ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১

ক্রেতা-বিক্রেতায় জমজমাট পশুর হাট

জনকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৩৮, ১৩ জুন ২০২৪

ক্রেতা-বিক্রেতায় জমজমাট পশুর হাট

রাজশাহীর সিটি হাটে ওঠা কোরবানির পশু

আর ক’দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উৎসব ঘিরে চলছে কোরবানির পশু বেচাকেনার হাট। কোরবানি দাতারা ঘুরে ঘুরে কিনছেন পছন্দের পশু। খামারি ও  বেপারিরা পশু নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন হাটে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের। 

পিরোজপুরে ক্রেতা সংকট 
ক্রেতা সংকটে ভুগছে পিরোজপুরের কোরবানির পশুর হাটগুলো। হাট ভর্তি লোক থাকলেও নেই ক্রেতা। দাম করে চলে যাচ্ছেন অনেকে। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশুর হাট জমতে শুরু করেছে। তবে কাক্সিক্ষত ক্রেতা ও দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ বিক্রেতাদের।

এমন চিত্র দেখা গেছে জেলার নাজিরপুর উপজেলার দীঘিরজান স্থায়ী পশুর হাট ঘুরে। দীঘিরজান হাট ঘুরে দেখা যায়, পিরোজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন  বেপারি ও খামারিরা। কোরবানির গরুতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে পুরো পশুর হাট। ছোট-বড় সব ধরনের কোরবানির পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায়  বিক্রেতারা। তবে ক্রেতা মিলছে না।

খাগড়াছড়িতে খুশি ক্রেতারা 
জেলার বিভিন্ন  কোরবানির  পশুরহাট বেশ জমে উঠেছে। ৫০ হাজার থেকে দুই  লাখ টাকার মধ্যে মিলছে কাক্সিক্ষত গরু। দাম নিয়ে অখুশি খামারি ও বিক্রেতারা তবে খুশি  ক্রেতারা।  প্রাকৃতিকভাবে গরু লালন-পালন হওয়ায় খাগড়াছড়ির কোরবানির গরুর চাহিদা সমতলেও। হাটগুলোতে  দেশের বিভিন্ন অঞ্চল  থেকে পাইকাররা আসছেন।

ক্রেতা- বিক্রেতায় মুখর খাগড়াছড়ি জেলার প্রতিটি হাটবাজার। এখানকার দেশী জাতের মাঝারি এবং ছোট আকৃতির গরুর চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী। তাই বাইরের ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে যাচ্ছে সমতলে।
খাগড়াছড়ির ৫২টি স্থানে রয়েছে কোরবানির পশুর হাট। ্এখানে  ছোট আকারের গরু ৫০ থেকে ৬০ হাজার,মাঝারি আকারের গরু ৬০ থেকে ৮০ হাজার এবং বড় গরু ১ থেকে ২ লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

নাটোরে জমে উঠেছে পশুর হাট
জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ঈদ সামনে রেখে নাটোর জেলায়  খামারি ও ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৫ লাখ কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পশু জেলার বিভিন্ন হাটে তোলা হচ্ছে। 
 জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর নাটোর জেলায় ১৮ হাজার ৪৫০টি খামারে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২২৭টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

গত মৌসুমে কোরবানির ঈদে ছিল ৫ লাখ ২০ হাজার ২৩৮টি পশু। এ বছর জেলায় ৯৪ হাজার ৬৫৮টি ষাঁড়, ১২ হাজার ৮৫৩টি বলদ, ১৪ হাজার ৩৩৫ টি গাভী, ২ হাজার ১৬৬টি মহিষ, ৩৪ হাজার ১৫০টি ভেড়া, ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৬টি ছাগল এবং গাড়ল-দুম্বাসহ অন্যান্য ২৯টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২২৭টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় কোরবানির চাহিদা পূরণ করেও উদ্বৃত্ত ২ লাখ ২৬ হাজার ১৮৫টি পশু সারাদেশে বিক্রির জন্য চলে যাবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা।

