ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একসময় মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার অন্যতম ভরসাস্থল ছিল এই কেন্দ্রটি।
কিন্তু বরাদ্দ সংকট, নজরদারির অভাব, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এটি এখন পরিত্যক্ত এবং জনমানবশূন্য ভবনে পরিণত হয়েছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ভবনের প্রতিটি দরজা ও জানালা ভেঙে পড়েছে বা চুরি হয়ে গেছে। ফ্রেম, কাঠ ও লোহার অংশ নেই। ভাঙা দেওয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে গেছে এবং ইট বেরিয়ে গেছে। ভবনের ভিতরে আগাছার জঙ্গল এমনভাবে উঠেছে যে, দূর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত ভুতুড়ে স্থাপনার মতো মনে হয়। ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, মেঝে জুড়ে প্লাস্টিক, ছেঁড়া কাগজ, ভাঙা কাচ, পশুর বিষ্ঠা, শুকনা পাতা এবং দীর্ঘদিন জমে থাকা ময়লার আস্তরণ। একটিও চেয়ার, টেবিল বা চিকিৎসার সরঞ্জাম নেই।
টয়লেটগুলো অকার্যকর, পানির লাইন নষ্ট, কোথাও নেই আলো বা নিরাপত্তা। স্থানীয় রানীগঞ্জ সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মনোরঞ্জন মোহন্ত ভুট্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের এই অবস্থা শুধু একটি পরিত্যক্ত ভবনের গল্প নয়, এটি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবনটি এক সময় সম্পূর্ণ ধসে পড়বে এবং জনগণের মূল্যবান একটি সেবা কেন্দ্র হারিয়ে যাবে।
স্থানীয় লোকজন জানান, রাত নামলেই ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। যা এলাকায় নতুন ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করছে। স্থানীয় নারী খোদেজা বেগম বলেন, এই কেন্দ্রটি চালু থাকলে গর্ভবতী মা, শিশুর চিকিৎসা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা হাতের নাগালেই পেতাম। এখন বহুদূরে উপজেলা হাসপাতালে যেতে হয়। সাধারণ মানুষের কষ্ট কেউ বুঝে না। স্থানীয়রা জানান, পরিত্যক্ত ভবনটি এখন এলাকায় উদ্বেগের নতুন কারণ। ভবনটি ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে, রাতে এখানে অসামাজিক কর্মকান্ড চলে, পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধ বেড়ে গেছে। শিশু-কিশোররা ঝুঁকিপূর্ণ অংশে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব ভবনটি সংস্কার করে পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা চালু করা।
সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন জানান, আমরা বহুবার উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে ভবন সংস্কারের আবেদন করেছি। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভবনটি এখন পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, উপযুক্ত সংস্কার, আসবাব, জনবল ও সরঞ্জাম পেলে কেন্দ্রটি আবার সচল করা সম্ভব। এলাকাবাসীর জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান মেহেদী হাসান জানান, আমরা কেন্দ্রটির জরাজীর্ণ অবস্থার ব্যাপারে অবগত। এ ধরনের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ মূলত হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এইচইডি) এর মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। তবে বরাদ্দ অনুমোদন ও নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ অবগত আছেন। আমরাও বারবার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
প্যানেল হু








