ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

স্বর্ণখরার অবসান ঘটাতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৫:৪২, ৩০ জানুয়ারি ২০১৬

স্বর্ণখরার অবসান ঘটাতে চায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নদীমাতৃক বাংলাদেশ। অথচ বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছেÑ ২০১০ এসএ গেমসে স্বাগতিক বাংলাদেশ যে ১৮টি স্বর্ণ জিতেছিল তার একটিও আসেনি সাঁতার ইভেন্ট থেকে! এই ব্যর্থতা যেন এবার আবারও না ঘটে সেদিকে সতর্ক বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন দ্বাদশ এসএ গেমসকে সামনে রেখে পুরোদমে চলছে বাংলাদেশ জাতীয় সাঁতার দলের প্রস্তুতি। মিরপুরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে দুই সেশনে চলা প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট দেশের সাঁতারুরা। জানিয়েছেন, গত আসরে ঘরের মাঠের স্বর্ণ জিততে না পারার আক্ষেপ এবার পূরণ করতে চান তারা। তাছাড়া, বিদেশী কোচের অধীনে ৫ মাসের অনুশীলনে নিজেদের উন্নতির জায়গাগুলো আরও মজবুত হয়েছে বলে দাবি তাদের। ১৯৮৪, ১৯৯৯ ও সর্বশেষ ২০১০। এই তিনটি আসর বাদে বাকি ৮ আসরেই সাঁতারে স্বর্ণ আছে বাংলাদেশের। ১৯৮৫ সালে ঘরের মাঠে হওয়া দ্বিতীয় আসরে সবচেয়ে বেশি ৬টি স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলার সাঁতারুরা। কিন্তু এরপরের আসরগুলোতে সেই সংখ্যা দুই কিংবা একের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। আর ২০১০ এ সর্বশেষ আসরটি ঘরের মাটিতে হলেও সোনাবঞ্চিত ছিল সাগর-নাজমারা। তাই এবারের আসরটিকে স্বর্ণজয়ের আক্ষেপ ঘোঁচানোর মঞ্চ হিসেবেই দেখছেন তারা। দক্ষিণ কোরিয়ান অভিজ্ঞ কোচ পার্কের অধীনে দীর্ঘ ৫ মাসের অনুশীলনকে বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন দলে থাকা ২০ সাঁতারু। সেই সঙ্গে দলের বেশ ক’জন সাঁতারুই পেয়েছেন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত প্রশিক্ষণ। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে না পারায় প্রস্তুতিতে থেকে যাচ্ছে কিছুটা ঘাটতি। কিন্তু তারপরও সাঁতারুদের কণ্ঠে আশার সুর। তারা জানিয়েছেন, ব্রেস্টস্ট্রোক, ব্যাকস্ট্রোক ও বাটারফ্লাই ইভেন্টে স্বর্ণজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তারা। এবারের আসরটি ভারতের শিলংয়ে বলেই কিনা কন্ডিশনের বিষয়টি সামনে আসছে বারবার। তবে সেই বিষয়ে সতর্ক কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন দলে কোন ইনজুরি নেই। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মেজাজে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথা মানছেন কর্মকর্তারাও। এ প্রসঙ্গে সাঁতার কোচ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আজ থেকে পাঁচ বছর আগে সর্বশেষ এসএ গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে বাকি দেশগুলো যতটা এগিয়েছে, ততটা এগুতে আমরা পারিনি। এই পাঁচ বছরের গ্যাপ আমরা পাঁচ মাসের মধ্যে পূরণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমরা আশাবাদী, স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি হলেও আমরা এবারের এসএ গেমসে একাধিক স্বর্ণপদক জিততে সক্ষম হবো।’ উল্লেখ্য, এবারের আসরে সাঁতারের মোট ৩৮ ইভেন্টের সবগুলোতেই অংশ নেবে বাংলাদেশ।