আমতলীতে চাহিদার বেশি পশু 
বাজারে চাহিদার তুলনায় গবাদিপশু বেশি ওঠায় দাম কম। এতে বাজারে গরু কম বিক্রি হচ্ছে। বিপাকে পড়েছে গরু ব্যবসায়ীরা।
আমতলী প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কোরবানির জন্য ৮ হাজার ৬শ’ ২৩ টি গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে এ উপজেলার ৮ হাজার ৯শ’ ৫ টি পশু আছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৭শ’ ৮৭ টি গরু, ৬শ’ ২১ টি মহিষ, ২ হাজার ৪শ’ ৯৭ টি ছাগল। চাহিদার তুলনায় ২শ’ ৯২ টি পশু বেশি রয়েছে। 
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাজমুল হক বলেন, উপজেলায় চাহিদার তুলনায় গবাদি পশু বেশি রয়েছে।  বাজারে গরু বেশি ওঠায় দাম কম।
  
কেন্দুয়ার হাটে ‘সাদা পাহাড়’
কেন্দুয়ার হাটে ওঠা বিশাল আকারের ষাঁড়টির নাম ‘সাদা পাহাড়‘। যার ওজন প্রায় ৩৮ মণ। মূল্য হাঁকা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। ৬ জন মানুষ প্রতিদিন গরুটিকে লালনপালন করেন। ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটির মালিক নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের আটিগ্রাম গ্রামের বুলবুল মিয়া।

বুলবুল জানান, আড়াই বছর আগে ৮ মাস বয়সী সাদা রঙের ফ্রিজিয়ান একটি বাছুর কিনে এনেছিলাম ৬৮ হাজার টাকা দিয়ে। তারপর থেকে গরুটিকে লালনপালন করি এবং শখ করে নাম রাখি সাদা পাহাড়। তাকে প্রতিদিন খাদ্য দিতে হয় এ্যাংকর, ভুট্টা,  ভুসি ইত্যাদি। এতে প্রতিদিন খরচ হয় ১ হাজার টাকার ওপর। আমরা স্বামী-স্ত্রী ও আমার ৪ ছেলে প্রতিদিন গরুটিকে যতœআত্তি করি।

চাটখিলে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু 
চাটখিলে কোরবানির জন্য চাহিদার চেয়ে অধিক গবাদি পশু রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় অ্যাগ্রো ফার্ম ও গৃহপালিত গবাদিপশু রয়েছে ১১হাজার ২১৩টি।  কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১১হাজার ২৪৫টি। এছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আনা গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এবছর চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে। ফলে পশুর দাম অন্য বছরের তুলনায় এবার অনেকটা কম বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা মনে করছেন।

নারায়ণগঞ্জে পশু বিক্রি শুরু
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাঁচটি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৯০টি কোরবানির পশুর হাট বসেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরুর পাইকাররা পশু নিয়ে বিভিন্ন হাটে উঠেছেন। দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত গরুর পাইকাররা নদীপথে ও সড়কপথে কোরবানির পশু নিয়ে অস্থায়ী ও স্থায়ী হাটে উঠেছেন।

ঈদুল আজহার আর মাত্র তিনদিন বাকি। শুরু হয়েছে কোরবানি পশু বেচা-কেনা। যা চলবে ঈদের আগের দিন রাত পর্যন্ত। শহর ছাড়া বাইরের কোরবানি পশুর হাটগুলো এখন বেশ জমে উঠেছে। তবে শহরের হাটগুলো বৃহস্পতিবার থেকে জমজমাট হয়ে উঠবে বলে জানান গরুর বেপারীরা।
জানা যায়, এবার নারায়ণগঞ্জের সদর, আড়াইহাজার, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও বন্দর উপজেলায় মোট ৭৬টি পশুর হাটের ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আরও ১৪টি হাটের ইজারা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। সব মিলিয়ে মোট ৯০টি হাট বসেছে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায়। ইতোমধ্যে হাটগুলোতে প্রচুর কোরবানি পশু উঠানো হয়েছে।

এখন চলছে কোরবানি পশু কেনা-বেচা। শহর এলাকার হাটের ইজারাদার ও গরুর বেপারীরা জানান, শহর এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে কোরবানি পশু বেচা-কেনা শুরু হবে।

ফেনীতে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি
ফেনীতে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট। প্রতিদিন হাজার হাজার পশু আসতে শুরু করেছে হাটগুলোতে। তবে দাম নিয়ে  রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এবার জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ১১৯টি পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ১৫টি স্থায়ী এবং ১১৩টি অস্থায়ী। পশুর হাটে আধিক্য রয়েছে দেশী গরুর। হাটে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। পছন্দের পশুর দর কষাকষি করে বেচাকেনা করছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। অন্যান্য বছরের তুলনায় গরুর দাম একটু বেশি মনে করছে ক্রেতারা।

