ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

সমতা- সিরিজ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ

প্রকাশিত: ০৭:২৬, ২৩ জানুয়ারি ২০১৬

সমতা- সিরিজ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ

মোঃ মামুন রশীদ ॥ দুই দলই পরীক্ষা হিসেবে নিয়েছিল এবারের সিরিজটি। সেই পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জয়টা কিন্তু জিম্বাবুইয়েরই হলো। টানা দুই ম্যাচ হেরেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ করলো সফরকারীরা। শুক্রবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে চার ম্যাচ টি২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ১৮ রানে। উভয় দলের পরীক্ষা-নিরীক্ষাটা শেষ ম্যাচেও অব্যাহত ছিল, তিনটি করে পরিবর্তন এনেছিল উভয় দলই আগের ম্যাচে খেলা একাদশে। কিন্তু পরীক্ষায় বিফল বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে ৫ পরিবর্তন এনে আগেভাগে সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়, তাই শুক্রবার ‘আসল’ একাদশ নিয়েই নেমেছিল দল। কিন্তু জিম্বাবুইয়েকে ঠেকানো যায়নি, টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের দৈন্যদশার চিত্র আরেকবার হতাশাজনক ভাবেই ফুটে উঠলো। বছরের শুরুটা সিরিজ জয় হলো না। বাংলাদেশ দল সিরিজ না হারলেও নৈতিকভাবে সফরকারী জিম্বাবুইয়েই বিজয়ী। আগে ব্যাট করে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৯৩ রানের সুবাদে ৪ উইকেটে ১৮০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে জিম্বাবুইয়ে। জবাবে ১ ওভার বাকি থাকতেই ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাই ডুবিয়েছে এ ম্যাচে, আর জিম্বাবুইয়ের বোলাররা দাপট দেখিয়েছে। সিরিজ জিততে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশকে এখন আসন্ন টি২০ এশিয়া কাপ ও টি২০ বিশ্বকাপে ভঙ্গুর আত্মবিশ্বাস নিয়েই অবতীর্ণ হতে হবে জিম্বাবুইয়ের চেয়েও শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে। কোচ চান্দিকা হাতুরাসিংহের ফমুর্লা ব্যর্থ হয়েছে, নতুন করে ফর্মুলা তৈরিরও কোন সুযোগ নেই। কারণ আর কোন আন্তর্জাতিক টি২০ নেই এশিয়া কাপের আগে। পরীক্ষাটা শেষ ম্যাচেও থাকলো। তবে তৃতীয় ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিমাণটা বেশি হওয়ার খেসারত দিতে হয়েছিল হেরে। এ কারণে চতুর্থ ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ শহীদ ও মুক্তার আলীর পরিবর্তে এদিন একাদশে যোগ হন তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি। জিম্বাবুইয়ের অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরাকে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আরও দুটি পরিবর্তন আনে। আবারও টসে হেরে যান মাশরাফি বিন মর্তুজা। তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮৭ রানের বড় সংগ্রহ গড়া জিম্বাবুইয়ে এদিনও আগে ব্যাটিংয়ে নামে। তবে শুরুটা ভাল হয়নি তাদের। প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন মাশরাফি, পঞ্চম বলে ফিরিয়ে দেন ভুসি সিবান্দাকে (৪)। শুরুর সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি বাংলাদেশী বোলাররা। অবশ্য দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান রিচমন্ড মুতুম্বামিকে শিকার করার সুযোগ তৈরি করেও পারেননি আবু হায়দার। শর্ট ফাইন লেগে সহজ ক্যাচ ছাড়েন তাসকিন। তখন মুতুম্বামির রান ছিল মাত্র ১০। এটি কাল হয়েছে। পরে তাকে নিয়ে স্বাগতিক বোলারদের ওপর আগ্রাসন চালাতে থাকেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা অভিজ্ঞ হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। দ্বিতীয় উইকেটে ৮০ রানের বড় জুটি গড়েন এ দু’জন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি২০ ক্রিকেটে দ্বিতীয় উইকেটে এটিই জিম্বাবুইয়ের সেরা জুটি। