ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, মুদ্রাবাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পড়তে শুরু করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।
এ অবস্থায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমির হোসেন নূরানী। একই সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এফবিসিসিআইয়ের সকল সাধারণ সদস্যকে (জিবি মেম্বার) তিনি ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আমির হোসেন নূরানী বলেন, ব্যাংকিং খাতে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকদের বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যবসায়ীদের দ্রুত নীতিগত সহায়তা না দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এফবিসিসিআই নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে রয়েছি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থে দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করা হউক। আয়রন এবং স্টিল খাতের এই উদ্যোক্তা জানান, ছাত্র- জনতার গণ অভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘ ১৭ বছর পর শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে দুই- তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হউন।
বিবৃতিতে আমির হোসেন নূরানী বলেন, নতুন সরকারের অধীনে একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ী সমাজ। শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ইতোমধ্যে বিএনপি সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। আশা করছি, জাতীয় বাজেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
আমির হোসেন নূরানী বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এফবিসিসিআই নির্বাচন না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অভিভাবক শূন্য অবস্থায় রয়েছে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বলার কেউ নাই তত্ত্ব পতাক সরকার বন্দর চাজ ও হ্যান্ডেলিং চার্জ একলা পেয়ে ১০ গুন বৃদ্ধি করেছেন। ব্যাংক সুদ ৯ থেকে পনের, কোন কোন ক্ষেত্রে ১৮% বৃদ্ধি করেছে এত উচ্চ ঋণ নিয়ে নতুন তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা তো দূরের কথা যারা বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের পক্ষেও ব্যবসা করা সম্ভব নয়। আমদানি পর্যায় উচ্চ ট্যারিফের ফলে ট্যাক্স অনেক বেড়ে গেছে। ভ্যাট এর হার এটি ৫ শতাংশ থেকে সাড়ে সাত পারসেন্ট করা হয়েছে যা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জা তিনগুণ বৃদ্ধি পেলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে ১০০ মার্জি পারসেন্ট মার্জিন দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে যা ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক কষ্টকর।
ডলার রেট ৮৪ টাকা থেকে ১২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে যা স্বাভাবিক করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন আগামী বাজেট যেন ব্যবসা-বান্ধব উপহার দেন তাহলে আমরা জাতিকে একটি সুন্দর সমৃদ্ধি শালী বাংলাদেশ গঠনে সহযোগিতা করতে পারবো।
তিনি বলেন, ইরান- ইসরায়েল- মার্কিন যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক এই সঙ্কট থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও। এজন্য সঙ্কট উত্তরণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নিজেকে আয়রন ও স্টিল খাতের উদ্যোক্তা দাবি করে তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন শিল্প, বৃহৎ শিল্পকারখানা ও নির্মাণ খাত সরাসরি ইস্পাতনির্ভর; ফলে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য অস্থিরতা, ডলার সংকট, উচ্চ সুদহার ও বন্দর জটিলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, এলসি খোলায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে ব্যয় কমবে এবং বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে আয়রন ও স্টিল খাতে চাহিদা বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর মনিটরিং জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
আমির হোসেন নূরানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সংস্কার, বাণিজ্য সহজীকরণ ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। তিনি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান, যাতে সরকার ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে পারে। সবশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আবারও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে ব্যবসায়ী সমাজ সরকারের পাশে থাকবে।
এম.কে