ফটিকছড়িতে নজর কাড়ছে সাদা বাবু
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে জমে উঠেছে কোরবানির গরুর বাজার। এসব বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়া একটি গরু ক্রেতাদের নজর কেড়ে নিয়েছে। পরম যতেœ পালা এ গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘সাদাবাবু’। ৯ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার সাদাবাবু ধবধবে সাদা শরীরে কালো ছাপের একটি ষাঁড়।

এটির ওজন ১২ মণ বলে দাবি মালিকের। সাদাবাবুর জন্ম ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কুম্ভারপাড়া আমির খান চৌধুরীর বাড়িতে। ভালোবেসে গরুটির মালিক মোহাম্মদ এনাম চৌধুরী এই নাম রেখেছেন। পেশায় সার্ভেয়ার এনাম ও তার ছোট ভাই আক্কাস ২ বছর ৬ মাস ধরে ষাঁড়টি পালন করছেন।

তার দাবি, বর্তমানে এটিই উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর মধ্যে অন্যতম। প্রায় প্রতিদিনই আশপাশ এলাকার লোকজন এটিকে দেখতে আসছেন। মালিক এনাম চৌধুরী সাদাবাবুর দাম হেঁকেছেন ৭ লাখ টাকা।

মঠবাড়িয়ায় প্রাকৃতিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে পশু
মঠবাড়িয়ার প্রত্যন্ত এলাকার ছোট্ট একটি গ্রাম ছোট মাছুয়া। এখানেই গড়ে তুলেছেন হুমায়ূন কবিরের শখের খামার গাজী এগ্রো ফার্ম। নিজের জমানো কিছু টাকা দিয়ে ২০০০ সালে চারটি গরু কিনে শুরু করে তা এখন দাঁড়িয়েছে ২৬০টিতে। হুমায়ূন কবিরের চলার পথ সহজও ছিল না। শুরুর দিকে হোঁচট খেতে হয়েছে কয়েকবার।

কিন্তু তাতে সে হাল ছাড়েননি, পবিবারের সহযোগিতা ও পরামর্শে আবারও তিনি শুরু করেছেন গরুর খামারের কাজ। এখন সফলতা তার তুঙ্গে। এ বছর কোরবানি উপলক্ষে বিক্রির জন্য তার খামারে গরু প্রস্তুত রয়েছে ১১০টি। আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি এ খামারটিতে রয়েছে ৩৫ জন যুবকের কর্মসংস্থান। তারা সার্বক্ষণিক খামারের যতœ নেন।

গরুর খাবার ও খড়কুটো কাটার জন্য রয়েছে আধুনিক দুটি মেশিন।
খামারের ইনচার্জ শরিফুল আলম নান্নু জানান, এখানে যে গরু আছে সেগুলো মোটাতাজাকরণের জন্য কোনোপ্রকার ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। শুধু দানাদার যুক্ত খাবার দেওয়া হয়। 

চাটমোহরে দাম চড়া
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চাটমোহরসহ চলনবিলাঞ্চলের ছোট-বড় পশুর হাট জমে উঠেছে। ঈদকে টার্গেট করে পশুর হাটগুলোতে গরু-ছাগলে ভরে গেছে। বুধবার সরেজমিনে চাটমোহর নতুন বাজার পশুর হাটে দেখা যায় ছোট-বড় ষাঁড় শাহিওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুতে পরিপূর্ণ হাট। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমও বিপুল।

হাটে পশুর আমদানিও হয়েছে প্রচুর। তবে বড় সাইজের পশুর দাম অনুযায়ী ছোটগুলোর দাম একটু বেশি। সাধারণ ক্রেতাদের ছোট গরুই বেশি পছন্দ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও উপজেলার শরৎগঞ্জ, চাটমোহর রেলবাজার হাট, ছাইকোলা হাটে দেখা গেছে আমদানি হয়েছে ছোট-বড় দেশী কয়েক প্রজাতির গরু ও ছাগল। স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরাও হাটে নিয়ে আসছেন তাদের গরু-ছাগল।

