বুধবার ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সুসংবাদ, বিসিবির সাফল্য ॥ যথাসময়েই বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড

  • টুইটার বার্তায় ইসিবি জানায়, ‘আমরা নিশ্চিত করতে পারি ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর পরিকল্পনা ;###;মতোই এগিয়ে যাবে’

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সব অনিশ্চয়তা অবশেষে দূর হয়ে গেল। এক নিমিষেই বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়ে নেতিবাচক সব ধারণা দূর হয়ে গেল। সবকিছুই ইতিবাচক হয়ে গেল। এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সুসংবাদও মিলল। সব জল্পনা-কল্পনা দূর করে দিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। যথাসময়েই ৩০ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড দল ঢাকায় আসবে। ইংল্যান্ড এ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) থেকেই এমনটি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সফরে আসার বিষয়ে সবুজ সঙ্কেতই দিয়েছে ইসিবি। ইসিবির ক্রিকেট পরিচালক এ্যান্ড্রু স্ট্রস বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর পরিকল্পনা মতোই এগিয়ে যাবে।’

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইসিবির টুইটের মাধ্যমে দেয়া এ সংবাদে বিসিবির কর্মকর্তা, ক্রিকেটার, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্ত, সমর্থক ও সাংবাদিকরা যে এ সিরিজের নিশ্চিত সংবাদ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তার সমাপ্তিও ঘটল। সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলছেন। ইসিবির এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে ইসিবির কূটনৈতিক তৎপরতার সাফল্যও মিলেছে। তবে এটাও ঠিক, আগামী একমাস ধরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ভালভাবেই পরখ করবে ইসিবি। স্ট্রসই যেমন জানান, বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এ পর্যবেক্ষণ সিরিজের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তার মানে শুধু সেপ্টেম্বর নয়, অক্টোবর জুড়েই নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবে ইসিবি। অবস্থা বর্তমান সময়ের মতো থাকলে আর কোন সমস্যাই থাকবে না। নয়ত আবারও বেঁকে বসতে পারে ইসিবি।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুব ছোট্ট করেই টুইটারে বার্তা দেয় ইসিবি। সেই বার্তাতেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনে। ইসিবি টুইটে লেখে, ‘আমরা নিশ্চিত করতে পারি ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর পরিকল্পনা মতোই এগিয়ে যাবে। আরও বিস্তারিত বিবৃতি পরে জানানো হবে।’

এরপর ইসিবির পক্ষ থেকে সাবেক অধিনায়ক স্ট্রস একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে থাকে, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর এগিয়ে যাবে। খেলোয়াড় ও দলের কর্মীদের নিরাপত্তা সব সময়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা এই সফরের ঝুঁকি সম্ভাব্যত সম্পর্কে একেবারে বিস্তারিত জানতে পেরেছি। বর্তমান পরিস্থিতিও বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে আমাদের কী কী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। আমাদের যে পরামর্শ ও সমর্থন দেয়া হয়েছে তাতে ইসিবি ও পিসিএর (প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স এ্যাসোসিয়েশন) পূর্ণ আস্থা আছে।’

স্ট্রস বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘আমরা আজকে (বৃহস্পতিবার) একেবারে উন্মুক্ত আলোচনায় খেলোয়াড় ও দলের কর্মীদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছি। তাঁরা অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন। সামনে আরও কিছুই জানতে চাইবেন। পূর্ণ নিশ্চয়তা তারা পেতে চান এটা আমরা বুঝি। আমাদের গ্রীষ্ম মৌসুমের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো হলেই এই সফরের দল ঘোষণা করা হবে।’ স্ট্রস খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করার জন্য আরও বলেন, ‘আমরা পুরো পরিস্থিতির ওপর চোখ রাখছি। এখন থেকে পুরো সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত চোখ রাখব।’

৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পা রাখবে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেট দল। শুরুতে যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হবে। ৩ অক্টোবর ফতুল্লায় একটি একদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেই ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে দিয়ে সিরিজ খেলতে নামবে ইংল্যান্ড। সিরিজের বাকি দুটি ওয়ানডে হবে ৯ ও ১২ অক্টোবর। সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। তৃতীয় ওয়ানডেটি হবে চট্টগ্রামে। এরপর ১৪-১৫ ও ১৬-১৭ অক্টোবর দুই দিনের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। ম্যাচগুলো চট্টগ্রামেই হবে। এ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মিশন শুরু করবে ইংল্যান্ড। চট্টগ্রামেই ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে ইংল্যান্ড। ২৮ অক্টোবর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে। ৩২ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসবে ইংলিশরা।

জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সেই শঙ্কা আপাতত কেটে গেল। এর আগে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর করেনি। তাই জুলাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়েও দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। সেই অনিশ্চয়তা কাটল।

ইসিবির নিরাপত্তা পরামর্শক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রেগ ডিকাসন, পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ডেভিড লেথারডেল ও ইসিবির ক্রিকেট পরিচালনা পরিচালক জন কার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও হোটেল দেখেন। তিন সদস্যের ওই প্রতিনিধিদল চারদিনের বাংলাদেশ সফর শেষে বাংলাদেশ ছাড়ে ২০ আগস্ট। প্রতিনিধিরা চলে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই ইংলিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের এক রিপোর্টে আবারও সফর নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। যে পথে স্টেডিয়ামগুলোতে যাবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল, সেই পথ নিয়ে সমস্যার কথা বলা হয় টেলিগ্রাফের রিপোর্টে। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার যে ধরনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাতে আসন্ন সফর নিরাপদ হবে বলে ইসিবিকে জানায় নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল।

বৃহস্পতিবার রাতে এক সভায় ডিকাসন বাংলাদেশ সরকারের নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক এ্যালিস্টার কুক, ওয়ানডে ও টি২০ অধিনায়ক ইয়ন মরগানসহ ক্রিকেটারদের বিস্তারিত জানান। সেখানে ইসিবির ক্রিকেট পরিচালক স্ট্রস, ইসিবির প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেভিড লেথারডেল ও জন কারও। নিরাপত্তা প্রতিনিধি দলের দেয়া রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়েছেন সবাই। আর তাই যথাসময়ে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ইংল্যান্ড।

শীর্ষ সংবাদ:
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন, কেউ ভোটের অধিকার কেড়ে নেবে না : প্রধানমন্ত্রী         সিলেটে বন্যায় পানিবন্দি ১৫ লাখ মানুষ         বন্যায় সিলেটবাসীকে সহযোগিতা দেয়া হবে         আগামী ৩১ মে হজ ফ্লাইট শুরু নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা         নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে : শিল্পমন্ত্রী         হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়লো         আগামী ৫ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু         বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বাতিল         বন্যার্তদের পাশে রয়েছে সরকার ॥ ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী         নতুন সচিব ৮ মন্ত্রণালয়ে         বিদ্যুতের দাম ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ         ‘নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার জন্য দায়ী আন্তর্জাতিক বাজার’         বঙ্গবন্ধু টানেলের টোল আদায় করবে চায়না কমিউনিকেশনস         খোলা বাজারে ডলারের দাম আজ ৯৯ টাকা         ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী রোজেন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন কমান্ড গ্রেফতার         দেশে আরও ২২ জনের করোনা শনাক্ত         করোনা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী         দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই ॥ খাদ্যমন্ত্রী         ১৯৮২ সালের পর যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি