ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

হাঁসের খামার পাল্টে দিয়েছে যুবকের ভাগ্য

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ১১ জুন ২০২৪

হাঁসের খামার পাল্টে দিয়েছে যুবকের ভাগ্য

হাঁসের খামার।

কুড়িগ্রামে ররাজার হাটে বাপ-বেটার পেকিং রাজহাঁস খামার এখন এলাকায় সাঁড়া ফেলে দিয়েছে। শুভ্র সাদা রঙের ঝকঝকে হাঁসগুলো যখন পাখনা মেলে পুকুরে ঝাঁকে ঝাঁকে ঘুড়ে বেড়ায় তখন মুগ্ধ চোখে হাসঁগুলো দেখেন এলাকাবাসী। 

খামারের মালিক আব্দুল আজিজ করোনাকালীন চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। তারপর সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করেন তিনি। অভাব তাকে যেন আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত পেকিং বা স্থানীয়ভাবে বলা বেলজিয়াম রাজহাঁস খামার গড়ে তুলে ভাগ্য ফেরোতে পেরেছেন তিনি। পিতা-পুত্র মিলে গড়ে তোলা খামারের নাম দিয়েছেন বাপ-বেটা খামার। এই খামারের নাম এখন সকলের মুখে মুখে।

আব্দুল আজিজ জানান, অনেক রকমের রাজ হাস পালন করেছি কিন্তু লোক সান ছাড়া লাভের মুখ দেখিনি। পরে স্থানীয় আর ডি আর এ সংগঠন থেকে পেকিং রাজ হাস পালন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পাই। তারাই প্রথম আমাকে৫০টি পেকিং রাজহাঁসের ছানা বিনা মূল্যে সরবরাহ করেন। বাপ-ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে অনেক পরিশ্রম করে এখন আমার খামারে ১৫২টি খাওয়ার উপযুক্ত রাজ হাস আছে। তারা ডিমও দিচ্ছে। 

এক হালি ডিম প্রায় দুশো টাকায় বিক্রি করছি। লোকজন ডিম কিনে নিয়ে প্রয়োজনীয়তা দিয়ে ২৮ দিনের মধ্যেই বাচ্চা পাচ্ছে। সেই ফুটে ওঠা বাচ্চা গুলোকে দুই থেকে আড়াই মাস খাবার দিলে খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। এ সময় তাদের ওজন আড়াই থেকে তিন কেজি হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রতিটি রাজ হাসের কেজি ৬শ’ টাকা করে। ফলে একটি রাজহাঁস কিনতে খরচ পরবে ১৫শ’ থেকে আঠারশ’ টাকা। 

আব্দুল আজিজের স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান, ঘর মেরামত করতে আমাদের দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া খাদ্য, ঔষধ, ভ্যাকসিন প্রয়োগে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাগে। আমরা এখন ডিম, বাচ্চা ও বড় হাস বিক্রি করতে পারছি। রাজ হাস পালনের জন্য বাড়ীর পিছনে ১৪ হাজার টাকায় তিন বছরের জন্য বিল বন্ধক নিয়েছি। সকালে খাবারের পরে হাঁসগুলোকে বিলে ছেড়ে দেয়া হয়। দুপুরের খেতে এসে আবার
ছড়ে দেয়া হয়। সূর্য ডোবার আগে আগে রাজ হাস গুলো একটা ডাক দিতেই খামারে চলে আসে।

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রতরহেদুল জানায়, করোনার পর বাবার চাকরি চলে যায়। তিনি হতাশ হয়ে বাড়িতে ফেরেন। তখন আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি। স্কুল ও বন্ধ হয়ে গেছে। তখন থেকে বাবার কাজে আমি সঙ্গি হয়ে যাই। তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে আজকে আমরা একটু সুখের মুখ দেখছি। খামারটি চালু হওয়ার পর পারিবারিক খরচ বাদে আমরা মাসে প্রায় পনের হাজার টাকার মতো আয় করছি। আমাদের ইচ্ছে খামারটাকে আরো বড় পরিসরে করার। 

রাজার হাট আর ডি আর এস’র টেকনিক্যাল অফিসার সৌরভ সরকার জানান, রাজার হাটে অনেক খামারী রাজ হাস পালন করছেন কিন্তু তারা আর্থিক ভাবে লাভ বান হচ্ছেন না। কারণ বাড়তি খাবার দেওয়ার পরও হাস গুলো সেভাবে বৃদ্ধি হয়না। সময়ও বেশি দিন লাগে। বিভিন্ন মড়কে রাজ হাস গুলো ক্ষতি হয়। 
সেদিক থেকে পেকিং রাজ হাসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। অল্প খাবারে দ্রুত বাড়ে। খেতেও অত্যন্ত সুস্বাদু। ফলে এই রাজ হাস পালনে খামারিরা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছেন।

আর ডি আর এস রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী বিদ্যুৎ কুমার সাহা জানান, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বল্প সময়ে বৃদ্ধি প্রাপ্ত ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন পেকিং রাজহাঁস পালন এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 
 

এসআর

×