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এ জুটিটা ভেঙ্গে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি আনেন তরুণ পেসার আবু হায়দার রনি। দারুণ এক ইয়র্কারে মুতুম্বামিকে (২৫ বলে ৩২) সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন। তবে ১০ ওভারেই ৮৪ রান তুলে আবারও বড় এক সংগ্রহের ভিত পেয়ে গেছে ততোক্ষণে জিম্বাবুইয়ে। সেটাকে আরও ভাল অবস্থানে নিয়ে যান মাসাকাদজা-ম্যালকম ওয়ালার। তৃতীয় উইকেটে এ জুটি ছিল আরও আক্রমণাত্মক। মাত্র ৫ ওভারেই এ জুটিতে আসে ৬১ রান। তৃতীয় উইকেটেও এ জুটি ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিম্বাবুইয়ের সেরা। মাত্র ৩৫ বলে ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি হাঁকান মাসাকাদজা। রান তোলার গতিপ্রকৃতি বলে দিচ্ছিল দু ’শ ছুঁয়ে ফেলবে জিম্বাবুইয়ে। কিন্তু ওয়ালার মাত্র ১৮ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় ৩৬ রান করার পর তাসকিনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর বাংলাদেশের বোলাররা যেন নিজেদের কিছুটা ফিরেই পায়। শেষ ৫ ওভারে আর মাত্র একটি উইকেট তুলে নিতে পারলেও ৩৫ রান দিয়েছেন বাংলাদেশী বোলাররা। জিম্বাবুইয়ের পক্ষে আগে এক ইনিংসে সর্বাধিক ৭৯ রান করা মাসাকাদজা এদিন নিজেকেই ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। অবশ্য ৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন। তিনি অপরাজিত থাকেন ৫৮ বলে ৯৩ রানে (৮ চার, ৫ ছক্কা)। ৪ উইকেটে ১৮০ রানের বড় সংগ্রহ পায় জিম্বাবুইয়ে। আগের ম্যাচে ব্যাটিং ডুবিয়েছিল বাংলাদেশকে। এবারও শুরুটা দারুণ বিপর্যয় দিয়েই হয়েছে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বিপদ নেমে আসে। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে সৌম্য সরকার (১১) ও শেষ বলে তামিমকে (২) শিকার করেন পেসার নেভিল মাদজিভা। পরের ওভারে বাংলাদেশকে চরম বিপদে ফেলেন বাঁহাতি স্পিনার তেন্ডাই চিসোরো। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাব্বির রহমানকে (১) ও চতুর্থ বলে সাকিব আল হাসানকে (৪) ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি স্পিনার তেন্ডাই চিসোরো। বিশাল সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে টপঅর্ডার ৪ ব্যাটসম্যানকে দলীয় মাত্র ১৭ রানের মধ্যেই হারিয়ে চরম লজ্জার শঙ্কায় পড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে সে সময় ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। টানা তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ এ মিডল অর্ডার এদিন শুরু থেকেই চড়াও হন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক পেয়ে যান তিনি। ৪১ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় তিনি ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তিনি যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন বাংলাদেশের জয় পাওয়ার স্বপ্নটাও বেঁচে ছিল। কিন্তু সেটা ভেঙ্গে দেন চিসোরো ফিরতি স্পেলে বোলিং করতে এসে। এরপর বাংলাদেশের যুদ্ধটা হয়েছে সম্মানজনক হারের। মাশরাফি মাত্র ১২ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২২ রান করে অবশ্য জমিয়ে তুলেছিলেন ম্যাচটি। কিন্তু তিনি ফিরে যাওয়ার পর আর বাকি পথটা পাড়ি দেয়া সম্ভব হয়নি। ১ ওভার বাকি থাকতেই ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। চিসোরো ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে মাত্র ১৭ রানে ৩টি এবং পেসার মাদজিভা ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৩৪ রানে ৪টি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশ ইনিংস মুড়িয়ে দেন।