আমদানি বেশি হলেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির গরুর দাম চড়া হয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। উপজেলার ছাইকোলা থেকে আসা গরু বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, সরিষার খৈল, ছোলার ভুসি, খেসারি, মাষকালাইয়ের ভুসি, ধানের গুঁড়াসহ অন্য সব গো-খাদ্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জে ক্রেতা কম
কোরবানির ঈদের আর মাত্র ক’দিন বাকি। ইতোমধ্যেই সিরাজগঞ্জে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। জেলার ৯ উপজেলায় এ বছর অনুমোদিত ৫৭টি পশুর  হাটে বেচাবিক্রিও জমে উঠেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর পশুর আমদানি বেশি। কিন্তু ক্রেতা কম।  ১৫ মণের বেশি ওজনের পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা বেসামাল।

এসব পশুর ক্রেতা কম থাকায় পশুর মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। মঙ্গলবার ও বুধবার জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি  হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে সারি সারি বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা রয়েছে কোরবানির পশু। গরুর দরদাম নিয়ে হাঁকডাক করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

চান্দাইকোনা হাটে গরুর ক্রেতা আকতার হোসেন বলেন, আমাদের অনেকের গরু রাখার জন্য বাসাবাড়িতে জায়গা থাকে না। তাই প্রতিবছর ঈদের দু/তিন দিন আগেই কোরবানির পশু কিনে থাকি।  অপর ক্রেতা সদর উপজেলার আব্দুল মমিন বলেন, গত বারের তুলনায় এবার হাটে বেশি পরিমাণে দেশি জাতের গরু উঠছে।

গরুগুলো দেখতেও খুব সুন্দর। তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওমর ফারুক বলেন, অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু হাটে ক্রয় -বিক্রয় যাতে না হয় তার প্রতি নজরদারি করা হচ্ছে। সে জন্য প্রত্যেক উপজেলায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালিত ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম তদারকি করছে।
 
পাহাড়ি গরুর চাহিদা বেশি রাঙ্গামাটিতে 
কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। শুরু হয়েছে কেনাবেচা। কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে পশু ব্যবসায়ীরা উপজেলা গুলো থেকে রাঙ্গামাটি শহরে  ট্রাক টার্মিনাল অস্থায়ী হাটে আনছে কোরবানির পশু। এখান থেকে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের। পার্বত্য চট্টগ্রাম গোচারণ ভূমির জন্য বিখ্যাত।

এখানে গ্রামে প্রতি কৃষকের নিকট গরু রয়েছে। তারা পাহাড়ে গুরু ছেড়ে দিয়ে লালন পালন করে থাকে। যার কারণে পাহাড়ি গরুর মাংসে চর্বি কম থাকে। এ জন্য সমতলের কোরবানিদাতাদের অন্যতম আকর্ষণীয় পাহাড়ি গরু। সমতলের ব্যবসাীয়রা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আগেভাগে দাদনের টাকা দিয়ে কোরবানির পশু ক্রয় করে রাখে। পাহাড়ি গরু চাহিদা বেশি তাকায় এর দামও একটু বেশি।

রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলায় গরুর হাট বসে। লংগদু, বরকল , বাঘাইছড়ি, জুরাইছড়ি, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী  সদর ও নানিয়ারচর থেকে ইঞ্জিন  বোট ভাড়া করে রাঙ্গামাটি শহরের গরুর হাটে গরু আনে।
 
বগুড়ায় বাড়তি হাসিল আদায় 
বগুড়ার কোরবানির পশুর হাটগুলো জমতে শুরু করেছে। বুধবার বগুড়ার সবচেয়ে বড় হাট মহাস্থানে প্রচুর পশুর আমদানি হয়। ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম ছিল লক্ষণীয়। তবে কোরবানির গরু ছাগলের দাম ছাপিয়ে অতিরিক্ত হাসিল বা কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনার চেয়ে খাজনা আদায় বেশি আলোচিত হয়।

মহাস্থান হাট ইজারদার কর্তৃপক্ষ ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের নিকট থেকে হাসিল আদায় করছেন। এই হাসিলের পরিমাণ সরকার নির্ধারিত অংকের দ্বিগুণ। এ নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা গেছে।
জেলার অন্যতম এই বৃহৎ কোরবানির পশুর হাটে বুধবার সকাল থেকেই হাটে কোরবানির পশু আসতে থাকে। দুপুর গড়ানোর আগেই গোটা হাটজুড়ে কোরবানির গরুতে একাকার হয়ে যায়। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আগমন বাড়তে শুরু করে। এবার হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর দাম ছিল বেশ চড়া।

বগুড়া জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে হাটে বিকেল পর্যন্ত অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চোখে পড়েনি।

×