শনিবার ৯ মাঘ ১৪২৮, ২২ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে

রহিম শেখ ॥ রিজার্ভ জালিয়াতির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে বাংলাদেশ ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত যে, টাকা চুরির ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছে ‘ব্যাক অফিস অব দ্য ডিলিং রুম’ শাখাতে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই বিভাগের ১২ কর্মকর্তাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গত এক বছরে তারা কী কী ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেছেন, দেশে-বিদেশে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদের মধ্যে চারজনের ইউজার আইডি ও সুইফট কোড হ্যাক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা। রিজার্ভের অর্থ চুরি ও পাচারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে কোন ত্রুটি ছিল কি-না সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। মঙ্গলবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। এদিন বিকেলে সরকারের তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির। রিজার্ভের টাকা চুরি হওয়ার পর সে টাকা কোথায় এবং কার কাছে গেছে, সেটা থেকেই দেশী-বিদেশী অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এদিকে ফিলিপিন্সের সেই রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) শাখা ব্যবস্থাপককে অবশেষে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

দেশী-বিদেশী অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে সিআইডি ॥ রিজার্ভের টাকা চুরি হওয়ার পর সে টাকা কোথায় এবং কার কাছে গেছে, সেটা থেকেই দেশী-বিদেশী অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে সিআইডি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক মিটিং শেষে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ আলম তদন্তের বিষয়ে এ কথা জানান। শাহ আলম বলেন, আমাদের আলোচনা বিশেষ করে আইটি ফরেনসিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে। যার মাধ্যমে ঘটনা ঘটেছে তাকে আমরা বের করার চেষ্টা করছি। টাকা ট্র্যাক করে মূল হোতাকে বের করার চেষ্টা করছি। অপরাধীদের দেশী বা বিদেশী লিংকগুলো কিভাবে চিহ্নিত করা যায় সে বিষয়ে কাজ করছি। তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের বিষয়ে কিছু জানানোর মতো সময় একেবারেই হয়নি। তবে টাকার লিংক ধরেই দেশী বা বিদেশী কারা জড়িত সেটা বের করার জন্য কাজ করছি। এর আগে ডিআইজি সাইফুল আলমের নেতৃত্বে সিআইডির কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ প্রসঙ্গে সাইফুল আলম বলেন, আমরা কী কাজ করছি এবং ভবিষ্যতে কোন্ জায়গায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঈ ধরনের সহযোগিতা আমাদের দরকার সে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি। এদিকে রিজার্ভের টাকা চুরির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাবেক গবর্নর ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে গবর্নর ফজলে কবির, সিআইডির ডিআইজি সাইফুল আলম ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফিলিপিন্সের আরসিবিসির দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত ॥ ফিলিপিন্সের সেই রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) শাখা ব্যবস্থাপকসহ আরও এক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ১০১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ব্যাংকটির জুপিটার শাখায় এসেছিল এবং টাকাগুলো ওই শাখা ব্যবস্থাপকের তত্ত্বাবধানেই চারটি এ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে তা ক্যাসিনো হয়ে চলে যায় হংকংয়ে। মঙ্গলবার ওই শাখা ব্যবস্থাপক মাইয়া সান্তোস দেগুইতো ও তার ডেপুটি আঙ্গেলা তোরেসকে বরখাস্ত করার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে দেশটির ইংরেজী দৈনিক ইনকোয়ারার।

রিজার্ভ চুরির কথা অস্বীকার ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংকের ॥ ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি কেলেঙ্কারিতে আরসিবিসি ব্যাংকের পাশাপাশি ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংকও জড়িত থাকতে পারে- এমন গুঞ্জন ওঠার পর ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলছেন, কোন ধরনের অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত নয় তারা। অভিযোগ উঠেছে, মায়া দেগুইতো যে ভুয়া এ্যাকাউন্টগুলো খুলেছিলেন সেখান থেকে অর্থ উত্তোলনে সাহায্য করেছেন ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা, যারা আগে আরসিবিসিতে কর্মরত ছিলেন। এর আগে মায়া দেগুইতোও ইস্ট ওয়েস্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। এদিকে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে ফিলিপিন্সে বিদেশী বিনিয়োগ কমার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাচার কেলেঙ্কারির কারণে দেশটিতে বিদেশী বিনিয়োগ কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৮১ লাখ ডলার ঘুষ চেয়েছিলেন উইলিয়াম সো গো ॥ মুখ বন্ধ রাখতে ৮১ লাখ ডলার ঘুষ চেয়েছিলেন অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িত সন্দেহভাজন উইলিয়াম সো গো। রুদ্ধদ্বার শুনানিতে ফিলিপিন্সের সিনেটরদের এ কথা বলেছেন মায়া সান্তোষ দেগুইতো। এক সাক্ষাতকারে সিনেটর তেওফিস্তো গুইনগোনা বলেন, ‘দেগুইতো বলেছেন, ৮১ মিলিয়ন ডলারের ১০ ভাগ (৮১ লাখ ডলার) তার কাছে চেয়েছিল গো।’ গোর আইনজীবী র‌্যামন এসগুয়েরা পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, দেগুইতোই তাকে ১০ মিলিয়ন পেসো দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফিলিপিন্সের সংবাদ পোর্টাল র‌্যাপলারকে এ কথা বলেন র‌্যামন এসগুয়েরা।

শীর্ষ সংবাদ:
সাকিবের হাসিতে শুরু বিপিএল         ফের বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ॥ করোনার লাগাম টানতে পাঁচ জরুরী নির্দেশনা         বাবার সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার পাবেন হিন্দু নারীরা ॥ ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট         উচ্চারণ বিভ্রাটে...         বাণিজ্যমেলার ভাগ্য নির্ধারণে জরুরী সিদ্ধান্ত কাল         আলোচনায় এলেও আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা         ‘আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টি ভালো নেই’         করোনা ভাইরাসে আরও ১২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৪৩৪         ‘১৫ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু’         ঢাবির হল খোলা, ক্লাস চলবে অনলাইনে         করোনারোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ জরুরি নির্দেশনা         আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ স্কুল-কলেজ         ভরা মৌসুমে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি         মাদারীপুরে সেতুর পিলারে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, ২ শিক্ষার্থী নিহত         বিপিএম-পিপিএম পাচ্ছেন পুলিশের ২৩০ সদস্য         অভিনেত্রী শিমু হত্যা : ফরহাদ আসার পরেই খুন করা হয়         দিনাজপুরে মাদক মামলায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য গ্রেফতার         শাবিপ্রবিতে গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল         ঘানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৫শ’ ভবন ধস, নিহত ১৭         করোনায় রেকর্ড সাড়ে ৩৫ লাখ শনাক্ত, মৃত্যু ৯ হাজার