ছবি: সংগৃহীত।
মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে ঘুরতে আসা অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এক তরুণীকে লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে নেহাল আহমেদ জিহাদ নামের এক যুবকের নাম উঠে এসেছে, যিনি ভিডিওতে তরুণীকে নির্মমভাবে প্রহার করতে দেখা যায়।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা ৩০০-৪০০ তরুণ-তরুণী ‘এমভি ক্যাপ্টেন’ নামে একটি লঞ্চ ভাড়া করে পিকনিকের উদ্দেশ্যে বের হন। লঞ্চটি রাত সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছালে কিছু যাত্রী চা-নাস্তা খেতে ঘাটে নামেন। তখন স্থানীয়দের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ৫০-৬০ জন স্থানীয় লোকজন লঞ্চে উঠে হামলা চালায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই তরুণীকে লঞ্চের সামনের ডেকে নিয়ে আসা হয় এবং এক যুবক—যিনি পরবর্তীতে নেহাল আহমেদ জিহাদ নামে শনাক্ত হন—তাদের একজনকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করেন। আশেপাশে থাকা লোকজন উল্লাস করে এবং কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করে। হামলার সময় ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ভুক্তভোগীরা মারধরের পাশাপাশি লুটপাটের অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি। তিনি আরও জানান, "আমরা ঘটনার ভিডিও বিশ্লেষণ করে দোষীদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছি। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।"
এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শতাধিক লোকের সামনে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীকে এভাবে মারধরের সাহস কীভাবে সম্ভব হলো, আর স্থানীয় প্রশাসন কেন আগেই ব্যবস্থা নেয়নি।
নুসরাত








