থাকা ৪টি বোয়িং ৭৭৭ হজের জন্য ডেডিকেটেড করে। এতে সিডিউল ফ্লাইটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য জরুরী ভিত্তিতে মঙ্গোলিয়া থেকে একটি ছোট বহরের বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ লিজে আনে দুমাসের জন্য। এভাবে সাড়ে ৪৮ হাজার হজযাত্রী বহন করে বিমান। নিজস্ব কোটা বাকি হাজার দেড়েক হজযাত্রী শ্লটের অভাবে বহন করতে না পারায় আলোচনা সাপেক্ষে উভয়পক্ষের সম্মতিতে বহন করে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স। উল্লেখ্য, এই দেড় হাজার বাদে এ বছর মোট ১ লাখ ১ হাজার ৭শ’ হজযাত্রী সমান হারে বহন করে বিমান ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্স। তার মধ্যে মোট ১১২টি ডেডিকেডেট ও ৩২টি সিডিউল ফ্লাইটে সব হজযাত্রী আনা নেয়া করেছে বিমান। এদিকে বিমান এই দেড় হাজার হজযাত্রী বহন করতে না পারার জন্য দায়ী করেছে বেসরকারী হজ এজেন্সিজ অব বাংলাদেশকে (হাব)। বিমান থেকে অগ্রিম টিকেট বুকিং দিয়ে সিডিউল মোতাবেক হজযাত্রী সরবরাহ করেনি। এতে হাবের রিপ্লেসমেন্ট বাণিজ্যের কারণে একের পর এক বিমানের শ্লট বাতিল করতে হয়েছে। যে কারণে বিমান আগাম প্রস্তুত নিয়ে হাবের অসাধু বাণিজ্যের দরুন চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এক পর্যায়ে শেষের দিকে হাজার তিনেক হজযাত্রী নিয়ে বেকায়দায় পড়ে বিমান। এ সম্পর্কে বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, হজ ফ্লাইট শেষ হবার সপ্তাহ খানেক আগে বিমানের শ্লট সঙ্কট দেখা দেয়। হাব হাজী সরবরাহ না করায় বিমানকে হজের আগে ২০টি ও পরে ৪টি শ্লট বাতিল করতে হয়।